নিউইয়র্কে লিজিওনেয়ার্স রোগের প্রাদুর্ভাব, পানির কুলিং টাওয়ার পরীক্ষা করছে কর্তৃপক্ষ
ট্রাম্পের স্বাক্ষর ছাড়াই কার্যকর হলো যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন আইন
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষর না করলেও যুক্তরাষ্ট্রে বহু আলোচিত '২১স্ট সেঞ্চুরি রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট' (21st Century Road to Housing Act) আইনে পরিণত হয়েছে। কংগ্রেসে অনুমোদনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শুক্রবার মধ্যরাত থেকে আইনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়।
আইনটি নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা একে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় আবাসন সংস্কার বিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রিপাবলিকানরাও এটিকে দেশের পরিবারের জন্য বড় অর্জন বলে দাবি করেছেন। এমনকি হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটও এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসন আইন বলে মন্তব্য করেছিলেন।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই বিলটির বিরোধিতা করেন। তিনি এটিকে "বড় ধরনের কোনো বিষয় নয়" বলে আখ্যা দেন এবং জানান, কংগ্রেস 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' (SAVE America Act) নামে ভোটার পরিচয় নিশ্চিত করার বিল পাস না করা পর্যন্ত তিনি আবাসন বিলে স্বাক্ষর করবেন না।
সেভ আমেরিকা অ্যাক্টে ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং ভোট দেওয়ার সময় ছবি-সংবলিত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে বিলটি বর্তমানে সিনেটে আটকে আছে।
শুক্রবারও ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, সিনেট সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস করতে ব্যর্থ হওয়ার প্রতিবাদ হিসেবে তিনি আবাসন বিলে স্বাক্ষর করবেন না।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিল প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছানোর পর ১০ দিনের মধ্যে তিনি যদি তাতে স্বাক্ষর বা ভেটো—কোনোটিই না দেন, তাহলে বিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনে পরিণত হয়। সেই সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী আইনটি কার্যকর হয়েছে।
কী রয়েছে নতুন আইনে?
আইনটির মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম নাগালের মধ্যে আনা এবং নতুন বাড়ি নির্মাণকে উৎসাহিত করা।
বিলে ৪০টিরও বেশি ধারা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ফেডারেল আইন করলেই আবাসন সংকটের দ্রুত সমাধান হবে না।
কারণ বাড়ি নির্মাণে স্থানীয় জোনিং আইন, নির্মাণ ব্যয়, শ্রমিক সংকট এবং বাজার পরিস্থিতির বড় প্রভাব রয়েছে। পাশাপাশি মর্টগেজ ঋণের সুদের হার এখনও তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের স্থায়ী সুদের গৃহঋণের গড় সুদের হার প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
এছাড়া নতুন বাড়ি নির্মাণ শুরু হলেও সেগুলো বাজারে আসতে কয়েক বছর সময় লাগবে। ফলে এই আইনের সুফলও ধীরে ধীরে দেখা যাবে।
ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং লেন্ডার্সের সভাপতি সারাহ ব্রান্ডেজ বলেন, আবাসনের ক্রমবর্ধমান সংকটের কারণে কংগ্রেসের আর নিষ্ক্রিয় থাকার সুযোগ ছিল না। তাঁর ভাষায়, স্থানীয় পর্যায়ে আরও সংস্কার প্রয়োজন হলেও এই আইন আবাসন সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন