কাজ করে, গাড়ি চালায়, করও দেয় কিশোরেরা, এবার ভোটাধিকার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ক্যালিফোর্নিয়ার এই শহর
ছবিঃ ফাইল ফুটেজ
কাজ করে, গাড়ি চালায়, আয় থেকে করও দেয় কিশোরেরা। স্থানীয় বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রভাবও পড়ে তাদের জীবনে। কিন্তু ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কি ভোট দেওয়ার অধিকার পাওয়া উচিত তাদের? যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি শহরে এবার এ প্রশ্নেরই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন ভোটাররা।
শহরটির নাম কালভার সিটি। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ‘মেজার ওয়াইভি’ নামে একটি প্রস্তাবের ওপর ভোট দেবেন বাসিন্দারা। প্রস্তাবটি পাস হলে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী যোগ্য তরুণেরা শহরের স্থানীয় নির্বাচন এবং স্কুল বোর্ডের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে তাঁরা কাউন্টি, অঙ্গরাজ্য বা জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না।
প্রস্তাবটির পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে ‘ভোট ১৬ কালভার সিটি’ নামের একটি শিক্ষার্থী সংগঠন। সংগঠনটির সদস্য ১৬ বছর বয়সী আরলো মেইগান-থিয়েল মনে করেন, তাঁর বয়সী তরুণেরাও স্থানীয় নির্বাচনে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পরিণত ও সচেতন। স্কুল বোর্ডে কারা প্রতিনিধিত্ব করবেন, সে সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদেরও অংশ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
সমর্থকদের যুক্তি, স্কুলের বাজেট, পার্ক, গণপরিবহন, জননিরাপত্তা ও আবাসনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সিদ্ধান্ত তরুণদের জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করে। অথচ এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ তাদের নেই। ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীরা কাজ করতে পারে, কর দিতে পারে, গাড়ি চালাতে পারে এবং কমিউনিটির নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারে। তাই স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকারও তাদের থাকা উচিত বলে মনে করেন সমর্থকেরা।
তবে প্রস্তাবটির বিরোধীরাও নিজেদের অবস্থানে অনড়। তাঁদের আশঙ্কা, অল্প বয়সী ভোটারদের রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। নির্বাচনে অংশ নিলে তরুণদের নাম, ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য রাজনৈতিক প্রচারকারীদের কাছে পৌঁছানোর বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন তাঁরা। এতে প্রার্থীরা কিশোরদের ওপর প্রচারণার চাপ তৈরি করতে পারেন বলে বিরোধীদের দাবি।
বিরোধীদের মধ্যে রয়েছেন কালভার সিটির কাউন্সিল সদস্য আলবার্ট ভেরা, সাবেক মেয়র গোরান এরিকসন এবং সাবেক মেয়র এড ওলকোভিৎস। তাঁদের মতে, ১৮ বছরকে ভোট দেওয়ার ন্যূনতম বয়স হিসেবে রাখা হলেও তরুণেরা প্রচারণায় অংশ নিতে, নিজেদের মতামত জানাতে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারে। ভোটাধিকার দেওয়ার জন্য বয়সসীমা কমানো জরুরি নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।
কালভার সিটিতে এ উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সালে একই ধরনের একটি প্রস্তাব ভোটে উঠেছিল। তখন মাত্র ১৬ ভোটের ব্যবধানে সেটি পাস হতে পারেনি। ওই নির্বাচনে প্রস্তাবটির পক্ষে ৮ হাজার ২৯৩টি ভোট পড়েছিল। ২০২৪ সালে একই উদ্দেশ্যে নাগরিকদের উদ্যোগে আরেকটি প্রস্তাব ব্যালটে তোলার চেষ্টা করা হলেও প্রয়োজনীয়সংখ্যক স্বাক্ষর সংগ্রহ করা যায়নি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিটি কাউন্সিল ৩-২ ভোটে নতুন প্রস্তাবটি নির্বাচনে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়।
এবারের প্রচারে অংশ নিচ্ছেন কালভার সিটি হাইস্কুলের ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আদিনা অস্টিনও। তিনি জানিয়েছেন, প্রথমে ভোট দেওয়ার বয়স কমানোর উদ্যোগ নিয়ে তাঁর সংশয় ছিল। কিন্তু সহপাঠীদের আলোচনা, তাঁদের আগ্রহ এবং বিষয়টি নিয়ে জানাশোনা দেখে তাঁর মত বদলে যায়। স্কুল বোর্ডের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত না হওয়ার অভিজ্ঞতাও তাঁকে এ উদ্যোগের পক্ষে কাজ করতে উৎসাহিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কয়েকটি শহরেও অপ্রাপ্তবয়স্কদের স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মেরিল্যান্ডের টাকোমা পার্ক ২০১৩ সালে প্রথম শহর হিসেবে স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বয়স ১৬ বছরে নামায়। ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলি ২০১৬ সালে স্কুল বোর্ডের নির্বাচনে এবং অকল্যান্ড ২০২০ সালে একই ধরনের অধিকার চালু করে। আলবানিতে ২০২৪ সালে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের সব ধরনের পৌর নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়ার পক্ষে ভোট পড়ে। তবে সেখানে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে।
কালভার সিটির প্রস্তাব পাস হলেও তা বাস্তবায়নের আগে শহর কর্তৃপক্ষ ও স্কুল বোর্ডকে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং নির্বাচন পরিচালনার প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ফলে ভোটারদের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি প্রস্তাবটি কার্যকর করার প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এবারের ভোটে মূল প্রশ্নটি হলো, স্থানীয় সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাবিত ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে কি না। সমর্থকেরা বলছেন, এতে তরুণদের নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। অন্যদিকে বিরোধীরা মনে করছেন, বয়সসীমা কমালে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। দুই পক্ষের যুক্তির মধ্যেই কালভার সিটির ভোটারদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন