কাজ করে, গাড়ি চালায়, করও দেয় কিশোরেরা, এবার ভোটাধিকার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ক্যালিফোর্নিয়ার এই শহর
হলিউড সাইনের পাশে বসবাস যেন দুর্ভোগ, পর্যটকদের ফেলে যাওয়া ময়লায় অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা
ছবিঃ ফাইল ফুটেজ
লস এঞ্জেলেসে বিখ্যাত হলিউড সাইনের আশপাশে বসবাসকারী মানুষ পর্যটকদের ভিড়, যানজট ও যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। প্রতিদিন জনপ্রিয় এই পর্যটনস্থল দেখতে আসা মানুষের ভিড়ে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তায় পার্ক করা গাড়ি, ফেলে যাওয়া ডায়াপার, প্লাস্টিকের বোতল এবং প্রস্রাবভর্তি বোতল এখন তাঁদের দৈনন্দিন দুর্ভোগের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হলিউড সাইন দেখতে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক লস এঞ্জেলেসের পাহাড়ি এলাকায় আসেন। অনেকে কাছ থেকে সাইনটির ছবি তুলতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার জন্য আশপাশের আবাসিক সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু পর্যটকদের এই আগ্রহের চাপ পড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর।
বাসিন্দাদের ভাষ্য, সরু রাস্তায় পর্যটকদের গাড়ি দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। এতে নিজেদের বাড়িতে যাতায়াত, গাড়ি বের করা এবং অতিথিদের আসা-যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক পর্যটক নির্ধারিত পার্কিংয়ের বাইরে গাড়ি রাখেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শুধু যানজট নয়, আবর্জনা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু পর্যটক খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য বর্জ্য রাস্তায় ফেলে চলে যান। কোথাও কোথাও ব্যবহৃত ডায়াপার এবং প্রস্রাবভর্তি বোতলও পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসব পরিষ্কার করার দায় শেষ পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর এসে পড়ে।
বাসিন্দাদের মতে, পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে হলিউড সাইনের গুরুত্ব তাঁরা বোঝেন। তবে একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানের কারণে আশপাশের মানুষকে প্রতিদিন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা মেনে নেওয়া কঠিন। তাঁদের অভিযোগ, পর্যটকদের সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আবাসিক এলাকার পরিবেশ ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং এবং আবর্জনা ফেলার সমস্যা নতুন নয়। জনপ্রিয় পর্যটন এলাকাগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা ও যান চলাচল ব্যবস্থার ওপর চাপও বাড়ে। হলিউড সাইনের আশপাশের বাসিন্দাদের বর্তমান অভিযোগ সেই সমস্যাকেই সামনে এনেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কর্তৃপক্ষ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটকদের আচরণ পর্যবেক্ষণে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেবে। এতে পর্যটকেরা বিখ্যাত স্থাপনাটি দেখতে পারবেন, পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দারাও নিজেদের এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন