অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন কিনতে লস এঞ্জেলেসে রাতভর অপেক্ষা, দাম প্রায় দুই হাজার ডলার
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন কিনতে লস এঞ্জেলেসে রাতভর অপেক্ষা, দাম প্রায় দুই হাজার ডলার
ছবিঃ ফাইল ফুটেজ
অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুও’ বাজারে আসার দিন শুক্রবার লস এঞ্জেলেসের বিভিন্ন অ্যাপল স্টোরের সামনে ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। নতুন এই ফোন কেনার আশায় কেউ কেউ রাতভর দোকানের বাইরে অপেক্ষা করেছেন। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ডিভাইসটির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনের বাজারে প্রবেশ করল অ্যাপল।
আইফোন ডুওর মূল আকর্ষণ এর পরিবর্তনযোগ্য আকার। ভাঁজ করা অবস্থায় ফোনটি ছোট ও সহজে পকেটে রাখা যায়। আবার খুললে এটি মিনি ট্যাবলেটের মতো বড় পর্দার ডিভাইসে পরিণত হয়। এর ডিসপ্লেতে ভাঁজের দাগ প্রায় চোখে পড়ে না বলে বর্ণনা করা হয়েছে। ফলে একই ডিভাইসে বহনযোগ্য ফোন ও বড় পর্দায় কাজ বা বিনোদনের সুবিধা পাওয়ার কথা।
শুক্রবার সকালে লস এঞ্জেলেসের আশপাশের একাধিক অ্যাপল স্টোরের সামনে ক্রেতাদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। পাসাডেনার অ্যাপল স্টোরের বাইরে সারি পুরো ব্লক ঘুরে গিয়েছিল বলে ভিডিওতে দেখা গেছে। দোকান খোলার আগেই সেখানে ক্রেতারা জড়ো হন। একই দৃশ্য ছিল লস এঞ্জেলেসের দ্য গ্রোভ শপিং এলাকার অ্যাপল স্টোর এবং সান্তা মনিকার থার্ড স্ট্রিট প্রোমেনেডের দোকানের সামনেও।
নতুন ফোনটির প্রতি আগ্রহ থাকলেও প্রথম দিনেই পর্যাপ্ত সংখ্যক ডিভাইস পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। সরবরাহ সীমিত থাকায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে লাইনে দাঁড়ানো অনেক ক্রেতাকে ফোন না পেয়েই ফিরে যাওয়ার আশঙ্কার মুখে পড়তে হয়। পাসাডেনায়ও কয়েকজন ক্রেতা রাতভর অপেক্ষা করেও শেষ পর্যন্ত ফোন হাতে পাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চিত ছিলেন।
লাইন ধরে অপেক্ষা করা এক ক্রেতা জানান, নতুন ফোনের বাজারে আসাকে ঘিরে মানুষের মধ্যে আলাদা উত্তেজনা অনুভব করা যাচ্ছে। তাঁর মতে, দোকানের সামনে অপেক্ষা করতে করতে সেখানে একধরনের সামষ্টিক আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নতুন প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী মানুষ একসঙ্গে জড়ো হওয়ায় অভিজ্ঞতাটি অনেকটা একটি ছোট সম্প্রদায়ের মিলনমেলার মতো মনে হচ্ছিল।
আরেক ক্রেতা জানান, তাঁরা অনলাইনে ফোনটি প্রি-অর্ডার করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সফল হননি। শেষ পর্যন্ত দোকানে এসে অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। অপেক্ষার সময়টিকে আনন্দময় করে তোলার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।
আইফোন ডুওর প্রারম্ভিক দাম দুই হাজার ডলারের সামান্য কম। অর্থাৎ, এটি অ্যাপলের উচ্চমূল্যের স্মার্টফোনগুলোর একটি। নতুন ভাঁজযোগ্য নকশা, বড় ডিসপ্লে এবং ফোন ও ট্যাবলেটের সুবিধা একসঙ্গে পাওয়ার সম্ভাবনা প্রযুক্তিপ্রেমীদের আগ্রহের অন্যতম কারণ।
অ্যাপলের জন্য এই উদ্বোধন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ প্রতিষ্ঠানটি এবার ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনের প্রতিযোগিতায় সরাসরি অংশ নিচ্ছে। এ ধরনের ফোনে ছোট আকারে বহন করার সুবিধা বজায় রেখেই বড় পর্দায় ভিডিও দেখা, পড়াশোনা, কাজ এবং অন্যান্য ডিজিটাল কার্যক্রম চালানোর সুযোগ থাকে।
তবে লঞ্চের দিন ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সীমিত থাকায় সবাই যে সহজেই ফোনটি কিনতে পারবেন, তা নিশ্চিত ছিল না। বিশেষ করে অনলাইনে প্রি-অর্ডার করতে না পারা ক্রেতাদের জন্য দোকানের সামনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করাই ছিল নতুন ডিভাইসটি পাওয়ার আরেকটি উপায়।
লস এঞ্জেলেসের বিভিন্ন অ্যাপল স্টোরের সামনে ক্রেতাদের এই ভিড় নতুন ফোনটির প্রতি আগ্রহের চিত্র তুলে ধরেছে। এখন দেখার বিষয়, বাজারে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইফোন ডুও কতটা জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারে এবং ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনের প্রতিযোগিতায় অ্যাপল কতটা এগিয়ে যায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন