অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন কিনতে লস এঞ্জেলেসে রাতভর অপেক্ষা, দাম প্রায় দুই হাজার ডলার
আলাস্কার সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান হারলে ফল ঘোষণা আটকে দিতে আদালতের দ্বারস্থ ট্রাম্প প্রশাসন
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে আসন্ন সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী হেরে গেলে ফলাফলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন আটকে দিতে মামলা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। একই নামের দুই প্রার্থীকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা তুলে ধরে দেশটির বিচার বিভাগ এ পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের মাত্র ১১ দিন আগে করা এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন পরিচালনা ও ফল অনুমোদনের ক্ষমতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
মামলার কেন্দ্রে রয়েছেন আলাস্কার বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মেরি পেলটোলা এবং ড্যানিয়েল জে. সুলিভান নামের আরেক প্রার্থী। রিপাবলিকানদের আশঙ্কা, একই রকম নামের কারণে ভোটাররা ভুল করে অন্য সুলিভানকে ভোট দিতে পারেন। এতে বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভানের ভোট কমে যেতে পারে এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী পেলটোলার জয়ের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
বিচার বিভাগের মামলায় বলা হয়েছে, ভোটারদের বিভ্রান্তির কারণে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত হয়ে থাকলে সেই ফল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা উচিত হবে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভোটারদের প্রকৃত অভিপ্রায় তদন্ত না করা পর্যন্ত ফল অনুমোদন বন্ধ রাখার আবেদন জানিয়েছে সরকার। তবে আদালত এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, বিচার বিভাগকে এই মামলা করার নির্দেশ তিনিই দিয়েছেন। ফ্লোরিডায় এক নির্বাচনী সমাবেশে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমিই বলেছি, এটা করতে।” আলাস্কার নির্বাচনে একই নামের দুই প্রার্থীর উপস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প এর আগেও অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর দাবি, এতে ভোটারদের বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে, ড্যানিয়েল জে. সুলিভান বলেছেন, তিনি নিজের সিদ্ধান্তেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি আলাস্কার পিটার্সবার্গ এলাকার একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। রিপাবলিকানদের অভিযোগ, তাঁর প্রার্থিতা বর্তমান সিনেটরের ভোট ভাগ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আলাস্কার আদালত এর আগে ড্যানিয়েল জে. সুলিভানকে ব্যালট থেকে বাদ দেওয়ার প্রচেষ্টা নাকচ করেছে। অঙ্গরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টও তাঁকে নির্বাচনে থাকার অনুমতি দিয়েছে। ব্যালটে দুই প্রার্থীর নামের সঙ্গে মধ্যনামের আদ্যক্ষর ব্যবহার করা হবে। বর্তমান সিনেটরকে রিপাবলিকান ও দায়িত্বে থাকা সিনেটর হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও অন্য সুলিভানের নামের পাশে কোনো দলীয় পরিচয় থাকবে না।
আলাস্কায় ভোট গণনার পদ্ধতিও এই বিরোধকে জটিল করে তুলেছে। সেখানে র্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এ পদ্ধতিতে ভোটাররা প্রার্থীদের পছন্দের ক্রমানুসারে সাজাতে পারেন। প্রথম পছন্দের ভোটে কোনো প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সবচেয়ে কম ভোট পাওয়া প্রার্থী বাদ পড়েন এবং তাঁর ভোট পরবর্তী পছন্দের প্রার্থীর কাছে যায়। এভাবে ধাপে ধাপে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়।
সরকারের আশঙ্কা, একই নামের দুই প্রার্থীর কারণে কেউ ভুল প্রার্থীকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিতে পারেন, আবার কেউ বর্তমান সিনেটরকে পছন্দের তালিকায় নাও রাখতে পারেন। এর ফলে ভোটের চূড়ান্ত হিসাব বদলে যেতে পারে বলে মামলায় যুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে এই পদ্ধতিতে ভোটাররা চাইলে দুই সুলিভানকেই পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন।
আগস্টের প্রাথমিক নির্বাচনে বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভান ৬৮ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়েছিলেন। অন্যদিকে, ড্যানিয়েল জে. সুলিভান পেয়েছিলেন ৪ হাজার ১০৭ ভোট। মেরি পেলটোলা প্রাথমিক নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পান। নভেম্বরের নির্বাচনে ড্যান সুলিভান ও পেলটোলার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে মামলাটির সমালোচনা করা হয়েছে। দলটির এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন রিপাবলিকান সিনেটর হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় ভোটারদের রায়কে চ্যালেঞ্জ করার পথ তৈরি করছে। অন্যদিকে, বিচার বিভাগ বলেছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ভোটের অখণ্ডতা রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মামলাটির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী অঙ্গরাজ্যগুলো নিজস্ব নির্বাচন পরিচালনার প্রধান দায়িত্ব পালন করে। কংগ্রেসের নির্ধারিত নিয়ম মেনে ফেডারেল নির্বাচন পরিচালিত হলেও ভোটের ফল অনুমোদন বন্ধ করার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের ক্ষমতা কতটা বিস্তৃত, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
নির্বাচনের ফল অনুমোদনের আগে ভোটারদের অভিপ্রায় কীভাবে নির্ভুলভাবে তদন্ত করা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গোপন ব্যালটের কারণে কোন ভোটার ভুল করে অন্য সুলিভানকে ভোট দিয়েছেন, তা নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে।
আলাস্কার এই মামলা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। ফলে সিনেট নির্বাচনের ফল আটকে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা শুধু আলাস্কাতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নির্বাচন পরিচালনা, ভোটারদের অধিকার এবং ফেডারেল সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন