দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, লস এঞ্জেলেসে বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে
ক্লাসরুমে বন্দুক নিয়ে শিক্ষার্থী, ক্যালিফোর্নিয়ার স্কুলে পুলিশের ব্যাপক অভিযান
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বেল গার্ডেন্স হাইস্কুলে আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে একটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক থাকার খবর পেয়ে স্কুলটিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে স্কুলে আগাম ছুটি ঘোষণা করা হয়।
বেল গার্ডেন্স পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টা ২৮ মিনিটের দিকে স্কুলের একটি শ্রেণিকক্ষে এক শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক রয়েছে বলে খবর আসে। এরপর পুলিশ সদস্যদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁরা ৬১১৯ আগ্রা স্ট্রিটে অবস্থিত স্কুলটিতে পৌঁছে আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক শিক্ষার্থীকে আটক করেন।
ঘটনাস্থলে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। স্কুলের এক কর্মীর বরাতে জানা যায়, ওই সময় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের পর্যবেক্ষণে একজন কিশোরকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
পুলিশ সদস্যরা স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ও অস্থায়ী ভবনে তল্লাশি চালান। এসব স্থানে থাকা শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মীদের নিরাপদে মূল ভবনের দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে গিয়ে পরিস্থিতি পরীক্ষা করেন।
পুলিশ নিশ্চিত করেছে, স্কুলটিতে সক্রিয় বন্দুকধারীর কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং ক্যাম্পাসে কোনো গুলিও ছোড়া হয়নি। এ ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক-কর্মী আহত হননি।
তবে ঘটনার সময় স্কুলের ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক শিক্ষার্থী জেড রুবেন জানান, দ্বিতীয় পিরিয়ড চলাকালে তিনি শ্রেণিকক্ষে আটকে ছিলেন। তাঁর ভাষায়, পুরো ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত ভীতিকর।
আরেক শিক্ষার্থী জেভিয়ার আগুইলার জানান, পুলিশ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ঢাল নিয়ে তাঁদের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে দ্রুত নিচে নেমে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। প্রথমে ঘটনাটি অবাস্তব মনে হলেও পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারেন তাঁরা। তাঁর কথায়, তখন মনে হচ্ছিল, এমন পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
শিক্ষার্থীরা জানান, পাশের শ্রেণিকক্ষে নিরাপত্তার কারণে অবস্থান করার সময় তাঁরা অন্য শিক্ষার্থীদের দৌড়ে বেরিয়ে যেতে দেখেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্কিত হুমকির পোস্ট এবং স্কুলে বন্দুকের ছবি ছড়িয়ে পড়ে বলে তাঁরা দাবি করেন।
শিক্ষার্থী লিয়া আরিওলা বলেন, ক্লাসে বসে থাকার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন পোস্ট দেখতে পাওয়াটা ছিল আরও ভয়ংকর। কয়েক মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল।
আরিওলা আরও জানান, শ্রেণিকক্ষের জানালা দিয়ে তাঁরা এক কিশোরকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হতে দেখেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা অন্য কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ আগাম ছুটি ঘোষণা করে। এর মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে আরও নিরাপত্তাকর্মী স্কুলে পৌঁছান। তদন্ত চলাকালে বেল গার্ডেন্স পুলিশ বিভাগ সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থলের আশপাশ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানায়।
পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। স্কুল বা স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য নতুন কোনো হুমকির তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে ঘটনার পেছনের কারণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হুমকির সঙ্গে আটক শিক্ষার্থীদের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় কারও কাছে অতিরিক্ত তথ্য থাকলে বেল গার্ডেন্স পুলিশ বিভাগের ডিটেকটিভ সার্জেন্ট ই. রবার্টসের সঙ্গে ৫৬২-৮০৬-৭৬৯৪ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিচয় গোপন রেখেও এলএ ক্রাইম স্টপার্সের ৮০০-২২২-৮৪৭৭ নম্বরে অথবা তাদের অনলাইন মাধ্যমে তথ্য দেওয়া যাবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন