ক্যালিফোর্নিয়ার করোনা হাইস্কুলে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রিভারসাইড কাউন্টির দুই কিশোর গ্রেপ্তার
পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের দূতের বৈঠকের সময় রাশিয়ার মুক্তি পেলেন মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ড
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
রাশিয়ার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক স্টিফেন হাবার্ড। ৭৪ বছর বয়সী এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার হেফাজতে ছিলেন। ইউক্রেনের পক্ষে ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে লড়াই করার অভিযোগে তাঁকে প্রায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ২১ অক্টোবর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের বৈঠকের সময় তাঁর মুক্তির খবর প্রকাশ্যে আসে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, মুক্তির পর হাবার্ড সেন্ট পিটার্সবার্গের পুলকোভো বিমানবন্দরে ছিলেন। বৈঠকে উইটকফ তাঁর মুক্তির জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও পুরো দেশের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। হাবার্ড পরিবারের কাছে ফিরে যাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্পও হাবার্ডের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি সরাসরি হাবার্ডের মুক্তির অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর অনুরোধের পরই রাশিয়া হাবার্ডকে মুক্তি দিয়েছে এবং এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো বন্দি বিনিময় করতে হয়নি। তবে মুক্তির পেছনে দুই দেশের মধ্যে আর কোনো সমঝোতা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
মিশিগানের বাসিন্দা হাবার্ড একসময় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী ও ন্যাশনাল গার্ডে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর আগে থেকেই তিনি দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইজিউমে বসবাস করছিলেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে সেখানে তাঁকে আটক করা হয়।
রুশ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, হাবার্ড ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। ২০২৪ সালে রুদ্ধদ্বার বিচার শেষে তাঁকে ছয় বছর ১০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তিনি অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। তবে তাঁর মার্কিন আইনজীবী মার্টিন ডি লুকা দাবি করেন, হাবার্ড অভিযোগগুলো মিথ্যা বলেছেন এবং তিনি কোনো সামরিক ইউনিট বা যুদ্ধে অংশ নেননি। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও শুরু থেকেই তাঁর নির্দোষতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর হাবার্ডকে অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। মুক্তির আগে রাশিয়ার হেফাজতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে তিনিই ছিলেন এমন মর্যাদাপ্রাপ্ত সর্বশেষ বন্দি। তাঁর মুক্তি দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হাবার্ডের মুক্তির সময় পুতিন ও উইটকফের বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা এবং দুই দেশের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা চলছিল। ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের অবসানে সমঝোতার পথ খুঁজছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত, ইউক্রেনের নিরাপত্তা এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। হাবার্ডের মুক্তি আলোচনায় ইতিবাচক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এর ফলে বৃহত্তর শান্তি আলোচনা কতটা এগোবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন