এশীয়-আমেরিকান শিক্ষার্থীদের ভর্তি নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নতুন মামলা, বদলাতে পারে স্কুলের নিয়ম
লিংকন মেমোরিয়াল পুলে ভাঙচুর হলে কী হবে, নতুন মন্তব্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন ট্রাম্প
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ওয়াশিংটন ডিসিতে লিংকন মেমোরিয়ালের বিখ্যাত রিফ্লেক্টিং পুলে আবার পানি ভরাটের কাজ শুরু হওয়ার পর নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুলটি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তবে এর আগের দফায় পুলের আবরণ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় সরকারি তদন্তে নির্মাণকাজের ত্রুটির বিষয়টি উঠে এসেছে।
সোমবার, ১৯ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প জানান, পুলটি প্রায় ৭০ শতাংশ পানিতে ভরে গেছে এবং দেখতে ভালো লাগছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ আবার পুলটির ক্ষতি করার চেষ্টা করলে তাকে কারাগারে যেতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেও পুলের নতুন আবরণ নষ্ট হওয়ার জন্য ভাঙচুরকারীদের দায়ী করেছিলেন।
তবে এ ঘটনায় ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে সরকারি কৌঁসুলিদের অনুসন্ধানের তথ্যের অমিল রয়েছে। পুলের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক অলিম্পিক ক্যানোয়িস্ট ডেভিড হার্নের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ প্রত্যাহারের সময় কৌঁসুলিরা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ত্রুটিপূর্ণ কাজ এবং দ্রুত প্রকল্প শেষ করার চাপের কারণে আবরণটি নষ্ট হয়ে থাকতে পারে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ভাঙচুরের অভিযোগ তোলা হলেও পরে পাওয়া নথিতে নির্মাণকাজের ত্রুটির বিষয়টি সামনে আসে।
প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের সংস্কার প্রকল্পটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে লিংকন মেমোরিয়ালের আশপাশের সৌন্দর্যবর্ধন পরিকল্পনার অংশ ছিল। পুলের আবরণে নতুন নীল রং ও সুরক্ষাস্তর প্রয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর আবরণ উঠে যাওয়া, বিভিন্ন স্থানে ফাটল এবং পানিতে শৈবাল জমার মতো সমস্যা দেখা দেয়। ফলে সংস্কারকাজ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং নতুন করে মেরামতের প্রয়োজন হয়।
ট্রাম্প অবশ্য ঠিকাদারি কাজের ত্রুটির ব্যাখ্যা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, পুলের ক্ষতির পেছনে ভাঙচুরকারীদের ভূমিকা ছিল। সাম্প্রতিক পোস্টেও তিনি এ অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তার মূল্যায়নের সমালোচনা করেন। তবে তাঁর দাবির পক্ষে প্রকাশ্যে উপস্থাপিত তথ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে পুলের নতুন আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে ডেভিড হার্নের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপও শেষ পর্যন্ত টেকেনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন তথ্য পৌঁছানোর পর তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়। পরে আদালত মামলাটি স্থায়ীভাবে খারিজ করেন। ফলে পুলের ক্ষতির জন্য ভাঙচুরকারীদের দায়ী করার বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, সংস্কার ও মেরামতের পর পুলটি আবার চালু করার প্রস্তুতি চলছে। পানি ভরাটের সময় পানির রং সাময়িকভাবে ঘোলা দেখা যেতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পানি স্থিতিশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা পরিষ্কার হয়ে আসার কথা।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত জাতীয় স্মৃতিসৌধের অংশ এই পুলের সংস্কার নিয়ে বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। একদিকে ট্রাম্প ভাঙচুরের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন, অন্যদিকে সরকারি তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমে নির্মাণকাজের ত্রুটির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। নতুন করে পানি ভরাটের পর পুলটির অবস্থা কেমন থাকে, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন