নির্বাচনের আগে উদ্বেগ বাড়াল রহস্যময় চিঠি, ক্যালিফোর্নিয়ার অন্তত ৯ আইনপ্রণেতা লক্ষ্যবস্তু
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সান্তা আনা বাতাসের দাপট, শেষ দিনে বাড়ছে তীব্র গরম ও অগ্নিঝুঁকি
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সান্তা আনা বাতাসের প্রভাবে তীব্র গরম ও দাবানলের ঝুঁকি নিয়ে টানা কয়েক দিনের উদ্বেগের মধ্যে শনিবার ছিল বিপজ্জনক আবহাওয়ার শেষ দিন। শুষ্ক বাতাস, কম আর্দ্রতা এবং অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার কারণে লস এঞ্জেলেস ও আশপাশের এলাকায় নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবারের পর বাতাসের তীব্রতা ধীরে ধীরে কমে আসার কথা।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর লস এঞ্জেলেস ও ভেনচুরা কাউন্টির বিস্তীর্ণ এলাকায় শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত ‘রেড ফ্ল্যাগ ওয়ার্নিং’ কার্যকর রাখে। এই সতর্কতার অর্থ হলো, বাতাসের গতি, শুষ্ক আবহাওয়া ও কম আর্দ্রতার কারণে কোথাও দাবানল শুরু হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকা, শুকনো গাছপালায় ঘেরা অঞ্চল এবং বসতবাড়ির কাছাকাছি এলাকাগুলো নিয়ে উদ্বেগ ছিল।
শুক্রবার লস এঞ্জেলেসে তাপমাত্রা ৯৭ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছায়, যা বছরের এই সময়ের স্বাভাবিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৭৯ ডিগ্রির তুলনায় অনেক বেশি। উপকূলীয় ও উপত্যকা এলাকাগুলোর কয়েকটিতেও তাপমাত্রা ৯০ থেকে ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে ওঠে। একই সময়ে সান্তা আনা বাতাসের ঝাপটা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। কিছু পাহাড়ি এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৭০ মাইল পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
সান্তা আনা হলো ক্যালিফোর্নিয়ার পরিচিত এক ধরনের শুষ্ক, উষ্ণ এবং শক্তিশালী বাতাস, যা সাধারণত অভ্যন্তরীণ অঞ্চল থেকে উপকূলের দিকে প্রবাহিত হয়। এই বাতাসের কারণে গাছপালা ও মাটির আর্দ্রতা দ্রুত কমে যেতে পারে। কোথাও আগুন লাগলে বাতাসের গতিতে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে সামান্য অসতর্কতা থেকেও বড় ধরনের দাবানলের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এদিকে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক দাবানল মোকাবিলা করছিলেন অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা। অরেঞ্জ কাউন্টির নর্তে ফায়ার এবং মালিবুর ব্রাইসন ফায়ারসহ কয়েকটি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছিল। নর্তে ফায়ারের কারণে সান জুয়ান ক্যাপিস্ট্রানো ও সান ক্লেমেন্তে এলাকার বহু বাসিন্দাকে নিরাপত্তার স্বার্থে সরিয়ে নেওয়া হয়। আগুনে কয়েকটি বাড়ি পুড়ে যাওয়ার খবরও পাওয়া যায়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আগুনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন কাজ এড়িয়ে চলা, জরুরি সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখা এবং প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শনিবারের পর সান্তা আনা বাতাস দুর্বল হওয়ার পূর্বাভাস থাকলেও দাবানলের ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা ছিল না। শুষ্ক গাছপালা, উচ্চ তাপমাত্রা এবং চলমান দাবানলের কারণে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন ছিল। আবহাওয়ার পরিবর্তন পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারে, তবে নিরাপত্তা সতর্কতা মেনে চলাই বাসিন্দাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন