দাবানলের আশঙ্কায় দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় রেড ফ্ল্যাগ সতর্কতা, বইছে প্রবল সান্তা আনা বাতাস
লস এঞ্জেলেসের সুপারমার্কেটে ঘুরছে এআই রোবট, ক্রেতা ও কর্মীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
লস এঞ্জেলেসের বিভিন্ন মুদি দোকান ও সুপারমার্কেটের আইলজুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিচালিত রোবট। দোকানের তাক পর্যবেক্ষণ, পণ্যের তথ্য সংগ্রহ এবং মজুতের অবস্থা যাচাইয়ের মতো কাজে এসব রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে নতুন প্রযুক্তির এই ব্যবহার ক্রেতা ও কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, কর্মসংস্থান এবং দোকানের ভেতরে প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সুপারমার্কেটগুলোতে সাধারণত কর্মীদের পণ্যের তাক গোছানো, খালি তাক শনাক্ত করা এবং পণ্যের মজুত পরীক্ষা করার মতো কাজ করতে হয়। এসব কাজ দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে রোবট ব্যবহার করছে কিছু প্রতিষ্ঠান। রোবটগুলো দোকানের বিভিন্ন আইল দিয়ে চলাচল করে তাকের ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। পরে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন পণ্য শেষ হয়ে যাচ্ছে, কোথায় পণ্য ঠিকমতো সাজানো নেই কিংবা কোন পণ্যের অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে, তা শনাক্ত করা সম্ভব।
ব্যবসায়ীদের দৃষ্টিতে, এই প্রযুক্তি দোকানের ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে এবং কর্মীদের সময় বাঁচাতে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পণ্যের ঘাটতি দ্রুত শনাক্ত করা গেলে ক্রেতারাও প্রয়োজনীয় পণ্য সহজে পেতে পারেন। পাশাপাশি মজুত ব্যবস্থাপনার ভুল কমানো এবং দোকানের কার্যক্রম আরও দক্ষ করার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে ক্রেতাদের সবার কাছে বিষয়টি স্বস্তিদায়ক নয়। দোকানে কেনাকাটার সময় কোনো রোবট পাশ দিয়ে চলে গেলে কেউ কেউ অস্বস্তি বোধ করছেন। রোবটের ক্যামেরা কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করছে, সেই তথ্য কোথায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং তা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে ক্যামেরার মাধ্যমে ক্রেতাদের মুখ বা চলাচলের তথ্য সংগ্রহ করা হলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি: তাক পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ক্যামেরা থাকলেই যে রোবট ক্রেতাদের ব্যক্তিগত পরিচয় শনাক্ত করছে, তা নয়। প্রযুক্তির ধরন ও প্রতিষ্ঠানের নীতির ওপর নির্ভর করে সংগৃহীত তথ্যের পরিধি ভিন্ন হতে পারে। তাই রোবটের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি সেগুলো কীভাবে কাজ করছে, সে বিষয়েও স্বচ্ছ তথ্য থাকা প্রয়োজন।
দোকানের কর্মীদের মধ্যেও প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে চিন্তা রয়েছে। রোবট যদি আগে মানুষের করা কিছু কাজ করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে কর্মীদের দায়িত্ব কীভাবে বদলাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। যদিও এসব যন্ত্রের ব্যবহার মানেই কর্মী ছাঁটাই হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য সব ক্ষেত্রে নেই। বরং প্রযুক্তি চালু হলে কর্মীদের কাজের ধরন, প্রশিক্ষণ এবং নতুন দায়িত্বের প্রয়োজনীয়তা কীভাবে বদলাবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খুচরা ব্যবসায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর সুবিধা ও ঝুঁকি—দুই দিকই বিবেচনা করা দরকার। রোবটের মাধ্যমে পণ্যের মজুত ও দোকান পরিচালনার দক্ষতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ক্রেতাদের তথ্যের সুরক্ষা, কর্মীদের অধিকার এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের নিয়ম স্পষ্ট রাখা জরুরি।
লস এঞ্জেলেসের সুপারমার্কেটগুলোতে এআই রোবটের উপস্থিতি তাই কেবল নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার নয়; এটি ভবিষ্যতের কেনাকাটা, কর্মসংস্থান ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে বৃহত্তর আলোচনারও অংশ। প্রযুক্তি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ব্যবসায়িক সুবিধার পাশাপাশি ক্রেতা ও কর্মীদের উদ্বেগ কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে তার ওপর।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন