পেনসিলভানিয়ার রিসোর্টে স্বামী ও তিন বছরের ছেলেকে ছু রিকাঘাতে হ ত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার নারী
দলবদ্ধ যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে চাপের মুখে কর্নেল, ভ্রাতৃসংঘের পার্টিতে জারি নিষেধাজ্ঞা
ছবিঃ ফাইল ফুটেজ
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দলবদ্ধ যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে ভ্রাতৃসংঘগুলোর সব পার্টি ও সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের বাকি সময়জুড়ে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পুলিশকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মাইকেল কটলিকফ এ পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। তাঁর ভাষ্য, ভ্রাতৃসংঘগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সেগুলো কীভাবে নিরাপদে পরিচালনা করা যায়, তা নির্ধারণ করতে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো ভ্রাতৃসংঘ নিজেদের ভবনে পার্টি বা সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে সংশ্লিষ্ট শাখাকে তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ২০২৪ সালে একটি ভ্রাতৃসংঘের ভবনে এক নারী শিক্ষার্থীকে মাদক প্রয়োগ করে দলবদ্ধভাবে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ। সাবেক ওই শিক্ষার্থী গত মাসে দায়ের করা একটি দেওয়ানি মামলায় অভিযোগ করেন, চি ফাই নামের একটি ভ্রাতৃসংঘের সাত সদস্য তাঁকে নিপীড়ন করেন। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়কেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগকারী নারী আদালতে দায়ের করা মামলায় নিজেকে ‘জেন ডো’ নামে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাতে ভ্রাতৃসংঘটির একটি পার্টিতে অংশ নেওয়ার পর তাঁকে মাদক গ্রহণে চাপ দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে তিনি যৌন নিপীড়নের শিকার হন। তাঁর দাবি, ওই সময় একাধিক ব্যক্তি এতে জড়িত ছিলেন।
ঘটনাটি সামনে আসার পর ২০২৪ সালেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চি ফাইয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। অভিযুক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্তে দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। তবে সে সময় ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগ প্রথমে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন স্থানীয় জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ে পাঠিয়েছিল। তবে শুরুতে ফৌজদারি মামলা এগিয়ে নেওয়া হয়নি। নতুন করে জনমত ও সমালোচনা তৈরি হওয়ার পর তদন্ত আবারও গুরুত্ব পেয়েছে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল মামলাটি তদন্তের জন্য অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসকে বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পুলিশের পরিবর্তে অঙ্গরাজ্যের পুলিশ বিভাগের অভিজ্ঞ ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তদন্তকারীরা ক্যাম্পাসে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তে ভূমিকা রাখবেন। এ ছাড়া যৌন অসদাচরণের অভিযোগ জানানো ব্যক্তিদের সহায়তা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাগরিক অধিকারবিষয়ক দপ্তরে একজন বিশেষ ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেওয়া হবে। অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তা বাড়ানোরও পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ক্যাম্পাসে যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে আরও বিস্তৃত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত মদ্যপান, মাদকের ব্যবহার এবং বিপদে থাকা অন্যদের সহায়তায় শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের বিষয়েও সচেতনতা বাড়ানো হবে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। ৫ অক্টোবর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। পরে শিক্ষকদের একটি অংশ প্রশাসনের যৌন নিপীড়ন মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনের উদ্যোগ নেয়।
তবে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। অভিযুক্তদের একজনের আইনজীবী বলেছেন, শুধু ভ্রাতৃসংঘের সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ করলেই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সমস্যার সমাধান হবে না। এতে অনুষ্ঠানগুলো ক্যাম্পাসের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যেখানে নজরদারি আরও কঠিন হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, ঘোষিত পদক্ষেপগুলো ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার এবং যৌন সহিংসতা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের প্রাথমিক ধাপ। পাশাপাশি ভ্রাতৃসংঘগুলোর কার্যক্রম ভবিষ্যতে কোন শর্তে নিরাপদে চালানো সম্ভব, তা পর্যালোচনা করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন