ক্যালিফোর্নিয়ার সান ক্লেমেন্তেতে নর্তে ফায়ারের হুমকি, ঝুঁকিতে আশপাশের স্থাপনা
লস এঞ্জেলেসে আবাসন ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি, মেয়র পদপ্রার্থী বাস ও রামানের পরিকল্পনায় কী রয়েছে
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস এঞ্জেলেসে আবাসন ব্যয় কমানো ও বাড়িভাড়ার সংকট মোকাবিলা এখন মেয়র নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এ নিয়ে বর্তমান মেয়র কারেন বাস এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী নগর পরিষদ সদস্য নিথিয়া রামানের মধ্যে নীতিগত পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দুজনই সাশ্রয়ী আবাসন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে নতুন বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন দ্রুত করা, আবাসন প্রকল্পের ব্যয় কমানো এবং ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁদের পরিকল্পনায় রয়েছে ভিন্নতা।
লস এঞ্জেলেস যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর। সেখানে অনেক ভাড়াটিয়ার জন্য মাসিক ভাড়া পরিশোধ করা কঠিন হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, নতুন অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের গতি প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ছে না। ফলে বাড়ির চাহিদা, নির্মাণ ব্যয় এবং ভাড়াটিয়াদের আর্থিক চাপ—সব মিলিয়ে আবাসন সংকট রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
বাস তাঁর প্রথম মেয়াদে সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পের অনুমোদন দ্রুত করার উদ্যোগকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে, রামান ভাড়াটিয়াদের অধিকার শক্তিশালী করা এবং শহরের আরও এলাকায় নতুন আবাসন নির্মাণের সুযোগ বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
বাসের আবাসন পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে নির্মাণের অনুমোদন দ্রুত করা এবং নতুন সাশ্রয়ী বাড়ি তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া। তাঁর প্রথম মেয়াদের শুরুতে জারি করা এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টিভ ১-এর মাধ্যমে বাজারদরের চেয়ে কম ভাড়ার শতভাগ সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হয়। মেয়রের প্রচারশিবিরের তথ্য অনুযায়ী, এ উদ্যোগের আওতায় ৪৭ হাজারের বেশি আবাসন ইউনিট নির্মাণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৭২৮টি ইউনিটের নির্মাণকাজ চলছিল।
বাসের প্রশাসন বাণিজ্যিক ভবনকে অ্যাপার্টমেন্টে রূপান্তর সহজ করার উদ্যোগও নিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা কমিয়ে এবং নতুন আবাসন নির্মাণের সুযোগ বাড়িয়ে শহরের উচ্চ আবাসন ব্যয় মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে একক পরিবারের বাড়ির এলাকাসহ কয়েকটি অঞ্চলে তাঁর আবাসন পরিকল্পনার পরিধি সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হয়েছে।
অন্যদিকে, নিথিয়া রামান শহরের আরও এলাকায় বহুতল ও বহুপারিবারিক আবাসন নির্মাণের পক্ষে। তাঁর মতে, নতুন বাড়ি তৈরির সুযোগ সীমিত থাকলে আবাসন সংকট কাটানো কঠিন হবে। সিটি কাউন্সিলে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২৩ সালে ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদের ক্ষেত্রে যৌক্তিক কারণ দেখানোর বিধান এবং বকেয়া ভাড়া পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণে তিনি ভূমিকা রাখেন।
গত বছর ভাড়া নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকা ভবনগুলোর বার্ষিক ভাড়া বৃদ্ধির সীমা ৪ শতাংশ নির্ধারণের উদ্যোগেও রামান নেতৃত্ব দেন। বাস এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেন। ফলে ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষার কিছু বিষয়ে দুই প্রার্থীর উদ্যোগ পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
বাড়ি বিক্রির কর নিয়েও মতপার্থক্য
আবাসন সংকটের আলোচনায় উঠে এসেছে মেজার ইউএলএ, যা ‘ম্যানশন ট্যাক্স’ নামেও পরিচিত। লস এঞ্জেলেসে ৫৪ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে এই করের হার ৪ শতাংশ বা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। বাড়ি ছাড়াও অ্যাপার্টমেন্ট ভবন বিক্রির ওপর এ কর প্রযোজ্য। কিছু আবাসন নির্মাতার দাবি, করের কারণে নতুন প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যায় এবং নির্মাণ আর্থিকভাবে কঠিন হয়ে পড়ে।
বাস অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ওপর করের চাপ কমানোর চেষ্টা করেছিলেন। অন্যদিকে, রামান নতুন নির্মিত অ্যাপার্টমেন্ট ভবনকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এ কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব তুলেছিলেন। তবে তাঁর প্রস্তাব সিটি কাউন্সিলে এগোয়নি। দুজনই করব্যবস্থায় পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিলেও কীভাবে তা কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে তাঁদের উদ্যোগ আলাদা।
ভাড়াটিয়াদের পাশাপাশি বাড়ির মালিকদের আয়ের সুযোগ নিয়েও দুই প্রার্থীর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ২০২৮ সালের অলিম্পিকের সময় বাড়ির মালিকদের দ্বিতীয় বাড়ি স্বল্পমেয়াদে ভাড়া দেওয়ার বিধিনিষেধ শিথিল করার পক্ষে বাস। তাঁর যুক্তি, এতে বাড়ির মালিকেরা অতিরিক্ত আয় করতে পারবেন। রামানের মতে, এ ধরনের ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ শহরের আবাসন সংকট আরও বাড়াতে পারে।
নির্বাচনে দুই প্রার্থীর প্রতি সমর্থনের ক্ষেত্রেও পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। রামান নতুন আবাসন নির্মাণের পক্ষে থাকা গোষ্ঠী এবং ভাড়াটিয়াদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর সমর্থন পেয়েছেন। অন্যদিকে, বাসের পক্ষে রয়েছে নির্মাণ ও বাণিজ্যিক খাতের বিভিন্ন সংগঠন এবং কিছু বেসরকারি আবাসন নির্মাতা।
তবে দুই প্রার্থীর পরিকল্পনার কোনটি বাস্তবে আবাসন ব্যয় কতটা কমাতে পারবে, তা নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ এখনও নেই। নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি, প্রকল্পের ব্যয়, ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা এবং বাড়ির মালিকদের স্বার্থ—সবকিছুর ওপরই ভবিষ্যৎ নীতির প্রভাব নির্ভর করবে। লস এঞ্জেলেসের ভোটারদের জন্য তাই আবাসন সংকট মোকাবিলার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি সেগুলো বাস্তবায়নের উপায়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন