ক্যালিফোর্নিয়ার সান ক্লেমেন্তেতে নর্তে ফায়ারের হুমকি, ঝুঁকিতে আশপাশের স্থাপনা
২০৩১ সাল পর্যন্ত ইউরোপের দ্রুততম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে মাল্টা, কসোভোসহ পাঁচ দেশ
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ইউরোপের বড় অর্থনীতিগুলো আগামী কয়েক বছর ধীর প্রবৃদ্ধির মুখে থাকলেও তুলনামূলক দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কয়েকটি ছোট দেশের। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে গড় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে থাকতে পারে মাল্টা, কসোভো, ইউক্রেন, সার্বিয়া ও মলদোভা। পর্যটন, বিদেশি বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তা এসব দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত মাল্টার অর্থনীতি বছরে গড়ে ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কসোভোর প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ইউক্রেনের ক্ষেত্রে এই হার ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সার্বিয়া ও মলদোভার অর্থনীতি একই সময়ে বছরে গড়ে যথাক্রমে ৩ দশমিক ৫২ ও ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, ইউরোজোনের অর্থনীতি একই সময়ে বছরে গড়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতি ১ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। অর্থাৎ, ইউরোপের দ্রুত প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা মূলত কয়েকটি ছোট অর্থনীতিকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে।
মাল্টার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পেছনে পর্যটন, অনলাইন গেমিং, আর্থিক সেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গত কয়েক বছরে দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ ও কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে শ্রমিকের ঘাটতি, অবকাঠামোর ওপর চাপ এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে দেশটিকে। দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে দক্ষ জনশক্তি ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
কসোভোর অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয়, সরকারি বিনিয়োগ এবং প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বড় ভূমিকা রাখছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী কসোভোর নাগরিকদের পাঠানো অর্থ দেশটির বহু পরিবারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে আমদানিনির্ভরতা এবং সীমিত রপ্তানি সক্ষমতা দেশটির জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
ইউক্রেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা অনেকটাই নির্ভর করছে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন কার্যক্রমের ওপর। যুদ্ধের কারণে দেশটির আবাসন, বিদ্যুৎ অবকাঠামো, সড়ক ও শিল্প খাত ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে এসব অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে বড় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং বেসরকারি বিনিয়োগও অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।
সার্বিয়ার ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগ, উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামো নির্মাণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি। ২০২৭ সালে বেলগ্রেডে এক্সপো ২০২৭ আয়োজনকে সামনে রেখে দেশটিতে সড়ক, রেলপথ ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। এসব প্রকল্প অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে পারে। তবে বিনিয়োগের সুফল দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি।
মলদোভার অর্থনীতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, আর্থিক সহায়তা এবং কাঠামোগত সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদের প্রার্থী এবং ২০২৪ সালে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় সহায়তায় অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের সংস্কার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রতিবেশী ইউক্রেনের যুদ্ধ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কৃষি খাতের ওপর আবহাওয়ার প্রভাব দেশটির অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
ইউরোপের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর থাকার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। উচ্চ সরকারি ঋণ, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি, দুর্বল উৎপাদনশীলতা, জ্বালানির ব্যয় এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এসব দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। বড় অর্থনীতিগুলোর শিল্প ও উৎপাদন খাতেও নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
তবে দ্রুত প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস মানেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান একই হারে বাড়বে, এমন নয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রকৃত আয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছানোই হবে দেশগুলোর জন্য বড় পরীক্ষা। বিশেষ করে ইউক্রেনের ক্ষেত্রে যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং মলদোভা ও কসোভোর ক্ষেত্রে ইউরোপীয় সহায়তা ও সংস্কারের অগ্রগতি ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন