ক্যালিফোর্নিয়ার করোনা হাইস্কুলে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রিভারসাইড কাউন্টির দুই কিশোর গ্রেপ্তার
ভয়ংকর ঢেউয়ে ধ্বংস হচ্ছে লং বিচের উপদ্বীপ, শীতের এল নিনোতে আরও বাড়তে পারে বিপর্যয়
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
লং বিচের উপদ্বীপে একের পর এক শক্তিশালী ঢেউ আঘাত হানায় ভেঙে পড়ছে সৈকতসংলগ্ন বাড়িঘর ও ঐতিহাসিক কাঠের বোর্ডওয়াক। সাগরের ঢেউ সৈকতের বালু সরিয়ে নেওয়ায় অনেক বাড়ির ভিত্তি উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও বাড়ির অংশ ধসে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূল রক্ষার দেয়ালও। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তারা। বিশেষ করে আসন্ন শীতকালে এল নিনোর প্রভাবে ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাসের চাপ বাড়লে ক্ষয়ক্ষতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
লং বিচের এই উপদ্বীপটি একদিকে আলামিতোস উপসাগর, অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগর দিয়ে ঘেরা সরু ভূখণ্ড। এখানকার উপকূলীয় এলাকায় আগে ছোট ছোট সৈকতবাড়ি থাকলেও সময়ের সঙ্গে সেখানে বহুতল বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি হয়েছে। সমুদ্রের মনোরম দৃশ্যের কারণে এলাকাটি আবাসনের জন্য জনপ্রিয়। কিন্তু সাম্প্রতিক ঢেউয়ের তীব্রতায় এসব বাড়ির নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে লং বিচের উপকূলকে বড় ঢেউ থেকে রক্ষা করে আসছিল সমুদ্রের মধ্যে নির্মিত একটি বিশাল প্রতিরক্ষা বাঁধ। প্রায় ৮০ বছর আগে নির্মিত এই বাঁধটি মূলত পশ্চিম দিক থেকে আসা ঢেউ ঠেকানোর জন্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দক্ষিণ দিক থেকে আসা ঢেউয়ের জন্য এতে একটি ফাঁক রয়ে গেছে। ফলে প্রশান্ত মহাসাগরে গ্রীষ্মকালে ঝড়ের কারণে ঢেউ উত্তরের দিকে এগিয়ে এলে উপদ্বীপের নির্দিষ্ট একটি অংশ সরাসরি আঘাতের মুখে পড়ে।
গত সেপ্টেম্বর থেকে একের পর এক ঝড়ের প্রভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। হারিকেন মেরির প্রভাবে শ্রমিক দিবসের ছুটির সময় উপকূলে প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ে। এরপর হারিকেন পোলো এবং হারিকেন র্যাচেলের প্রভাবেও ঢেউয়ের তীব্রতা বাড়ে। ধারাবাহিক এসব আঘাতে সৈকতের বালু দ্রুত সরে যায়। ভেঙে পড়ে ঐতিহাসিক বোর্ডওয়াকের বিভিন্ন অংশ এবং কয়েকটি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপকূল রক্ষার কাঠের দেয়ালও উন্মুক্ত হয়ে পড়ে, যা আগে বালুর নিচে ঢাকা ছিল।
লং বিচের সামুদ্রিক বিভাগের ব্যবস্থাপক টড লেল্যান্ডের ভাষায়, পরিস্থিতি স্থানীয়দের জন্য একই সঙ্গে মানসিক ও বাস্তব দিক থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, এত দ্রুত বালু সরে যাওয়ার ঘটনা সবার কাছেই নতুন অভিজ্ঞতা।
এত দিন ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে শহর কর্তৃপক্ষ নিয়মিত সৈকতে বালু এনে জমা করত। কখনো বালু দিয়ে উঁচু প্রতিরক্ষাবাঁধ তৈরি করা হতো, যাতে ঢেউ সরাসরি বাড়িতে আঘাত করতে না পারে। এ কাজে বছরে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি ব্যয় হতো। পশ্চিম প্রান্তে জমে থাকা বালু ট্রাকে করে পূর্ব দিকে এনে সৈকত পুনর্গঠনের চেষ্টা চলত। কিন্তু এবার ধারাবাহিক শক্তিশালী ঢেউয়ের কারণে সেই ব্যবস্থা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। সৈকত এতটাই ক্ষয়ে গেছে যে ট্রাক নিয়ে উপদ্বীপের পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে বালু ফেলা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির বাসিন্দাদের মধ্যে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, উপকূল রক্ষায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কমানো যেত। স্থানীয় বাসিন্দা কেলি ক্যানিং পরিস্থিতিকে মানুষের নেওয়া ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতি বলে মন্তব্য করেছেন। তবে শহর কর্তৃপক্ষ বলছে, উপকূল রক্ষার প্রকল্পগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং পুরো শহরের অন্যান্য প্রয়োজনের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
উপকূলীয় বিজ্ঞানীদের মতে, এ বছর গ্রীষ্মকালে ঢেউয়ের শক্তি অস্বাভাবিক বেশি ছিল। এর সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং আসন্ন এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব যুক্ত হলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। ২০১৫ সালের একটি জলবায়ু সহনশীলতা প্রতিবেদনে লং বিচের এই উপদ্বীপকে বন্যা ও উপকূলীয় ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেখানে সতর্ক করা হয়েছিল, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ও ঝড়ের তীব্রতা বাড়লে শুধু বালুর প্রতিরক্ষাবাঁধ দিয়ে পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ। উপসাগরের তলদেশ থেকে বালু তুলে উপদ্বীপের সৈকতে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ প্রকল্পে প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার ঘনগজ বালু পাওয়া যেতে পারে। তা উপকূলে ফেলা হলে সৈকতটি আরও ১০০ থেকে ২০০ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এর মাধ্যমে ঢেউ ও বাড়িঘরের মধ্যে অতিরিক্ত বালুর স্তর তৈরি করে সুরক্ষা বাড়ানোর আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির কাজ দ্রুত শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও শীতের আগে তা শেষ করে বাড়িঘরকে যথেষ্ট সুরক্ষা দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে লং বিচের বাসিন্দাদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—সমুদ্রের ক্রমাগত আঘাতের মধ্যেও নিজেদের বাড়িঘর ও উপকূলীয় বসতি কতটা রক্ষা করা সম্ভব।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন