আপডেট :

        ফোনে প্রেসক্রিপশনের কথা বলে হুমকি, ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতারণার সতর্কতা

        ঝড়বৃষ্টির পর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিরছে শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া, সপ্তাহান্তে বাড়বে তাপমাত্রা

        নতুন স্টেশন চালুর কয়েক মাসেই রক্ষণাবেক্ষণের কাজ, বন্ধ হচ্ছে লস এঞ্জেলেসের তিনটি মেট্রো স্টেশন

        ধনীদের সম্পদে কর বসানোর প্রস্তাব ঠেকাতে লাখো ডলার ব্যয়, সম্পদের তুলনায় খরচ সামান্য

        যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন কেন, সিনেট নির্বাচনে আলোচনায় আবদুল এল-সায়েদ

        কম ভাড়ার আশায় যেসব অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন মানুষ, সেগুলোই এখন বড় ঝুঁকির মুখে

        ১৬০ বছরের ঐতিহ্যে ইতি টানছে নিউইয়র্ক, নিরাপত্তা ও প্রাণী নির্যাতনের উদ্বেগে ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধ

        টপ গান ও এলিয়েন তারকা টম স্কেরিটের মৃত্যু, হলিউডে নেমে এসেছে শোকের ছায়া

        দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, লস এঞ্জেলেসে বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে

        ক্লাসরুমে বন্দুক নিয়ে শিক্ষার্থী, ক্যালিফোর্নিয়ার স্কুলে পুলিশের ব্যাপক অভিযান

        ক্যালিফোর্নিয়ার কারাগারে নিজের কক্ষে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল মেক্সিকান মাফিয়ার সদস্যকে

        বেতন বৃদ্ধি ও বাসা থেকে কাজের দাবিতে ক্যালিফোর্নিয়ায় হাজারো সরকারি কর্মীর ধর্মঘট

        যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের পথ কঠিন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিপাকে ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মীরা

        কেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তরুণদের চেয়ে বয়স্ক নেতারাই বেশি দিন ক্ষমতা ধরে রাখছেন

        যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কানাডার বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলল ওয়াশিংটন

        ক্যালিফোর্নিয়ার করোনা হাইস্কুলে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রিভারসাইড কাউন্টির দুই কিশোর গ্রেপ্তার

        প্রশান্ত মহাসাগরীয় ঝড় দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায়, বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করল আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ

        টানা ৯০০ মাইল সাঁতরে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূল পাড়ি, প্রথম নারী হিসেবে রেকর্ড গড়লেন তিনি

        ক্যালিফোর্নিয়ার মৃত গাছগুলো কোথায় যাচ্ছে, রহস্য খুঁজতে গোয়েন্দার ভূমিকায় পরিবেশকর্মী

        ভয়ংকর ঢেউয়ে ধ্বংস হচ্ছে লং বিচের উপদ্বীপ, শীতের এল নিনোতে আরও বাড়তে পারে বিপর্যয়

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন কেন, সিনেট নির্বাচনে আলোচনায় আবদুল এল-সায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন কেন, সিনেট নির্বাচনে আলোচনায় আবদুল এল-সায়েদ

ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস

টপ গান ও এলিয়েন তারকা টম স্কেরিটের মৃত্যু, হলিউডে নেমে এসেছে শোকের ছায়া

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়েও নিজের দেশপ্রেম ও আনুগত্য বারবার প্রমাণের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে মুসলিম রাজনীতিক আবদুল এল-সায়েদকে। মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে তাঁর ধর্মীয় পরিচয়, পারিবারিক পটভূমি এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাঁর অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের পরিচয়, গ্রহণযোগ্যতা ও সমান অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্নগুলো আবার সামনে এনেছে।

মিশিগানে জন্ম নেওয়া ৪১ বছর বয়সী এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিক। তাঁর বাবা-মা মিসরীয় বংশোদ্ভূত। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ডেট্রয়েটের জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এবার সিনেট নির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতা জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

তবে নির্বাচনী প্রচারে তাঁর নীতি ও পরিকল্পনার পাশাপাশি মুসলিম পরিচয়ও বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সসহ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা তাঁর ধর্মীয় পরিচয় এবং কথিত মুসলিম ব্রাদারহুড-সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এল-সায়েদ এসব অভিযোগের সঙ্গে নিজের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পক্ষে তাঁর সরাসরি সদস্যপদ বা সম্পৃক্ততার প্রমাণও প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

সম্প্রতি মিশিগানের একটি নির্বাচনী সভায় এক ব্যক্তি তাঁকে মুসলিম ব্রাদারহুডের নিন্দা করতে বললে এল-সায়েদ সরাসরি সম্মতি জানান। এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন তাঁর কাছে এমন প্রশ্ন করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, মুসলিম হওয়ার কারণে তাঁর মার্কিন সংবিধানের প্রতি আনুগত্য নিয়ে সন্দেহ করা হচ্ছে—এমন ধারণা থেকেই প্রশ্নটি এসেছে।

এল-সায়েদ যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্রে সবার আনুগত্যের ভিত্তি হওয়া উচিত সংবিধান, ধর্মীয় পরিচয় নয়। তাঁর মতে, কোনো ব্যক্তি মুসলিম, খ্রিষ্টান কিংবা অন্য ধর্মের অনুসারী হলেই তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে আলাদা করে সন্দেহ করার কারণ নেই। এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ তাঁর অবস্থানকে ধর্মীয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাহসী প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন, আবার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁর উত্তর নিয়ে সমালোচনা করছে।

এল-সায়েদের নির্বাচনী প্রচারের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সাধারণ মানুষের আয় বাড়ানো এবং রাজনীতিতে বড় অর্থের প্রভাব কমানো। তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পক্ষে এবং গাজা যুদ্ধসহ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিকের সমালোচনা করেছেন।

তাঁর প্রচারণা ঘিরে বিতর্ক শেষ পর্যন্ত একটি বড় প্রশ্ন সামনে আনছে: যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বের যোগ্যতা কি নীতি, কাজ ও জনসমর্থন দিয়ে বিচার করা হবে, নাকি ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বারবার নিজের দেশপ্রেম প্রমাণ করতে হবে? নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, এল-সায়েদের লড়াই দেশটিতে মুসলিম আমেরিকানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও সমান নাগরিক মর্যাদা নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত