মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েও চাপে ট্রাম্প, বাইডেনের মতো একই সংকটে হোয়াইট হাউ
ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তার অভিযোগে ব্রিটেনে দুই নাগরিক অভিযুক্ত, তদন্তে নতুন মোড়
ছবিঃ ফাইল ফুটেজ
যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ডকে ঘিরে সন্দেহজনক ঘটনার তদন্তে ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তার অভিযোগে দুই ব্রিটিশ নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে গত সেপ্টেম্বরে বিমানঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক ভ্যান পাওয়ার ঘটনার যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে দেশটির কাউন্টার টেররিজম পুলিশ।
অভিযুক্ত দুজন হলেন ওয়েস্টমিনস্টারের ২৪ বছর বয়সী মোহমেদ আহমেদ আবদুলকরিম ও নোমান এসঘির। আবদুলকরিমের বিরুদ্ধে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, এসঘিরের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের স্বার্থের পরিপন্থী উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি গত ২২ আগস্ট ওই এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন। মঙ্গলবার তাঁদের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর গ্লস্টারশায়ারে অবস্থিত মার্কিন বিমানবাহিনী পরিচালিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে তিনটি সন্দেহজনক ভ্যান দেখতে পাওয়ার পর সেখানে বড় ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। আশপাশের কয়েক ডজন বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং বিমানঘাঁটির চারপাশে বিস্তৃত এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ।
তল্লাশির সময় ভ্যানগুলোতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। তবে সেখান থেকে কিছু পরিমাণ পেট্রল জব্দ করা হয়। ঘটনাটির প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে কোনো সংগঠিত তৎপরতার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
এসঘির ওই ঘটনার পর বিমানঘাঁটির কাছ থেকে আটক হওয়া পাঁচজনের একজন। প্রথমে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত আইনে অপরাধের সন্দেহে এবং পরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে তাঁদের আটক করা হয়। পরদিনই পাঁচজনকে পুলিশি জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে গত ২০ অক্টোবর এসঘিরকে আবারও আটক করা হয়।
একই দিনে ইরানের বংশোদ্ভূত ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নাগরিককেও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তার সন্দেহে পুনরায় আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ না এনেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে গত ১ অক্টোবর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে প্রথমবার আটকের পর থেকে তাঁর ওপর আরোপিত পুলিশি জামিনের শর্ত বহাল রয়েছে।
অক্টোবরে পুনরায় আটকের ঘটনাগুলোর পর তদন্তকারীরা আবদুলকরিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সব মিলিয়ে কাউন্টার টেররিজম পুলিশের এই তদন্তে এখন পর্যন্ত আটজনকে আটক করা হয়েছে।
কাউন্টার টেররিজম পুলিশের সহকারী কমিশনার লরেন্স টেলর বলেন, সেপ্টেম্বরে পাঁচজনকে পুলিশি জামিনে মুক্তি দেওয়ার পর তদন্ত নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশের তদন্তের কৌশল অনেক সময় বাইরে থেকে অযৌক্তিক মনে হতে পারে। বাস্তবে প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তিসংগত কারণ থাকে।
টেলরের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মামলায় পুলিশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া তদন্তে দ্রুত অগ্রগতি আনতে, আরও ভালো প্রমাণ সংগ্রহ করতে এবং শেষ পর্যন্ত অভিযোগ গঠন করতে সহায়তা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সেপ্টেম্বরে পাঁচজনকে মুক্তি দেওয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র হলে তাঁদের মুক্তি দিত না।
টেলর আরও জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এমন বেশ কিছু ঘটনার তথ্য পেয়েছে কাউন্টার টেররিজম পুলিশ, যেগুলো ইরান সরকারের নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে বলে তাদের ধারণা। তবে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ইরান আগেই অস্বীকার করেছে।
আরএএফ ফেয়ারফোর্ড কয়েক দশক ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর অগ্রবর্তী সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাজ্যের অনুমোদনের পর যুক্তরাষ্ট্র এই ঘাঁটি থেকে বি-১ ও বি-৫২ বোমারু বিমান মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছিল। ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক হামলার জন্য ঘাঁটিটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
সেপ্টেম্বরের সন্দেহজনক ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের বোমারু বিমানগুলো ফেয়ারফোর্ড থেকে সরিয়ে দেশে ফিরিয়ে নেয়। ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ঘাঁটিটির বিরুদ্ধে কিছু হুমকি থাকায় বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে কী ধরনের হুমকি ছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
তদন্তে দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হওয়ায় বিমানঘাঁটিকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতার সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগ গঠন মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়; মামলার পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন