যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট, ২০২০ ইং

|   ঢাকা - 01:51pm

|   লন্ডন - 08:51am

|   নিউইয়র্ক - 03:51am

  সর্বশেষ :

  হোয়াইট হাউসের বাইরে গুলি, ব্রিফিংয়ের মাঝপথে সরে গেলেন ট্রাম্প   সিনহা হত্যা: প্রদীপে চাপা পড়ছে লিয়াকতের অপকর্ম   দ্বিতীয় ধাপের প্রণোদনা পেতে পারেন যেসব মার্কিনিরা?   দ্বিতীয় অর্থ সহায়তা কবে পাচ্ছেন মার্কিনিরা?   আমেরিকার সবচেয়ে বড় ডিপার্টমেন্ট স্টোর কিনতে চায় অ্যামাজন   পদত্যাগ করেছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী   করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন অভিনেতা আন্তোনিও বান্দেরাস   ট্যাক্স ও রাজনীতির দুশ্চিন্তায় নাগরিকত্ব ছাড়ছেন মার্কিনিরা   বাল্টিমোরে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণ, একজনের মৃত্যু   ক্যালিফোর্নিয়ার পাবলিক হেলথ ডিরেক্টরের পদত্যাগ   জামিন পেলেন সিফাত   ‘স্যার, রিমান্ডটা কনসিডার করা যায় না’   ওসি প্রদীপের করা সব হত্যাকাণ্ডের বিচার চান অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা   ওয়াশিংটনে গোলাগুলি: নিহত ১,আহত ২০   করোনামুক্ত ১০০ দিন পার করলো নিউজিল্যান্ড

মূল পাতা   >>   কলাম

দোষ কি শুধুই পশ্চিমা সভ্যতার?

সামীর রূহানী

 প্রকাশিত: ২০২০-০৭-১৬ ১৫:০০:৪২

সামীর রূহানী: আমরা পশ্চিমাদের বর্ণবাদ তাদের কালচার নিয়ে ক্রিটিসাইজ করি অথচ আমরা কি জানি যে আমরা নিজেরা ঠিক কতটা হিপোক্রেট?
বাংলাদেশে শ্যামলা হলে সমস্যা খাটো হলে সমস্যা মোটা হলে সমস্যা চিকন হলে সমস্যা চুল কোকরা হলে সমস্যা চুল না থাকলে সমস্যা চোখ ছোটো হলে সমস্যা মুখে দাগ থাকলে সমস্যা নতুন জামা কাপড় না পড়তে পারলে সমস্যা ম্যাথ বা ইংলিশে দুর্বল হলে সমস্যা আর্টস নিয়ে পড়লে সমস্যা অসুস্থ থাকলে সমস্যা সত্য কথা বললে মানসিক সমস্যা আবার গরীব মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করা মানে এই দেশে আপনি জন্ম থেকেই মহাপাপী আর কথায় কথায় মানুষকে পাগল বলে হেয় প্রতিপন্ন করা নিত্যদিনের কাজ আমাদের এবং আপনি যদি কালো হন তাহলে আপনার সাথে সমাজ সহপাঠীরা এমন আচরণ করে তামাশা করে যে প্রতিনিয়ত মরে যাইতে ইচ্ছা করবে । মানে এক কথায় বাংলাদেশে জন্মালে আপনাকে রাজপুত্র রাজকন্যা হয়ে সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাতে হবে তাহলে আপনাকে মানুষের কাতারে গন্য করা হবে । বাংলা ভাষার জন্য এদেশে জান দেয়ার ইতিহাস আছে অথচ স্মার্ট ভাবে ইংলিশ বলতে না পারলে আপনি খ্যাত আপনি চাকরির যোগ্য না আশ্চর্য্য তাই না ? আপনি রাশিয়া জার্মানি জাপান চীন দক্ষিণ কোরিয়া তুরস্ক ইরান যান তাদের সাথে ইংলিশে কথা বলার চেষ্টা করেন তারা আপনার কথার উত্তর দিবে না । না তারা ইংলিশ জানে খুব ভালো ভাবে কিন্তু নিজেদের মাতৃভাষার প্রতি এসব জাতি এতটাই শ্রদ্ধাশীল যে আপনাকে তাদের সাথে কথা বলতে হলে শুধুমাত্র তাদের ভাষাতেই কথা বলতে হবে । অথচ তাদের তাদের কিন্তু নিজ ভাষার জন্য জান দেয়ার ইতিহাস নাই । আর এই আমরা ঠিক ভাবে ইংলিশ না জানলে অশিক্ষিত খ্যাত আনকালচার বলে ঠাট্টা উপহাস করি এমনকি দেশীয় চাকরির জন্যেও এক্সট্রা ভাবে ইংলিশের কোর্স করতে হয় তাহলে আমরা কি হিপোক্রেট না ? আমরা সারা বছরে একদিনের জন্য শহিদ মিনার স্মৃতিসৌধ বুদ্ধি জীবিদের বদ্ধভূমি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করি অথচ সারা বছর এইসব শ্রদ্ধা নিবেদনের স্থানে প্রেমিক প্রেমিকারা রগরগে অবস্থায় জড়াজরি করে স্যান্ডেল পড়ে উঠে লাফালাফি করে পাবলিক ময়লা আবর্জনা ফেলে এমনকি প্রশ্রাবের বিকট গন্ধে এসব স্থানের পাশ দিয়ে হাটা পর্যন্ত যায় না । অথচ পশ্চিমাদের শহিদ মিনার স্মৃতিসৌধ বদ্ধভূমিতে যেয়ে দেখেন সারা বছর একটা কাগজের টুকরা পর্যন্ত পড়ে থাকতে দেখবেন না । আমরা আমাদের পহেলা বৈশাখ নিয়ে চরম গর্ববোধ করি জাকজমক ভাবে উৎসব পালন করে সারা পৃথিবীকে জানাই কারণ এইটা আমাদের বাঙালী জাতির কালচার ঐতিহ্য । এছাড়া আমরা বাঙ্গালী নারীদের ইজ্জত মান মর্যাদা নিয়ে বড়ো বড়ো লেকচার দেই সভা সেমিনার সোশ্যাল সাইটে । অথচ আমরাই অয়েব সিরিজের নামে সেক্স কনটেন্ট বানিয়ে বাঙালি নারীদের কাপড় খুলে ফেলি বহি:বিশ্বের সামনে নিজেদের এমন কালচার উপস্থাপন করি যাতে বাঙালি নারীদের দেখে বিদেশীরা এসে " মাশাল্লাহ তুমি তো অনেক সুন্দর " না বলে বলবে যে " ইউ আর ফাকিং সো হট বেবি " তাই তো চাইছেন ? কারণ আপনি আপনার দেশকে কালচার কে সারা বিশ্বের সামনে যেভাবে উপস্থাপন করবেন ঠিক সেই ভাবে আমাদের কে তারা ট্রিট করবে তারা । তুরস্ক তাদের সুলতান সুলেমান দিরিলিস আরতুগ্রুল সিরিজ বানিয়ে সারা বিশ্বের সহ হলিউডের সব রেকর্ড ইতিহাস ভেঙে দিয়ে বিশ্ব সেরা খেতাব অর্জন করেছে সো তার জন্য কি তাদের কাপড় খুলতে হয়েছে ? তুরস্কের নারীদের মান মর্যাদা ইজ্জত নিয়ে বিশ্বের মানুষ কি প্রশ্ন করেছে ? সেক্স কি তাদের নাই ? আসলে আমরা নগ্নতা দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছি তাছাড়া অন্য কিছুই না । কপি পেস্ট গল্প দেখে দেখে দর্শক যখন অতিষ্ঠ কন্টেন্ট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে তখন সস্তা সেক্স সিন অশ্লীলতা দিয়ে তাদের আকর্ষণ করার বৃথা চেষ্টা করছি আফসোস । এই সস্তা অশ্লীলতার কারণেই বাংলা সিনেমা দর্শক হারিয়েছে ধবংস হয়েছে । এখন বাংলাদেশের টিভি ইন্ডাস্ট্রি ধবংস করার ষড়যন্ত্র করছে সবাই । কাপড় খুলেই যদি বিশ্ব জয় করা যেতো তাহলে 236 + দেশের 100 + সমৃদ্ধ শোবিজ ইন্ডাস্ট্রি তাদের কাপড় খুলে খুলে সবাই এতদিনে বিশ্ব সেরা হয়ে যাইতো । বিশ্ব সেরা হতে শক্তিশালী প্লট গল্প আর মেকিংএর দরকার হয় সস্তা সেক্স না । আবার পশ্চিমাদের নববর্ষ উৎসব উপলক্ষে মদ খেয়ে পার্টি করে রাস্তায় নারীদের যৌন হয়রানি করে বড়ো বড়ো হোটেলে রাত্রিযাপন করে আমরা বলি যে পশ্চিমারা খারাপ দুনিয়াটা নষ্ট করে দিলো হাস্যকর ঠিক না ? আপনি নিজ দেশ নিজ জাতি নিজ সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে সেটার সঠিক মূল্যায়ন না করতে জানলে পৃথিবীর কোনো দেশ কোনো জাতি আপনাকে সম্মান জানাবে না দাম দিবে না । কারণ বিশ্বের প্রতিটা জাতি প্রতিটা দেশের আলাদা আলাদা নিজস্ব কৃষ্টি কালচারের বৈচিত্রের জন্য তারা সমৃদ্ধশালী এবং বিখ্যাত । এদিকে আবার আমরা নেটফ্লিক্সের এক্সট্রাকশান মুভি নিয়ে সমালোচনার ঝড় তুলে দেই কারণ সেখানে সারা বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের কালচার সিস্টেম কে নষ্ট দুর্নীতিগ্রস্থ অপরাধ প্রবন জাতি হিসাবে দেখানো হয় । অথচ এই আমরাই আজ করোনার মতন বিশ্ব মহামারীতে একের পর এক দুর্নীতি করে সারা বিশ্বের বড়ো বড়ো সংবাদ সংস্থার হেডলাইন হই এবং দিনশেষে বাংলাদেশীদের জন্য ইউরোপের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় । বাংলাদেশের পাসপোর্টের ডিমোশন হয় । মানে এক্সট্রাকশান মুভিতে সারা বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশ সম্পর্কে যা কিছু দেখেছে জেনেছে সেটাতে আমরা পারমানেন্ট ভাবে একটা সিলমোহর লাগিয়ে দিয়েছি এখন সো আপনি বাঙালি হিসাবে কেমন প্রাউড ফিল করছেন ? আমরা পর্ণ সাইট বন্ধ করতে পারি কিন্তু দুর্নীতি বন্ধ করতে পারি না । আমরা অস্ট্রিয়ার এক বদ্ধ উন্মাদ যে দেশ নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাকে সাপোর্ট দিয়ে দিয়ে সেলিব্রেটি বানায় ফেলি অথচ দেশের আনাচে কানাচে থেকে যখন কেউ কিছু আবিষ্কার করে তখন সেটা হাইলাইটস করে তাকে ইনভেস্ট করে সাপোর্ট দিয়ে দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারি না অসাধারণ । তাহলে দোষ কি শুধুই পশ্চিমা সভ্যতার নাকি আমাদের অসভ্যতা বলেও কিছু আছে ?
আপনারা বলতে পারবেন বাংলাদেশে ঠিক কতজন মানুষ আরেকজন মানুষের সঠিক নাম ধরে ডাকে ? কেউ একটু খাটো কালো টাক চুল কম মোটা চিকন বা দেখতে অসুন্দর কিংবা স্টাডিতে দুর্বল হলেই তাকে নিয়ে উপহাস করার জন্য ঠাট্টা তামাশা করার আলাদা করে একটা বিদ্রুপাত্বক নাম দিয়ে ডাকাডাকি করি তাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করি সবসময়ই । তাহলে আমরা জাতি হিসাবে ঠিক কতটা বর্ণবাদী ? পশ্চিমারা তো অন্তত মানুষকে মানুষ হিসাবে সম্মান দিতে যানে প্রতিভার মূল্যায়ন করতে যানে । আমরা আমাদের জন্মদিন বিয়েতে পর্যন্ত পরিচিত মানুষ কিংবা বন্ধু বান্ধবদের দাওয়াত দেয়ার সময় ভাবি যে কে কোন স্টাটাসের কার কত টাকা আছে কে দামি গিফট দিতে পারবে তারপর ঠিক করি যে কাকে কাকে ইনভাইট করবো । এসব তো কিছুই না । যার টাকা আছে যে সুন্দরী যে একটু ক্ষমতাবান তাদের জন্মদিনে বা বিশেষ বিশেষ দিনে বিশেষ উপহার সহ শুভেচ্ছা জানাই অথচ যে পরিচিত মানুষ কিংবা বন্ধু বান্ধবীটা একটু গরীব অসুন্দর যার ক্ষমতা নাই তার জন্মদিনে উপহার তো দূরে থাক সামান্য শুভেচ্ছা পর্যন্ত জানাই না । এখানেই শেষ না । সমাজে ধনী ঘরের ছেলে মেয়েরা নেশা করে মদ খেয়ে অসুস্থ হলে এলাকার মানুষ আফসোস করে বলে বেচারা না খেয়ে খেয়ে এমন হয়ে গেছে । কিন্তু একটা মধ্যবিত্ত গরীব ঘরের ছেলে মেয়ে অসুস্থ হলে বলে যে নেশাটেশা করে রোগে ধরেছে । অথচ এরা এসব বলার সময় ভাবে না যে বাংলাদেশে একটা মধ্যবিত্ত গরীব ঘরের সন্তানের নেশা করতে যে টাকা লাগে ধনীদের মতন সেই টাকা তাদের থাকে না এবং সেই নেশার টাকায় তাদের একমাসের গোটা পরিবারের সংসার খরচ চালানো সম্ভব । হ্যা আমরা জাতি হিসাবে মন মানসিকতার দিক থেকে ঠিক এতটাই নিচে নেমে গেছি আজ । পশ্চিমারা এত নিচ মন মানসিকতার না । তারা মানুষ কে শুধুমাত্র মানুষ হিসাবে সম্মান করতে জানে । বাংলাদেশের সমাজ থেকে এখনো পর্যন্ত শ্রেণী বৈষম্য দূর হয় নাই সেখানে বর্ণবাদ দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে । আমাদের দেশের সরকারের সিস্টেম পর্যন্ত এদেশের গরীব এবং মধ্যবিত্তদের মানুষের কাতারে ফেলে না । আমরা আমাদের মৌলিক অধিকার হতে বঞ্চিত । করোনার মতন বিশ্ব মহামারীর সময়ে যে দেশে এক তৃতীয়াংশ মানুষ মধ্যবিত্ত এবং গরীব শ্রেণীর মাঝে বসবাস করে ও ভাইরাস বিপর্যয়ের দরুন সবার আয় রোজগার বন্ধ হয়ে পড়েছে সে দেশে 200 - 500 টাকা করে অনৈতিক ভাবে জোরপূর্বক টেস্টের জন্য জনগণের কাছে আদায় করছি যা সারা পৃথিবীতে এক বিরল হয়ে লিখা থাকবে । এতে হয়ত বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড মিটারে আক্রান্তের সংখ্যা কম দেখাতে পারবে কিন্তু বিনা চিকিৎসা ও সঠিক মেডিক্যাল গাইড লাইনের অভাবে মানুষের মৃত্যু থেমে থাকবে না কারণ মানুষ টাকার অভাবে টেস্ট না করিয়ে অসচেতন ভাবে সমাজে একে অপর কে নিজের অজান্তে সংক্রমিত করতে থাকবে । আসলে এদেশে বাচার অধিকার শুধুমাত্র ধনীদের জন্য । টাকা না থাকলে তুমি সব অধিকার থেকে বঞ্চিত সিম্পল কথা । মনোবিদ্যাতে Crab Mentality নামের একটা টার্ম আছে । আক্ষরিক অনুবাদে এটার মানে হচ্ছে কাঁকড়ার মানসিকতা এবং আমাদের দেশের সিংহভাগ মানুষের সাইক্লোজি ঠিক এমন । আপনি অনেক গুলা কাঁকড়াকে একটা ঝুড়িতে রেখে খেয়াল করলে দেখবেন যে একজন উপরে উঠার চেষ্টা করলে হঠাৎ আরেকজন তাকে পেছন থেকে টেনে কামড়ে ধরে আবার নিচে ফেলে দিচ্ছে । এই জিনিসটা দেশের মানুষের পার্সোনালিটিতে প্রচন্ডভাবে দেখা যায় । আসলে Crab Mentality ওয়ালা মানুষের জীবনের আসল থিম হয় " আমার যেহেতু এটা হয়নি তোমারো না হোক বা কেনো হবে " অথবা " আমি যেহেতু এটা পারিনা সো তুমিও এটা পারবানা বা কেনো পারবা " এইরকম । এই জিনিসটা ঠিক হিংসা না । মনোবিজ্ঞানীরা বলেন যে এটা একধরণের নিকৃষ্ট মানসিকতা । এ ধরনের Crab Mentality এর মানুষদের illusory Superiority নামের আরেকটা মানসিক সমস্যা থাকে । এটা হল সবসময় " আমিই সেরা " বা " আমিই ঠিক " অথবা " আমিই আদর্শ " এরকম ভেবে নেয়ার প্রবণতা । অথচ উন্নত বিশ্বের জাতি হওয়ার প্রধান শর্ত হচ্ছে " আমরাই সেরা " বা " আমরাই ঠিক " অথবা " আমরাই আদর্শ " । সোজা কথা হচ্ছে আমাদের " আমিত্ব " ব্যক্তিত্ব মনোভাব অপসারণ করে " ঐক্যবদ্ধ " ভাবে দেশের জন্য কাজ করতে হবে । কিন্তু আমরা সমাজ থেকে যখন কেউ প্রতিভাবান বড়ো হতে চায় বিখ্যাত হতে চায় তখন তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হই তাকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে দেই তাকে শারিরীক ভাবে আঘাত করার চেষ্টা করি আর যখন এসব করেও বাধা দিতে না পারি তখন ব্লাক ম্যাজিক বা কুফরি কালাম করে তাকে শেষ করে দেই । আর পশ্চিমা বিশ্বে কেউ কিছু করতে চাইলে তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা এবং সম্মান মর্যাদা প্রদান করা হয় । এছাড়া আপনি খুব সুক্ষ ভাবে খেয়াল করলে দেখবেন আমাদের সবার আশেপাশে সবসময় কিছু চরম হতাশ আর হিংসুটে টাইপ মানুষ থাকে । এই মানুষগুলাকে আপনি কখনো আগে থেকে চিনতে পারবেন না । এরা অনেকটা লুকিয়ে থেকে আপনি ফেসবুক টুইটার ইন্সটাগ্রামে কখন কোন ছবি বা লিখা পোস্ট করছেন সবকিছু চুপচাপ দেখবে কিন্তু কোনো রিয়েক্ট করবে না । ভালো-খারাপ কিচ্ছু বলবে না । আপনি কখনো টেরও পাবেন না যে এরা আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে আছে । আপনি কোথায় যাচ্ছেন অথবা কার সাথে কী খাচ্ছেন বা কী ড্রেস পরছেন কিংবা কার সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন এরা সব জানে । এমনকি আপনার পোস্টে কে কোন রিয়েক্ট করছে সেটাও এদের মুখস্থ থাকবে । ক্রিমিনাল সাইক্লোজির গুপ্তচর হয়ে আপনার সবকিছু দেখবে আর মনে মনে জ্বলবে । এমনকি একসময় বলবেও । আপনাকে একটু বেকায়দা অবস্থায় পেলেই বলবে জ্বলে উঠবে আপন শক্তিতে । মনে করেন আপনার কোনো লিখা পোস্টে অথবা ড্রেসআপ স্টাইল নিয়ে কেউ সমালোচনা করছে ঠিক তখনি সুযোগ বুঝে এইসব চুপচাপ লুকিয়ে থাকা বন্ধুত্বের মুখোশ পড়া মানুষগুলা তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আপনার উপর চরম আক্রোশে হামলে পড়বে আপনাকে ছিড়ে খাওয়ার জন্য তাদের লালিত বিষদাঁত বসিয়ে দিবে আপনার উপর স্বযত্নে । আপনাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে তারা আপনার সফলতা মেনে নিতে পারছে না । আপনার সম্মান মান মর্যাদা মাটির সাথে মিশিয়ে ফেলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে । এরা আপনার ছবি কিংবা পোস্টে রিয়েক্ট না দিলেও আপনাকে যদি কোনো বিখ্যাত ব্যক্তি ক্ষমতাসীন মানুষ কোনো কিছু ট্যাগ করে তাহলে সেইখানে এসে ঠিকই আপনাকে টপকে লাইক কমেন্ট করে সেই মানুষটার সংস্পর্শে যাবার চেষ্টা করবে । এদের এসব কাজকর্ম দেখে আপনি অবাক হতভম্ব হয়ে যাবেন । আপনার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে । মনে মনে ভাববেন এই মানুষটাকে আপনি কত না ভালোবাসতেন বিশ্বাস করতেন অথচ সে আপনার ফ্রেন্ডলিস্টেই ছিল । এদেরকে ভালো ভাবে চিহ্নিত করে রাখুন কারণ এরাই আপনার ভবিষ্যত সফলতার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াবে । ব্যাপারটা এমন না যে এইসব মানুষদের সাথে আপনার কোনো শত্রুতা আছে । না কিছু নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব আছে । কিন্তু তারপরেও এরা এমন করবে । কারণ একটাই হচ্ছে এরা আপনার লাইফটাকে হিংসে করে । আপনার লাইফস্টাইল সফলতা অর্জন দেখে এরা জ্বলে পুড়ে যায় । অথচ এরা আপনার ক্ষতি সাধন করা ছাড়া নিজেকে ডেভেলপ করা চিন্তা মাথাতেই আনবে না । যারা এইসব মানুষের আক্রমণের স্বীকার হয়েছে তারাই জানে এরা ঠিক কতটা ভয়ংকর । এই চরম হতাশ ডিপ্রেসড হিংসুটে মানুষদের কিছু বলার নাই । এরা আজীবনের একে অন্যের দোষ ত্রুটি নিয়ে তামাশা করবে সমালোচনা করবে আর নিজেরা যেখানে ছিলো ঠিক সেখানেই সারাজীবন পড়ে থাকবে । এইসব মানুষের জন্য কখনো থেমে থাকবেন না । গভীর ভাবনায় আটকে যাবেন না জাস্ট আগাছা পরজীবী পরগাছা ভেবে ইগনোর করে যান নিজের টার্গেটে পৌছানো পর্যন্ত । আপনাদের সোস্যাল সাইটের উদাহরণ দিলাম কারণ বাংলাদেশের মানুষের জীবন এখন সোস্যাল সাইট নির্ভর হয়ে গেছে । তারা তাদের বেডরুম বাথরুম থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনের সবকিছুই সোস্যাল সাইটে পাবলিকের কাছে এক্সপোজ করে দেয় আর বলে যে পশ্চিমা সভ্যতা দেশটাকে ধবংস করলো হাস্যকর । পশ্চিমারা কখনো তাদের ব্যক্তিগত জীবন পাবলিকের সামনে এভাবে এক্সপোজ করে না বোকার মতন । তারা জানে ভার্চুয়াল জগত সম্পূর্ণ ফেক এবং সময় নষ্ট করার জায়গা । তারা শুধুমাত্র অবসর সময়ে ভার্চুয়াল জগতে বসবাস করে । আর আমাদের কাছে ভার্চুয়াল লাইফটাই জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে । এমনকি আমরা কোনো ব্যক্তি বিশেষের প্রতিভা দক্ষতা তার সোস্যাল সাইটের লাইক কমেন্ট আর ভিউ এর উপর নির্ভর করে মূল্যায়ন করি যেটা আসলে একটা সমাজ দেশ এবং জাতির উন্নত মেধা বিকাশের মস্তিষ্ক বিকৃতির প্রধান মাধ্যম হয়ে দাড়িয়েছে । যাইহোক জীবনে যেটাই করেন না কেনো সবকিছুর একটা নির্দিষ্ট লিমিট রেখে কাজ করুন । দেখবেন ঠেকবেন না কখনো । আর আপনি গরীব মধ্যবিত্ত মোটা কালো খাটো অসুন্দর টাক বলে অযথা নিজেকে দোষারোপ করবেন না এদের মতন কিছু অসামাজিক জীবের জন্য । আপনি একজন মানুষ আর এইটাই আপনার সবচাইতে বড়ো পরিচয় ।

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ২১২ বার

আপনার মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত