যুক্তরাষ্ট্রে আজ শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 01:09pm

|   লন্ডন - 08:09am

|   নিউইয়র্ক - 03:09am

  সর্বশেষ :

  নিউইয়র্কে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা   লন্ডনে বিক্ষোভের মুখে মোদি   কোটা সংস্কার আন্দোলন: ঢাবি ক্যাম্পাসজুড়ে ভীতি   কোচিং ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে পদত্যাগ করলেন ছাত্রলীগ নেতা রনি   খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারলেন না বিএনপি নেতারা   প্রবাসীদের ভোটাধিকার দিতে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে: সিইসি   ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, ধসে পড়েছে শতাধিক বাড়িঘর   সৌদিতে সিনেমা হল উদ্বোধন   কিমের সঙ্গে আলোচনা সফল না হলে পদত্যাগ : আবেকে ট্রাম্প   টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় শেখ হাসিনা   বিশ্বের ৯৫ শতাংশ মানুষ দূষিত বায়ু গ্রহণ করছে   বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভারত   আরবদের বিরুদ্ধে আরবেদরই কাজে লাগাতে চাইছেন ট্রাম্প   বিসিবির চুক্তি থেকে বাদ সৌম্য-তাসকিন-সাব্বির   সৌদিতে আবার সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সাত বাংলাদেশির মৃত্যু

মূল পাতা   >>   বহিঃ বিশ্ব

ভারতীয় গোয়েন্দাদের ‘ঘুম কেড়েছেন’ ইউক্রেন সুন্দরী

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৪-১৩ ১০:৪১:৩১

নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেন সুন্দরী দারিয়া মোলচা এখন ঘুম কেড়েছেন ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের। এই ইউক্রেনিয়ান তরুণী দারিয়া মোলচা কি কোনও বিদেশি গুপ্তচর, না নিছক যৌনকর্মী?

এ মাসের শুরুতেই দারিয়াকে উত্তর প্রদেশের গোরখপুর থেকে গ্রেপ্তার করে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।

দারিয়ার কাছ থেকে পাওয়া মোবাইল ফোন থেকেই সামনে আসে এ রাজ্যের এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার কথা।

জানা গিয়েছে, পশ্চিম এশিয়া, চীন সমেত একাধিক দেশে তার যাতায়াতের তথ্যও।

ভারতে আসার আগে দীর্ঘদিন চীনে কাটিয়েছিলেন ইউক্রেনের তরুণী দারিয়া মোলচা। আর এই চীন ভ্রমণই এখন সবচেয়ে বেশি মাথাব্যথার কারণ ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের কাছে।

দারিয়ার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দু’টি মোবাইল ফোন আর আইপ্যাড ঘেঁটে গোয়েন্দারা একটি বিষয় নিশ্চিত।

রাজ্য পুলিশের যে শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ ছবি পাওয়া গিয়েছে, সেই পুলিশ কর্তার সঙ্গে তার যোগাযোগ আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে। সেই সময় একটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এই পুলিশ কর্তা।

উত্তর প্রদেশ পুলিশের তদন্তকারীরা ছাড়াও, দারিয়াকে জেরা করছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তাকে জেরা করে, গোয়েন্দারা এখন নিশ্চিত যে, দারিয়া নিছক এসকর্ট নয়। ষড়যন্ত্রের বীজ আরও গভীরে।

‘পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে একাধিক শীর্ষ আমলার ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন দারিয়া। আর সেটা শুধুমাত্র টাকার জন্য নয়’— দাবি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তার। দারিয়ার আইপ্যাড এবং মোবাইলে দিল্লি পুলিশ এবং কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের প্রচুর প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত এক বছর ধরে দিল্লির যে ব্যবসায়ী মুহাম্মদ ইসপাস কাসিফের নিউ ফ্রেন্ডস‌ কলোনির বাড়িতে ছিলেন দারিয়া। সেই বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।

জেরা করা হয়েছে ইসপাস এবং গোরখপুরের ব্যবসায়ী অনুজ পোদ্দারকেও। এই দুজনকে জেরা করেই জানা গিয়েছে দিল্লির ‘পাওয়ার করিডরের’ একাধিক হোমরা-চোমরার সঙ্গে ‘সময়’ কাটিয়েছেন দারিয়া।

দারিয়ার আইপ্যাডে পাওয়া কয়েকটি চ্যাট অ্যাপসের কিছু যোগাযোগের ধরন দেখে গোয়েন্দাদের সন্দেহ, দারিয়ার দু’দফায় ভারতে আসা, পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা- সব কিছুর পিছনে তার চীনে থাকার যোগাযোগ রয়েছে।

২০১৬ সালে চীনে জি-২০ সম্মেলনের সময় পশ্চিমা দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সতর্ক করেছিল চীনা গোয়েন্দা সংস্থার পাতা হানিট্রাপের বিষয়ে। আর ঠিক সেই বছরই ভারতে এসেছিলেন দারিয়া। দিল্লির একটি মডেলিং সংস্থায় কাজ নেন তিনি।

সময়টা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, ইঙ্গিত এক শীর্ষ গোয়েন্দার। ‘যৌনতাকে ব্যবহার করে চরবৃত্তিতে এক সময় কুখ্যাত ছিল রুশ গোয়েন্দা সমস্থা কেজিবি। কিন্তু গত এক দশকে কেজিবির থেকেও এ বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠেছে চীনা গোয়েন্দারা’— বলেন সেই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

তিনি এটাও উল্লেখ করেন, ঠিক ওই সময়েই ভারতের মডেলিংয়ের বাজারেও হঠাৎ করেই ভিড় বাড়ে বিদেশি মডেলদের। যাদের অধিকাংশই সাবেক সোভিয়েতের বিভিন্ন দেশের বাসিন্দা। মডেলিং পেশাকে হাতিয়ার করেই রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত পার্টিতে যাতায়াত শুরু করে দারিয়া। সেখান থেকেই আলাপ দিল্লির ব্যবসায়ী ইমশামের সঙ্গে। দারিয়া দ্রুত হিন্দিও শেখে। ইউক্রেনের বাসিন্দা হলেও দারিয়া হিন্দি ভালোই বোঝে। ভাঙা ভাঙা হিন্দি বলতেও পারে। এ রকমই পার্টিতে আনাগোনার সূত্রে আলাপ পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের এই আইপিএস কর্মকর্তার সঙ্গে। রাজধানীর পার্টি সার্কেলে ওই আইপিএস খুব পরিচিত মুখ। তখন তিনি দিল্লিতেই কর্মরত। দারিয়া দ্রুত ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় এই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে।

আর এই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গী হয়েই যাতায়াত বাড়ায় অন্যান্য পার্টিতে। ওই পার্টিগুলোতে রাজধানীর একাধিক শীর্ষ আমলা, সেনা কর্মকর্তারা নিয়মিত যাতায়াত করতেন।

দারিয়ার ব্যবসায়ী বন্ধুকে জেরা করে গোয়েন্দারা জেনেছেন, বেশ কয়েকবার বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে বিনা নথি ও পরিচয়পত্রে দারিয়ার থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে এক এডিজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে গোটা বিষয়ের তদন্তে লিয়াজ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তার মাধ্যমেই এই পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে দারিয়া সম্পর্কে কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চেয়েছেন গোয়েন্দারা।

যেমন- গত আড়াই বছরের আলাপে দারিয়া এই পুলিশ কর্মকর্তাকে কিছু উপহার দিয়েছেন কিনা, বা দিয়ে থাকলে তার মধ্যে কোনও ইলেকট্রনিক গ্যাজেট আছে কিনা এবং সেগুলো তিনি এখনও ব্যবহার করেন কিনা। দারিয়াকে নিয়ে তিনি কোথায় কোথায় গিয়েছেন এবং কার কার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন তা-ও জানতে চেয়েছেন তদন্তকারীরা। জানতে চাওয়া হয়েছে সেই ব্যক্তির কথা, যার মাধ্যমে দারিয়ার সঙ্গে তার আলাপ।

দারিয়ার বন্ধু ব্যবসায়ী অনুজ পোদ্দার তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, নেপাল হয়ে দুবাই যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।

জেরায় দারিয়ার দাবি, দুবাইয়ের মডেলিং এবং এসকর্ট সার্ভিসে যোগ দেয়ার জন্যই তিনি যাচ্ছিলেন। কিন্তু এখনও দারিয়ার দুবাই যোগ নিয়ে কোনও তথ্যই উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ঠিক একইভাবে চীন সম্পর্কিত সব প্রশ্নই এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

গোয়েন্দাদের দাবি, দারিয়া গোটা ষড়যন্ত্রে বোড়ে মাত্র। তাদের সন্দেহ দারিয়ার মূল হ্যান্ডলার এ দেশেই রয়েছে। তাকে চিহ্নিত করতে পারলেই হদিস মিলবে গোটা পরিকল্পনার।

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৯৩৩ বার

আপনার মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত