যুক্তরাষ্ট্রে আজ শনিবার, ২৫ মে, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 02:11am

|   লন্ডন - 09:11pm

|   নিউইয়র্ক - 04:11pm

ব্রেকিং নিউজ >>   আমি ইফতারে যাব : মমতা

  সর্বশেষ :

  সংবিধান সমুন্নত রাখতে জনগণের ঐক্য প্রয়োজন: ড. কামাল   আমি ইফতারে যাব : মমতা   ইফতারে যোগ দিয়ে চমকে দিলেন নেদারল্যান্ডসের রাজা   শেখ হাসিনার নির্দেশ উপেক্ষা করে দলের বিরুদ্ধে শাজাহান খান   মোদির জয়ের পরই ভারতে নারীসহ ৩ মুসলিমকে নির্যাতন   ইরানকে ঠেকাতে সৌদিকে অস্ত্র দিচ্ছেন ট্রাম্প   প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী পেতে পারে ব্রিটেন!   এবারের বাজেট ৫ লাখ কোটি টাকার ওপরে: প্রধানমন্ত্রী   শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণে সিডনিতে শোক   পদত্যাগ করছেন রাহুল গান্ধী   খালেদার মুক্তির সঙ্গে সংসদে যোগ দেয়ার সম্পর্ক নেই : ফখরুল   ভারতের নতুন সরকারের আমলে তিস্তা চুক্তি হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী   পশ্চিমবঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ, বিজেপি নেতা গুলিবিদ্ধ   পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন থেরেসা মে   মোদির গুজরাটে ভয়াবহ আগুন, নিহত ১৮

মূল পাতা   >>   লস এঞ্জেলেস

লস এঞ্জেলেস প্রবাসী যুবকের সাথে বিয়ের নামে এক নারীর প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-০৩ ১৭:১৪:১৬

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিয়ে করে আমেরিকায় এসে লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশী আমেরিকান যুবকের সাথে ভয়ংকর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এক মেয়ের বিরুদ্ধে। নানা ছলচাতুরী করে মার্কিন মুল্লুকে এসে মাস দেড়েকের মাথায় স্বামীকে ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন এই মেয়ে। এর মধ্যে স্বামীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি এমনকি পুলিশ কল করে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে ফাঁসানোর চেষ্টাও করেছেন তিনি। এ নিয়ে লস এঞ্জেলেস কমিউনিটিতে চলছে গুঞ্জন ও নানা আলোচনা-সমালোচনা।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, গোপালগঞ্জের অধিবাসী লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশী আমেরিকান রুমান শিকদার ২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর দেশে গিয়ে বিয়ে করেন। সেসময় তিনি একই জেলার মান্দারতলা এলাকার কে.এম কবিরের মেয়ের সাথে পরিবারের সম্মতিতে সামাজিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পরপরই স্ত্রী রুমানকে আমেরিকায় ফিরে এসে তাকে নেওয়ার জন্য এপ্লাই করতে চাপ শুরু করেন। স্ত্রী বলেন, এপ্লাই করে আবার দেশে চলে আসবেন। আমরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাফেরা করব, ইনজয় করব। রুমান স্ত্রীর চাপাচাপিতে বিয়ের মাত্র কয়েকদিন পর আমেরিকা ফিরে এসে এপ্লাই করেন। এরপর আবার দেশে ফিরতে চাইলে স্ত্রী তাকে বাধা দিয়ে বলেন, আমার ভিসা হয়ে গেলে একবারে এসে আমাকে নিয়ে যাবে। এখন আসার দরকার নাই। এভাবে কেটে যায় তিন বছর।

ভিসা হওয়ার পর রুমান দেশে ফিরতে চাইলে স্ত্রী তাকে তখনও বাধা দিয়ে বলেন, এখন আসর কী প্রয়োজন? আমি তো চলেই আসব। এভাবে নানা ছলচাতুরী করে রুমানকে দেশে যেতে না দিয়ে আমেরিকা আসেন ঐ নারী। এসেই স্বামীর সাথে অদ্ভূত আচরণ শুরু করেন। তখন রুমানের পরিবার বুঝতে পারেন যে, ঐ নারী শুধু আমেরিকা আসার লোভে রুমানকে বিয়ে করে। এসে এখন ভিন্ন পথে হাঁটছে।

বিয়ের দিন মেয়ের সাথে বাবা কে.এম কবির।
রুমানের মামা লস এঞ্জেলেস কমিউনিটির পরিচিত মুখ কামাল খান এলএ বাংলাটাইমসকে জানান, সকল প্রসেসিং শেষে গত ১৫ আগস্ট রুমানের স্ত্রী লস এঞ্জেলেসে আসে। তার আগমন উপলক্ষে রুমান আলাদা বাসা ভাড়া করে, বাসায় নতুন ফার্নিচার ও সাংসারিক জিনিসপত্র কিনে। আরও অনেক খরচ করে স্ত্রীর জন্য নানা আয়োজন করে। কিন্তু মেয়েটি এখানে আসার পর বদলে যায়। রুমানকে সে স্বামী হিসেবে কোনো পাত্তাই দিতে চাচ্ছে না। দুজনের বুঝাপড়ার জন্য নানা চেষ্টা করে রুমান। এমনকি তাকে নিয়ে সম্প্রতি মেক্সিকো থেকে ঘুরে আসে। কিন্তু কিছুতেই কাজ হয়নি। এ নিয়ে আমরা আত্মীয়-স্বজনরা সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে হয়ে পড়ি। নানাভাবে চেষ্টা করি তাকে স্বাভাবিক করতে। এরমধ্যে হঠাৎ একদিন বাসায় দুজনের কথাকাটি হয়। এই সুযোগে মেয়েটি পুলিশে কল দেয়। পুলিশ আসার পর সে মিথ্যা অভিযোগ করে, রুমান নাকি তাকে মারধর করেছে। এক পর্যায়ে পুলিশ তার মিথ্যা ধরে ফেললে জিজ্ঞেস করে, তোমাকে যে মেরেছে এর কোনো প্রমাণ কি আছে? তোমার গায়ে তো আঘাতের কোনো চিহ্ন নাই। তখন চালাকি করে মেয়েটি আবার বলে, সে নাকি ভারী জ্যাকেট পরেছিল। এরপর পুলিশ তাকে বলে, সে যে তুমাকে মেরেছে, তুমিও কি তাকে মেরেছে? যদি তা হয়ে থাকে তাহলে আমরা দুজনকে এরেস্ট করব। এই কথা শুনে মেয়েটি ভয় পেয়ে মারার কথা অস্বীকার করে।

মেয়েটি আরও অভিযোগ করে যে, রুমান নাকি তাকে বাসার ভিতরে আটকে রেখেছিল। অথচ এখানে বাহির থেকে দরজা আটকানোর কোনো পদ্ধতি নেই। এই অভিযোগও আমলে নেয়নি পুলিশ। তখন পুলিশের কাছে সে আলাদা হওয়ার জন্য আবেদন করে। পুলিশ তাকে স্বামীর কাছ থেকে আলাদা করে দেয়।

মেয়ের বাবা কে.এম কবিরের বিরুদ্ধে দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক প্রথম আলো ও সমকালে প্রকাশিত সংবাদ।

কামাল খান আরও বলেন, আমরা অনকে আশা-ভরসা নিয়ে ভাগনাকে বিয়ে করিয়েছিলাম। কিন্তু দুশ্চিরত্রা এই মেয়েটির কারণে আমার ভাগনার জীবনটা কষ্টের মধ্যে পড়ল। আমরা এখন খুঁজ নিয়ে জেনেছি, এই মেয়েটি বিয়ের আগেও ভালো ছিল না। ওর পরিবারের ব্যাকগ্রাউন্ডও তেমন ভালো নয়। নানা ধরণের অভিযোগ পাচ্ছি তার পরিবার সম্পর্কে। তার বাবাও একজন টকবাজ ও প্রতারক হিসেবে এলাকায় অভিযুক্ত। সে বিভিন্ন সময় মানুষের জমি দখল ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন জঘন্য কাজে জড়িত। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে দেশের জাতীয় দৈনিকে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। বর্তমানে তার পরিবার পলাতক রয়েছে। 

মেয়ের পরিবারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
কামাল খান বলেন, এখন মেয়েটির স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে প্রচুর আপত্তিকর তথ্য আমরা পাচ্ছি। আমরা জানতে পারছি, সে তার বয় ফ্রেন্ডের পরামর্শে এসব করছে। বিয়ে-শাদি এসব করেছে শুধু আমেরিকায় আসার জন্য। তাই এসেই সে এমন সিন ক্রিয়েট করেছে।

কামাল খান আক্ষেপ করে বলেন, আমার ভাগনাটা অত্যন্ত নীরিহ ও গম্ভীর স্বভাবের ছেলে। কিন্তু মেয়েটিকে বিয়ে করে সে আজ মহাযন্ত্রণার মধ্যে পড়েছে।

মেয়ের বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র।
কামাল খান জানান, মেয়েটির বিরুদ্ধে ইমিগ্র্যাশনে জানিয়ে রাখা হয়েছে এবং এখানে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আইনজীবি নিয়োগ করা হচ্ছে। দেশেও তার বাবা-মা’সহ পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে এমন ঘটনায় নানা গুঞ্জন চলছে কমিউনিটিতে। অনেকে মেয়েটির পরিবার ও তাকে নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন। তার এহেন জঘন্য কাজের জন্য ধিক্কার জানাচ্ছেন।

কামাল খান কমিউনিটির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। আর কোনো পরিবার যাতে এমন প্রতারণার শিকার না হয়- এদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সম্পর্ক করতে গেলে ভালো করে খুঁজ নিয়ে সম্পর্ক করা উচিত।


এলএবাংলাটাইমস/এল/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৯১০৭ বার

আপনার মন্তব্য