যুক্তরাষ্ট্রে আজ সোমবার, ১৭ Jun, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 11:33pm

|   লন্ডন - 06:33pm

|   নিউইয়র্ক - 01:33pm

  সর্বশেষ :

  নিউজিল্যান্ডে উড়োজাহাজের সংঘর্ষে ২ পাইলট নিহত   কী কথা হলো মোদি-ইমরানের?   ঢাকায় বস্তিতে সাড়ে ৬ লাখ মানুষের বাস   দুর্ঘটনায় মৃত্যু নয়, সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা করা হয় : মির্জা ফখরুল   উজবেকিস্তান পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি   মোহাম্মদ বিন সালমানের বোন ফ্রান্সে বিচারের মুখোমুখি   ‘ইমরান খান ধর্মের প্রতি আন্তরিক’   দুর্নীতি ও অর্থ পাচার নিয়ে সংসদে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ   প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাবুনগরীর প্রতিবাদ   চট্টগ্রামে ১০ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশের এসআই আটক   নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন ক্রাইস্টচার্চে হামলাকারী   ওমান উপসাগরে ট্যাংকারে হামলায় ইরান দায়ী: মার্কিন সামরিক বাহিনী   আবারও সৌদি বিমানবন্দরে হুতিদের হামলা   ঋণনির্ভর বাজেট জনগণের পকেট কাটবে: ফখরুল   প্রয়োজনেই বড় বাজেট: প্রধানমন্ত্রী

মূল পাতা   >>   লস এঞ্জেলেস

পরিকল্পনামন্ত্রীকে নিয়ে বাফলার ১৩তম প্যারেড ও ফ্যাস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৪-০৫ ১৬:৪৬:৩০

প্যারেডের ফ্লটে অতিথিরা।

নিউজ ডেস্ক: লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশী বিভিন্ন সংগঠনের সর্ববৃহৎ  ফেডারেশন ‘বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস এঞ্জেলেস (বাফলা)’-এর উদ্যোগে বাংলাদেশের ৪৯তম মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ১৩তম বাংলাদেশ ডে প্যারেড এন্ড ফ্যাস্টিভ্যাল। গত ৩০-৩১ মার্চ লস এঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন উপলক্ষে এই দুইদিন যেন লস এঞ্জেলেস ছিল বাংলাদেশ আর বাংলাদেশীদের মিলনমেলা। দেশী-বিদেশী অতিথি আর প্রবাসীদের অংশগ্রহণে লিটল বাংলাদেশ যেন হয়ে উঠেছিল সত্যিকারের এক খণ্ড বাংলাদেশ। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও প্রবাসীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিলো সপ্তাহখানেক আগ থেকে। কমিউনিটিতে ছিল সাজসাজ রব।

৩০ মার্চ বিকেলে ভার্জিল মিডিল স্কুল প্রঙ্গণে উদ্বোধন হয় ফ্যাস্টিভ্যালের। এবারের প্যারেডের বিশেষ আকর্ষণ ছিলো প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের আগমন।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি।

৩০ মার্চ সন্ধ্যা ৬টায় যথারীতি উদ্বোধন হয় ফ্যাস্টিভ্যালের। যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের পর পরিবেশিত হয় বাফলার থিম সং। এরপর যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ এবং বাফলার পতাকা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন অতিথিরা। যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা উত্তোলন করেন লস এঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট হার্ব জে উইসন, বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী এবং অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এমএ মান্নান এমপি এবং বাফলা ক্যাবিনেটকে সাথে নিয়ে বাফলার পতাকা উত্তোলন করেন প্রেসিডেন্ট নজরুল আলম। এরপর পবিত্র কোরআন, বাইবেল ও ত্রিপিটক থেকে পাঠ করা হয়।

উদ্বোধনের পর বক্তব্য রাখেন লস এঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট হার্ব জে উইসন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশী কমিউনিটির এমন আয়োজন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এমন উৎসব আমাদের জন্য গর্ব বয়ে আনে। আমি এখানে আসতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। তাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশী কমিউনিটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিবছর এই আয়োজনটি করে থাকে। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে এতে সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখব। এসময় তিনি বাংলাদেশের স্বাধীতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান সবাইকে।

বক্তব্যের পর বাংলাদেশের পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানকে স্বাগত জানিয়ে তাকে এলএ সিটির পক্ষ থেকে উপহার ও সার্টিফিকেট তুলে দেন হার্ব জে উইসন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বাফলাকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

এরপর বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশের পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি। তিনি এই আয়োজনে তাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রবাসীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমি তুলে ধরে বলেন, আমাদের দেশটা অত্যন্ত ত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে। আজ আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে দেশে-বিদেশে গর্ব করতে পারছি। তাই যাদের ত্যাগে এই স্বাধীনতা পেলাম সেই সব বীর মুক্তিযুদ্ধাদের প্রতি আমর সবসময় সম্মান প্রদর্শন করব এবং দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করব। এসময় তিনি প্যারেড আয়োজনের জন্য বাফলা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিদেশের মাটিতে এরকম একটি আয়োজন দেখে আমি অভিভূত। দেশের প্রতি আপনাদের এই ভালোবাসা দেশকে আরও অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।
 
মন্ত্রী প্রবাসীদের কাছে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, আপনারা অনেকেই হয়ত সবসময় বাংলাদেশে যান না বা সময়-সুযোগ পান না। ‌ তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন সেই বাংলাদেশ আর নাই।‌ পরিবর্তন হয়ে গেছে। বাংলাদেশের পরিবর্তনের হাওয়া সুনামি বয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ৯৫% মানুষের মাথার উপর বিদ্যুৎ আছে। এ বছরের মধ্যে পুরো দেশ শতভাগ বিদ্যুতায়িত হবে। এছাড়া পদ্মা সেতু, কর্ণফুলীর নিচে টার্নেল নির্মাণ, তৃতীয় সমুদ্র বন্দর তৈরী ইত্যাদি সম্পর্কে আপনারা অবশ্য অগত আছেন। দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়ছে। সম্প্রতি স্বল্প আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ। এভাবে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যা সম্ভব হচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার দুরদর্শী নেতৃত্বের কারণে।

প্রধান অতিথিকে সাথে নিয়ে অপরাজেয় এর মোড়ক উম্মোচন করছেন বাফলা নেতৃবৃন্দ।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে বাঙালি জাতি যেভাবে একাত্তর সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল ঠিক তেমনি আজও দেশে বিদেশে বাংলাদেশীরা দেশকে এগিয়ে নিতে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এজন্য আপনাদের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা সবসময়। এভাবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার জাতির জনকের স্বপ্ন এবং তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন কানাডা আওয়মী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দৈনিক শুভ প্রতিদিনের সম্পাদক সারওয়ার হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাসিব মামুন প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ডঃ মাহবুব খান, আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপকমিটির সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ও লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি মেয়রের একজন প্রতিনিধি। এছাড়া এবারের প্যারেডে প্রথমবারের মতো ফোবানার একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।  

প্রথমবারের মতো মন্ত্রীকে পেয়ে অনেককেই মন্ত্রীর সাথে ছবি উঠাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

উদ্বোধনের পর অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভীন। এছাড়া কোরাস কণ্ঠে পরিবেশিত হয় বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান।

অনুষ্ঠানের সময় ভার্জিল মিডিল স্কুলের মাঠ কানায় কানায় ভরপুর ছিলো।

ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে বাংলাদেশী আমেরিকান নতুন প্রজন্ম। তারা মনোমুগ্ধকর গান ও নৃত্য পরিবেশন করে। স্থানীয় শিল্পীদের মধ্যে গান পরিবেশন করেন রেহানা মল্লিক, শিল্পী রহমান, আদনান খানসহ আরও অনেকে।

সভপতির বক্তব্যে বাফলা প্রেসিডেন্ট নজরুল আলম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামানসহ সকল মুক্তিযুদ্ধাদের স্মরণ করেন। এছাড়া অনুষ্ঠনে অংশগ্রহণ করার জন্য সকল অতিথি ও প্রবাসীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। ২ দিনের সকল আয়োজন সফল করতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

৩১ মার্চ রবিবার দ্বিতীয় দিন শুরু হয় আয়োজনের মূল আকর্ষণ প্যারেডের মাধ্যমে।  দুপুর থেকে থার্ড  এন্ড নরমেন্ডিতে জড়ো হতে থাকেন নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ, তরুণ-তরুণী, মুক্তিযোদ্ধারাসহ সব বয়সের মানুষেরা। সবার হাতে বাংলাদেশ এবং আমেরিকার জাতীয় পতাকা, নানা ধরণের প্ল্যাকার্ড, রঙ-বেরঙের ফেস্টুন, ব্যানার বা বেলুন, গায়ে পতাকার রং লাল-সবুজের পোষাক।  নিজস্ব গাড়ির পাশাপাশি অনেকে নিয়ে আসেন এক্সক্লুসিভ কিছু গাড়ি। কেউ কেউ গাড়িতে বাজান দেশাত্মবোধক বিভিন্ন গান ও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ।

প্যারেডে অংশগ্রহণকারী মার্কিন মেরিন ফোর্সের সদস্যরা ও বাফলা স্কাউট দল (ডানে)।


সিটি কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে দুপুর ১টা থেকে লস এঞ্জেলেসের প্রধান প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করতে থাকে পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। এরপরই শুরু হয় প্যারেডের আনুষ্ঠানিকতা। এবার প্যারেড মার্শাল ছিলেন জর্জিয়া স্টেট সিনেটর শেখ রহমান।

এবারের প্যারেডে নতুন আকর্ষণ ছিলো বাফলার স্কাউট দল। বাংলাদেশী আমেরিকান ৪০ জন শিশু-কিশোর নিয়ে গঠিত স্কাউট দলটি বিশেষ ধরণের ইউনিফর্ম পরে প্যারেড মার্শালের অনুমতি নিয়ে প্যারেড শুরু করে।

প্যারেডের শুরুতে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বাফলার পতাকা নিয়ে ৩টি গোড়া। এরপর শিল্পীদের বহনকারী গোড়ার গাড়ি। গাড়িতে ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী এসআই টুটুল ও মেহের আফরোজ শাওন। এরপর ছিল এক্সক্লুসিভ মোটরসাইকেল নিয়ে একদল তরুণ। তারপর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল, আমেরিকান একদল তরুণ সাইক্লিস্ট। এরপর ছিলো অতিথিদের জন্য বরাদ্দ ফ্লট। এরপর ছিল বাফলার বিভিন্ন সদস্য সংগঠন।

প্যারেডে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, মন্ত্রীর সহধর্মীনি জুলেখা মান্নান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কন্সাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহা, মন্ত্রীর একান্ত সচিব এনামুল হক, কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দৈনিক শুভ প্রতিদিনের সম্পাদক সারওয়ার হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাসিব মামুন, প্যারেড ফ্যাস্টিভালের গ্র্যান্ড স্পন্সর বিশিষ্ট ফার্মাসিস্ট মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী, এসেম্বলি ওমেন ক্রিস্টি স্মিথ, ফোবানা ২০১৯ এর কনভেনার নার্গিস আক্তার এবং এলএ পিডির উর্ধ্বতম কর্মকর্তাসহ বাফলার নেতৃবৃন্দ।

এবার প্রথমবারের মতো প্যারেডে অংশ নেয় মার্কিন মেরিন ফোর্সের ৪ সদস্য।

প্যারেডের সময় একটি প্রাইভেট বিমান ভাড়া করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশাল প্রতিকৃতি ও ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু লও সালাম’ লেখা একটি ব্যানার আধা ঘণ্টা ধরে আকাশে ওড়ানো হয়। যা দেখে অত্যন্ত উচ্ছ্বাসিত ছিলেন উপস্থিত দর্শক ও অতিথিরা।

এছাড়া প্যারেডে ছিল একটি বাংলাদেশী বাউল দল ও স্প্যানিশ একটি কিশোর দল। যারা নানা ধরনের বিনোদনমূলক পরিবেশনা পরিবেশন করে।

প্যারেড চলাকালীন বিপুল সংখ্যক বিদেশী রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে প্যারেডকে স্বাগত জানান।

এবারের প্যারেডে প্রথমাবারের মতো অংশ নেয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্নিয়া শাখা। যার নেতৃত্ব দেন তৌফিক সোলায়মান খান (তুহিন)। আওয়ামী লীগের আরেকটি গ্রুপ ‘ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামী লীগ’ প্যারেডে অংশগ্রহণ করেনি। তবে তাদের স্ত্রী-সন্তানরা ‘বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা’র ব্যানারে প্যারেডে অংশ নিতে দেখা যায়। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপির ২ গ্রুপ এক হয়ে বিশাল শোডাউন করে প্যারেডে অংশ নেয়।

প্যারেডটি লস এঞ্জেলেসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ভার্জিল মিডিল স্কুল প্লে গ্রাউন্ডে গিয়ে শেষ হয়।

লাঞ্চের পর শুরু হয় দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান। পতাকা উত্তোলনের পর বাংলাদেশের কিংবদন্তী কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে বাফলা পদক প্রদান করা হয়। পদক গ্রহণ করেন তাঁর স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। এটি বাফলার ৩য় পদক। পদক গ্রহণের পর শুভেচ্ছা বক্তব্যে মেহের আফরোজ বলেন, এই পুরস্কারটি পেয়ে আমি আবেগাপ্লুত হয়ে গেছি। আমি ভাবতেও পারছি না, আপনারা প্রবাসে থেকে এবং এতদিন পরও হুমায়ূন আহমেদকে মনে রেখেছেন। আপনাদের এই ভলোবাসায় আমি ঋণী হয়ে থাকব। আমি বিশ্বাস করি, এভাবেই হুমায়ূন আহমেদ  বাংলা ভাষা-শিল্প এবং সাহিত্যে যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবেন। তিনি আরও বলেন, আমি আসার আগে বুঝতে পারিনি এত মানুষ এখানে উপস্থিত হবে। কিন্তু এসে দেখছি এতো যেন বিদেশ নয় পুরো এক বাংলাদেশ। বিশেষ করে আমাদের মন্ত্রী মহোদয়, অন্যান্য অতিথিবৃন্দ এবং প্রবাসীদের দেখ মনে হচ্ছে দেশের কোনো প্রান্তে এই অনুষ্ঠান হচ্ছে। সফল এই আয়োজনের জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এসময় কমিউনিটি ও বাফলার বিভিন্ন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ৪ জনকে বাফলা এওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

এবার প্রথম পাবলিক রিলেশন সেক্রেটারি হিসেবে বাফলা ওয়ার্ড লাভ করেন তরুণ কমিউনিটি এক্টিভিস্ট আব্দুস সামাদ। তিনি পাবলিক রিলেশন সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দুই বছর ধরে সফলভাবে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে বাফলার বার্ষিক ম্যাগাজিন ‘অপরাজেয়’ প্রকাশ, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীসহ আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বাণী আনা, এবার প্রধান অতিথি হিসেবে পরিকল্পনামন্ত্রীকে নিয়ে আসা, আমেরিকার মূল ধারার সাথে বাফলার সংযোগ তৈরী প্রভৃতি কাজ অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করায় তাকে এই এওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

গান পরিবেশন করছেন বাংলাদেশ থেকে আগত অতিথি শিল্পীরা।

এওয়ার্ড প্রদানের পর প্যারেড উপলক্ষে প্রকাশতি বাফলার বার্ষিক ম্যাগাজিন ‘অপরাজেয়’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বাফলার পাবলিক রিলেশন সেক্রেটারি ও ম্যাগাজিন কমিটির কো-অর্ডিনেটর আব্দুস সামাদ ম্যাগাজিন কমিটি এবং প্রধান অতিথিকে সাথে নিয়ে ম্যগাজিনের মোড়ক উন্মোচন করেন। অতিথিবৃন্দ এবং প্রাবাসীরা এবারের ম্যাগাজিনের ভূয়সী প্রসংশা করেন। সবাই ম্যাগাজিন দেখে অত্যন্ত সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে দেখা যায়।
 
এরপরই শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশ থেকে আগত প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী এসআই টুটুল ও মেহের আফরোজ শাওন এবং স্থানীয় শিল্পীরা।

উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সামাজিক ও চ্যারিটির কাজ করে দেশে-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম অর্জন করেছে। দিনদিন সংগঠনের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। একটি প্রবাসী সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের সাথে যেমন সম্পর্ক ও যোগাযোগ রয়েছে তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সাথেও মিলেমিশে কাজ করছে বাফলা। তাই প্রতিবছর বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীসভার সদস্য, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকার-প্রশাসন এবং মূলধারার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বাফলার ম্যাগাজিনে বাণী প্রদান এবং প্যারেডে উপস্থিত হচ্ছেন। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী উচ্চকিত হচ্ছে লাল-সবুজের পতাকা ও বাংলাদেশের নাম। গত ১৩ বছর ধরে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এই প্যারেড-ফ্যাস্টিভ্যাল আয়োজন করে আসছে বাফলা।


এলএবাংলাটাইমস/এলএ/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ১৫৫৬ বার

আপনার মন্তব্য