যুক্তরাষ্ট্রে আজ শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 01:51pm

|   লন্ডন - 07:51am

|   নিউইয়র্ক - 02:51am

  সর্বশেষ :

  বেআইনি আদেশ মানবেন না: পুলিশকে ড. কামাল   জীবননগরে বিএনপির থানা কার্যালয়সহ ২০টি নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ!   জয়ে রাঙাল টাইগারদের বছরের শেষ ওয়ানডে   বিজয় দিবস উপলক্ষে বাফলার আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শনিবার   বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে কামাল হোসেনের গাড়িবহরে যুবলীগের হামলা   লস এঞ্জেলেসে ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী বিজয় বহর   রাষ্ট্রদূত মার্শার উপর হামলার জের: নানকের ভিসা বাতিল, সেনাপ্রধানের স্ত্রীর আবেদন প্রত্যাখান!   আস্থাভোটে টিকে গেলেন থেরেসা মে   প্রার্থিতা বিষয়ে রিট : তৃতীয় বেঞ্চের বিচারপতির প্রতি খালেদার অনাস্থা   নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না সরকার: কাদের   তুরস্কে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৯, আহত ৪৭   ইলিয়াসপত্নী লুনার মনোনয়ন স্থগিত   মনে হচ্ছে পুলিশ ধানের শীষের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী : বিএনপি   নাসার অ্যাপস প্রতিযোগিতায় শীর্ষ চারে বাংলাদেশ   চট্টগ্রামে আমীর খসরুর গণসংযোগকালে হামলা

মূল পাতা   >>   স্বদেশ

‘আমার সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই’ : অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-২১ ১৩:৫১:৩২

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদেরের কাছ থেকে ক্রেস্ট গ্রহণ করছেন শেখ হাসিনা।

নিউজ ডেস্ক: গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার কোনো সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই।

২১ জুলাই, শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা দিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই। আমি জনগণের সেবক। জনগণের জন্য কাজ করতে এসেছি। জনগণ কতটুকু পেল, সেটাই বড়। এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়া-পাওয়া নেই আমার। এই সংবর্ধনা আমি উৎসর্গ করছি বাংলার মানুষকে, উৎসর্গ করছি এ দেশের জনগণকে।’

স্বল্পোন্নত থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ বিজয়, অস্ট্রেলিয়ায় গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ও ভারতের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট ডিগ্রি অর্জন করায় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীকে এ গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়।

গণসংবর্ধনার শুরুতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রযুক্তি ব্যবহার করেও উন্নয়নের ভিডিওচিত্র অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির পক্ষ থেকে সরকারের অর্জন ও উন্নয়ন সংবলিত একটি প্রকাশনা সবার হাতে তুলে দেওয়া হয়। জাতীয় সংসদের উপনেতা ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে সম্মাননাপত্র পাঠ করেন। তিনি পরে সেই সম্মাননাপত্র প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন।

এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ নিতে শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনতার ঢল নামে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এ সমাবেশে যোগ দেন।

যারা বলে ‘নৌকা ঠেকাও’ তাদের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে আবার একটা শ্রেণি রয়েছে যাদের কোনো উন্নয়নই চোখে পড়ে না। আবার কেউ কেউ বলেন, নৌকা ঠেকাতে হবে। আমার প্রশ্ন নৌকা কেন ঠেকাতে হবে। নৌকা ঠেকিয়ে কি ওই রাজাকারদের, যুদ্ধাপরাধীদেরকেই আবার ক্ষমতায় আনবেন?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যারা মনে করেন প্রবৃদ্ধি অর্জন ভালো নয়, দেশ উন্নয়নশীল হলে ভালো নয়, তাদেরকে আমার সন্দেহ হয়, তারা বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে কিনা বা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে কিনা। নাকি তারা ওই স্বাধীনতাবিরোধীদের পদলেহনকারী সেটাই আমার প্রশ্ন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই নৌকায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকার পেয়েছে, এই নৌকায় ভোট দিয়েছে বলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে, এই নৌকায় ভোট দিয়েছিল বলেই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, এই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিল বলেই বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে এবং আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত হতে পেরেছি।’

‘আমরা পরমাণু বিদ্যুৎ ক্লাবে পৌঁছাতে পেরেছি। আমরা স্যাটেলাইট যুগে পৌঁছাতে পেরেছি, আজ বাংলাদেশে দারিদ্রের হার ২২ ভাগে নেমে এসেছে এবং দারিদ্রের হার আরো হ্রাস করে বাংলাদেশকে আমরা দারিদ্রমুক্ত করতে পারবো ইনশাল্লাহ’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামনে বন্যা আসার সময় হচ্ছে। এই শ্রাবণ মাস শেষে ভাদ্র মাসেই আবার পানি আসতে পারে। তখন তারা কি নৌকায় চড়বে না, তাদেরকেও তো নৌকায় চড়তে হবে। অন্তত রাজনৈতিক নেতা যারা তাদের ত্রাণ বিতরণ করতে গেলেও নৌকাতেই যেতে হবে। তাহলে নৌকা ঠেকাবেন কেন? নৌকার অপরাধটা কি? যারা নৌকা ঠেকাতে চায় তাদের কাছে সেটাই আমার প্রশ্ন? যারা ওই সামরিক শাসকদের উচ্ছিষ্ট খেয়ে জীবন ধারণ করেছে বা বড় হয়েছে তাদের মুখেই এ কথা মানায়। কিন্তু যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তাদের মুখে এ কথা মানায় না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই দেশ আমরা স্বাধীন করেছি। আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই জনগণ কিছু পায়। দেশের জনগনের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, তাদের অস্তিস্ব টিকে থাকে। ’৭৫ থেকে ’৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত দেশের মানুষ দেখেছে যে কি হয়েছে। এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। আজকের বাংলাদেশ বিশ্বে যে মর্যাদা পেয়েছে সেখান থেকে দেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করেছে, এখন জনগণের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তার সরকারের লক্ষ্য।’

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা ঘুমান আর বাকি সময় দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করেন উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি কোনো উৎসবে যাই না। সারাক্ষণ আমার একটাই চিন্তা-দেশের উন্নয়ন, দেশের মানুষের উন্নয়ন।’

জাতির পিতার কাছ থেকে পাওয়া রাজনৈতিক শিক্ষার আলোকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়াই তার লক্ষ্য উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু তনয়া বলেন, ‘জাতির পিতার পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশকে গড়ে তুলব। প্রতিটি গ্রামকে শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি গ্রামের মানুষ সকল নাগরিক সুবিধা পাবে। সেভাবেই আমরা গ্রামের মানুষের অবস্থার উন্নতি করতে চাই।’

‘শিক্ষা-দীক্ষায় সব দিক থেকে বাংলার মানুষ উন্নত জীবন পাবে। ক্ষুধা আর হাহাকার থাকবে না। একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। প্রত্যেকটা মানুষ উন্নত জীবন পাবে’, বলেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মৃত্যু যখন আসবে তখন মৃত্যু আসবেই। কিন্তু মৃত্যুর আগে আমি মরতে রাজি নই। তার আগে যতক্ষণ জীবন আছে বাংলার মানুষের সেবা করে যাব।’

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৭৭০ বার

আপনার মন্তব্য

সাম্প্রতিক খবর