যুক্তরাষ্ট্রে আজ বুধবার, ২১ অগাস্ট, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 01:09am

|   লন্ডন - 08:09pm

|   নিউইয়র্ক - 03:09pm

  সর্বশেষ :

  ‘মৃত’ চিতাবাঘের ছবি তুলতে গিয়ে!   সিটি করপোরেশনের ওষুধ মশা সন্তান উৎপাদন করছে: রিজভী   গ্রেনেড হামলার দায় খালেদা জিয়া এড়াতে পারেন না : তথ্যমন্ত্রী   ইহুদিরা অত্যন্ত আনুগত্যহীন: ট্রাম্প   কাশ্মীরে খুলে দেওয়া হয়েছে স্কুল, শিক্ষার্থী নেই   ঢাকায় ডেঙ্গু রোগী কমেছে ২ শতাংশ   মর্মে মর্ম ধ্বনি’-নিয়ে সুজিত মোস্তফা আসছেন সিডনীতে   মিয়ানমারে প্রচণ্ড সংঘর্ষ, নিহত ১৯ জন   বাংলাদেশ বুদ্ধিষ্ট সোসাইটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন কমিটি গঠিত   ওষুধে লাভ হয় না, আল্লাহ আমাদের বাঁচাচ্ছে: হাইকোর্ট   প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোদির   বুধবার ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষির্কী   হিন্দুদের নিয়ে মন্তব্য করে মালয়েশিয়ায় তোপের মুখে জাকির নায়েক   আমি একজন ভারতীয় হিসেবে গর্বিত নই, সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন   ইটালির প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

মূল পাতা   >>   স্বদেশ

‘জঙ্গী সনাক্তকরণ’ বিজ্ঞাপন অস্বীকার করলেন পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, তাহলে বিজ্ঞাপনটি কে দিল?

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৫-১৬ ১৬:০৪:০৫

নিউজ ডেস্ক: জঙ্গি সনাক্তে ২৩টি লক্ষণের বিজ্ঞাপন জাতীয় দৈনিকে ফলাও করে দেয় ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামের সংগঠন, যার আহ্বায়ক অভিনেতা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়।

এতে হঠাৎ দাড়ি রাখা, টুপি পরা, টাখনুর উপরে কাপড় পরাসহ মুসলিমদের প্রাত্যহিক জীবনে পালন করা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে জঙ্গিবাদের বৈশিষ্ট হিসেবে তুলে ধরা হয়।

একই সঙ্গে এসব লক্ষণ কারও মধ্যে পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তার সম্পর্কে জানাতে নাগরিকের প্রতি আহ্বানও জানায় সম্প্রীতি বাংলাদেশ।

গত ১২ মে জাতীয় অন্তত ৮টি জাতীয় দৈনিকে প্রথম/শেষ পাতায় ঢাউস ওই বিজ্ঞাপন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়াও ইসলামপন্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার ও ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নিষিদ্ধের দাবিতে আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ইসলামী ঐক্যজোট।

ইসলামপন্থী দলটি সারা দেশের প্রতিটি মসজিদ থেকেও বাদ জুমা বিক্ষোভ মিছিল করারও আহ্বান জানিয়েছে।

এমন প্রতিবাদের মুখে বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’র আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তারা এ ধরনের কোনো বিজ্ঞাপন কোনো জাতীয় দৈনিকে দেননি।

মুসলিমদের উস্কে দিয়ে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ নষ্টের চক্রান্ত হিসেবে এই বিজ্ঞাপনকে অভিহিত করেন তিনি।

তবে দৈনিক সমকাল, যুগান্তর, কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, দেশ রূপান্তরসহ যেসব দৈনিকে বিজ্ঞাপন এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিবেন কিনা- এমন প্রশ্নে সংবাদ সম্মেলনে পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অবশ্য এই অভিনেতা দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন অপপ্রচার চালিয়েছে। গত ১২ মে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রচারিত বিজ্ঞাপনটির সঙ্গে কোনো পর্যায়েই সম্প্রীতি বাংলাদেশ’র কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল), রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী সিকদার, সাবেক সংস্কৃতি ও তথ্যসচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোট চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী, খ্রিস্টান অ্যাসোয়িশনের সভাপতি উইলিয়াম প্রলয় সমাদ্দার, দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক আলী হাবিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অবস্থান পষ্ট করতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়দের এমন চেপে যাওয়ার চেষ্টায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিনেতা পীযূষ কী চাপের মুখে অবস্থান থেকে সরে আসছেন? আর সত্যিই যদি তিনি এবং তার সংগঠন এমন ব্যয়বহুল বিজ্ঞাপন না দিয়ে থাকেন, তাহলে কে বা কারা দিলো?

বিজ্ঞাপন প্রকাশ হয়েছে এমন একাধিক জাতীয় দৈনিকের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও ‘রহস্যজনক’ জবাব মিলেছে। অফ দ্য রেকর্ড তাদের ভাষ্য এমন, বাংলাদেশে কোন পত্রিকা আছে, যারা প্রথম ও শেষ পাতার মতো এত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা অর্থ ছাড়া বিজ্ঞাপন ছেড়ে দেবে?

পত্রিকাগুলোর বিজ্ঞাপন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে, কারা, কত টাকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছেন, সব তথ্য থাকলেও তা ‘আপাতত’ দিতে রাজি হননি।

১২ মে দৈনিক সমকালে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’র ব্যানারে ‘জঙ্গি শনাক্তকরণ’ বিজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটিই বৃহস্পতিবার আরেকটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে যে, ওইদিনের বিজ্ঞাপন সম্প্রীতি বাংলাদেশ’র নয়। এটা মিথ্যা।

দুটি বিজ্ঞাপনের বিষয়ে সমকালের এক বিজ্ঞাপন নির্বাহীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে শুরুতে তিনি বলেন, ‘আমরা গত ১২ মে এ ধরনের কোনো বিজ্ঞাপন দেইনি। বিভিন্ন পত্রিকায় আসা বিজ্ঞাপন মিথ্যা বলে সম্প্রীতি বাংলাদেশ’র পরেরটি আমরা প্রকাশ করেছি বিজ্ঞাপন হিসেবে।’

পরে তাকে ১২ মে সমকাল পত্রিকার কপি দেখালে বলেন, ‘অনেকগুলো পত্রিকা দিয়েছে, তাদের সঙ্গে আমাদেরও দেয়া হয়েছে মনে হয়।’

এই নির্বাহী আরও দাবি করেন, ‘আজকের বিজ্ঞাপনটি সঠিক। এখানে সম্প্রীতি বাংলাদেশ’র আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নাম রয়েছে। যেটি আগেরটিতে ছিল না। কেউ বিজ্ঞাপন দিলে আমরা ছেপে থাকি। কিন্তু, সেটি কারা দিয়েছিল, এই মুহূর্তে বলা সম্ভব হবে না।’

গত ১২ মে একই বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছিল দৈনিক দেশ রূপান্তরে। পত্রিকাটির বিজ্ঞাপন বিভাগের শীর্ষ এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সেটিকে বিজ্ঞাপন বলা যাবে না। নিউজ ছিল। বিস্তারিত জানতে হলে নিউজ বিভাগে যোগাযোগ করতে হবে।’

এমন প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বড় বড় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন এলো। বিজ্ঞাপনদাতারা এখন তা বেমালুম অস্বীকার করছেন। আবার পত্রিকাও বিজ্ঞাপনের তথ্য পষ্ট করছে না। জঙ্গিবাদের মতো এমন স্পর্শকাতর ইস্যুতে সবপক্ষের এমন অবস্থান রহস্যে ঘেরা। অবশ্যই সরকারিভাবে এর তদন্ত হওয়া দরকার।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক আফসান চৌধুরী বলেন, ‘বিজ্ঞাপনটা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়রা না দিলে কে দিয়েছেন, সেটি তদন্ত করে দেখা দরকার। আর একটা কথা হলো, জঙ্গিবাদের বিষয়ে সবারই একটু সতর্ক হয়ে আলাপ করা উচিত। কারণ, লোকজন যখন জঙ্গিবাদ নিয়ে আলাপ করে, তারা অনেক বেশি রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। বিশেষ কোনো গোষ্ঠী বা গোষ্ঠীর সদস্যরাই যে শুধু জঙ্গি কার্যক্রম চালায় এমন কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই।

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ১৮৫ বার

আপনার মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত