নির্বাচনের আগে উদ্বেগ বাড়াল রহস্যময় চিঠি, ক্যালিফোর্নিয়ার অন্তত ৯ আইনপ্রণেতা লক্ষ্যবস্তু
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে স্বস্তি মিলবে কি লেবাননের? রয়ে গেছে অনিশ্চয়তা
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
দীর্ঘ আলোচনা ও একাধিক ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। চুক্তির পর উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয় দাবি করেছে। তবে এই সমঝোতা লেবাননে চলমান সংঘাত কমাতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই চুক্তি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। অন্যদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, দেশের সামরিক সাফল্যের ভিত্তিতেই এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে এবং সমঝোতা স্মারকে ইতোমধ্যে স্বাক্ষর করা হয়েছে।
মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবি, এই চুক্তির ফলে ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে। যদিও এসব পদক্ষেপ কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ কিছুটা কমবে এবং দীর্ঘদিনের সংকটে থাকা ইরানের অর্থনীতিও স্বস্তি পাবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে বিষয়টি বাস্তবায়ন সহজ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
কারণ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখন পর্যন্ত লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ করার কোনো ইঙ্গিত দেননি। গত এক সপ্তাহেই উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের দুটি বড় হামলা পুরো আলোচনাপ্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল। এমনকি চুক্তি চূড়ান্ত করতে ইরানও শেষ মুহূর্তে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সরে আসে।
ফলে এই চুক্তি লেবাননের জন্য সত্যিকারের স্বস্তি বয়ে আনবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে দেশটিতে হওয়া দুটি যুদ্ধবিরতিও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য আপাতত একটি ইতিবাচক দিক হলো, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা কিছুটা কমতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে এই হুমকি সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও সৌদি আরবের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছিল।
চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি ইরানকে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে কতটা কার্যকরভাবে বিরত রাখতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করেছিল, যুদ্ধের মূল কারণই ছিল এই সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয় এবং চূড়ান্ত স্বাক্ষরের পর এ নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা এখনো কয়েক দিন বাকি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আলোচনায় নানা নাটকীয় মোড় আসায় বিশ্লেষকরা বলছেন, সামনে আরও চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে। তবে আপাতত যুদ্ধ ও যুদ্ধবিরতির মধ্যে দোদুল্যমান পরিস্থিতির কিছুটা হলেও অবসান ঘটেছে এবং অঞ্চলে অনিশ্চয়তা আংশিকভাবে কমেছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন