হৃদযন্ত্রের আবরণ ভেদ করে ঢুকে ছিল সূঁচ, শরীরের নানা অংশে মিলল আরও ধাতব বস্তু
ডিজেলের দাম ছুঁল রেকর্ড ৬.৪৩ ডলার, জ্বালানি সংকটে বাড়তে পারে নিত্যপণ্যের দাম
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। শুক্রবার সকালে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম প্রায় ৬ দশমিক ৪৩ ডলারে অবস্থান করছিল বলে জানিয়েছে জ্বালানির দাম পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডি।
ডিজেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে চলমান জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবকে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
একই সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন তেল স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে। এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ডিজেলের দাম বাড়ায় শুধু গাড়িচালকরাই নন, এর প্রভাব পড়তে পারে অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই। কারণ ট্রাক, জাহাজসহ পণ্য পরিবহনের বড় অংশই ডিজেলনির্ভর। ফলে পরিবহন ব্যয় বাড়লে পাইকারি পর্যায়ে পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি খরচ ভোক্তাদের ওপরও পড়তে পারে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত পেট্রোলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৪৭ ডলার। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৫৩ ডলার।
তেলের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগের। ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব পরিবার ঘর গরম রাখতে হিটিং অয়েল ব্যবহার করে, চলতি শীতে তাদের জ্বালানি খরচ গত বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে।
এমনকি তেলভিত্তিক হিটিং সিস্টেম ব্যবহার না করা পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও শীতকালে ঘর গরম রাখার সামগ্রিক ব্যয় ৮ দশমিক ৭ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সামান্য কমলেও তা ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ছিল। বৈশ্বিক বাজারের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল প্রায় ১০৩ ডলার। আগের দিনের তুলনায় এটি প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ কম। উত্তর আমেরিকার বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ছিল প্রায় ১০২ ডলার, যা প্রায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কম।
ডিজেলের দাম বাড়ার আরেকটি বড় প্রভাব পড়তে পারে মূল্যস্ফীতিতে। পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে উৎপাদক ও পাইকাররা অতিরিক্ত ব্যয় পণ্যের দামের সঙ্গে যোগ করতে পারেন। পরে খুচরা বিক্রেতারাও সেই বাড়তি ব্যয় ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারেন।
একটি নির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে দাম বাড়ার পরিমাণ হয়তো খুব বেশি হবে না। কিন্তু খাবার, পোশাকসহ বিপুলসংখ্যক পণ্যের ক্ষেত্রে সামান্য করে দাম বাড়লে সামগ্রিকভাবে ভোক্তাদের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
এতে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগস্টে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ফেডারেল রিজার্ভের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক শতাংশেরও বেশি।
মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ ২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়িয়েছে। তবে ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ স্বীকার করেছেন, সুদের হার বাড়িয়ে সরাসরি জ্বালানির দাম কমানো সম্ভব নয়।
তার মতে, সুদের হার বাড়ানোর উদ্দেশ্য হলো তেলের মতো নির্দিষ্ট পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাব যেন পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে আরও ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির কারণ না হয়, তা নিয়ন্ত্রণ করা।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন