আপডেট :

        যৌন নির্যাতন মামলার ক্ষতিপূরণ বিতরণ স্থগিতের আবেদন লস এঞ্জেলেস কাউন্টি ডিএর

        ওয়েস্ট হলিউডের জনপ্রিয় বারে আকস্মিক উপস্থিতি কমলা হ্যারিসের

        আদালতের নির্দেশে কেনেডি সেন্টার থেকে সরানো হলো ট্রাম্পের নাম

        রোববারই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি সই হতে পারে, দাবি ট্রাম্পের

        মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ভেনেজুয়েলার ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংয়ের নেতা

        ৫০ বছরের বেশি অপেক্ষার অবসান, এনবিএ চ্যাম্পিয়ন নিউইয়র্ক নিকস

        ওয়াক অব ফেমে স্থান পেলেন বেকহ্যাম

        মেয়র নির্বাচনে হেরে ক্ষোভ ঝাড়লেন স্পেন্সার প্র্যাট, বললেন: ‘এখন যুদ্ধ শুরু’

        টেক্সাসে বন্দুক হামলায় নিহত ১, আহত অন্তত ১০

        স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে অভিষেক, বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক

        ওয়ার্নার ব্রাদার্স কিনতে প্যারামাউন্টের ১১১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে মার্কিন অনুমোদন

        যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ভেনেজুয়েলার কুখ্যাত গ্যাং নেতা নিহত: ট্রাম্পের দাবি

        ক্যালিফোর্নিয়ায় সম্ভাব্য সিরিয়াল কিলার, চার হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত

        ধর্মীয় নেতার ছদ্মবেশে ধর্ষণ-নির্যাতন, ২২৫ বছরের কারাদণ্ড

        ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হলে ‘কমন সেন্স’ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি স্টিভ হিলটনের

        নাইট্রোজেন গ্যাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে আলাবামার আবেদন খারিজ

        যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে হামলা-সংশ্লিষ্ট অভিযানে টরন্টো পুলিশের কর্মকর্তা নিহত

        কংগ্রেসের আপত্তির মুখে নতুন গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে জে ক্লেটনকে মনোনয়ন দিলেন ট্রাম্প

        দাবানলে বাড়ি হারিয়ে সিটির বিরুদ্ধে মামলায় মেয়র ব্যাসের ভাই

        ফেটিশ সাক্ষাতে মৃত্যুর ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়ার ওনলি ফ্যানস নির্মাতার ৪ বছরের কারাদণ্ড

অভিযোগ জানা নেই, তবুও হাইকোর্টে অসংখ্য মানুষের ভিড়

অভিযোগ জানা নেই, তবুও হাইকোর্টে অসংখ্য মানুষের ভিড়

বাংলাদেশের ঢাকায় প্রায় সপ্তাহ-খানেক ধরেই হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অন্যরকম একটি পরিবেশ। জামিনের জন্য শত-শত মানুষ আদালত প্রাঙ্গণে বসে আছেন। এরা এসেছেন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে দলবদ্ধভাবে।

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এরা আদালত প্রাঙ্গণে বসে অপেক্ষা করছেন। দিন শেষে ফিরে যাচ্ছেন, পরেরদিন আবার আসছেন। খবরব বিবিসি বাংলার।

এদের একজন মো: মিলন মিয়া গত পাঁচদিন ধরে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে আসা-যাওয়ার মধ্যে আছেন। ৫৫ বছর বয়সী মিলন মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মজলিসপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর।

নির্বাচনের কয়েকদিন আগে একটি মামলায় তিনি অভিযুক্ত। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ - সেটি সুস্পষ্টভাবে বলতে পারছেন না তিনি।

এ মামলায় মোট ২৪জনকে আসামী করা হয়েছে।

পেশায় বর্গাচাষী মিলন মিয়া এখনো পর্যন্ত মামলার জামিনের জন্য ঢাকায় আসা-যাওয়া বাবদ আট হাজার টাকা খরচ করেছেন তিনি। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ধার করে এই টাকার জোগান দিয়েছেন তিনি।

এই মামলায় অভিযুক্ত আরেকজন জানালেন, তাদের বিরুদ্ধে বোমাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে।

হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে আরেকটি দলের সাথে দেখা হলো যারা ঝিনাইদহের কোর্ট চাঁদপুর থেকে এসেছেন হাইকোর্টে আগাম জামিনের জন্য। কথা বলছিলাম সে দলের একজন বৃদ্ধের সাথে যার বয়স প্রায় ৭০ বছর।

তিনি নিজের নাম প্রকাশ করতে চাইলেন না। তাঁর ধারণা মামলা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে সাথে কথা বললে আরো মামলা হবে।

"আমি ওসব বুঝিনা রাজনীতি। আমি পাঁচ ওয়াক্ত আল্লাহু আকবর বলে নামাজ পড়ি। আমার কোন দল-ফল নেই। আমি কিছু বুঝিনা," বলছিলেন সে বৃদ্ধ।

আওয়ামী লীগের অফিস পোড়ানোর অভিযোগে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে সেখানে তিনি অন্যতম অভিযুক্ত।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বহু মামলা হয়েছে, যেখানে গণহারে অনেক মানুষকে আসামী করা হয়েছে।

হাইকোর্ট যারা জামিনের জন্য এসেছেন তাদের অনেকেই বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে জড়িত।

অনেকে আছেন যারা রাজনীতির সাথে জড়িত না হলেও বিএনপি-জামায়াতে ইসলামির প্রতি পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে।

আবার এদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা কোন রাজনীতির সাথে জড়িত নয়।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পঙ্গু কিংবা শারীরিকভাবে অসমর্থ ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের উপর হামলা কিংবা নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভুয়া মামলায় ক্ষতিপূরণ চাওয়ার ব্যবস্থা আছে?

বাংলাদেশের ফৌজদারি আইনে বলা আছে, কোন ব্যক্তিকে যদি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়, তাহলে তিনি আদালতে সেটির প্রতিকার চাইতে পারবেন।

তবে আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হবার পর সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করতে পারবেন। এমটাই বলছেন সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী মনজিল মোরশেদ।

"সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি দুই ধরণের মামলা করতে পারবেন। একটি হলো ফৌজদারি আইনে মানহানির মামলা, আরেকটি হলো ক্ষতিপূরণ চেয়ে তিনি মামলা করতে পারবেন," বলছিলেন মি: মোরশেদ।

তবে এ ধরণের মামলার নজীর বাংলাদেশে বেশ বিরল। এর একটি কারণ হচ্ছে বিচারের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা।

"যখন সে একটি মামলায় খালাস পায়, এটি হয়তো পাঁচ-দশ বছর লেগে যায়। তখন তাঁর আর স্পিরিট থাকেনা আবার গিয়ে পাঁচ-দশ বছর আরেকটি মামলার মধ্যে ঢুকে যাওয়া," বলছিলেন মি: মোরশেদ।

যখন একটি মামলায় যখন কয়েকশ ব্যক্তিকে আসামী করা, তখন সবার যে বিচার হবে এমন কোন কথা নেই।

পুলিশ যখন মামলার চার্জশীট দেয় তখন সেখানে অনেককে বাদ দেয়া হয়। কারণ কয়েকশ ব্যক্তিকে আসামী করতে হলে সবার নাম, ঠিকানা জোগাড় করে মামলার বিবরণে উল্লেখ করতে হবে। এটি বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

যখন আদালতে চার্জ গঠন করা হয় তখন অভিযুক্তের সংখ্যা আরো কমে যায়।

এভাবে দুটি ধাপে অভিযুক্তের সংখ্যা কমে আসে।

"এসব মামলার আল্টিমেট সমাপ্তি হয় বলে আমার ধারণা নাই। অনেক সময় দেখা যায় যে তদন্ত রিপোর্ট দুই বছরেও দিচ্ছে না। এক পর্যায়ে পুলিশ হয়তো এ ব্যাপারে কোন ইন্টারেস্ট দেখায় না," বলছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরশেদ।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত