Updates :

        খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য হত্যার হুমকির শামিল : বিএনপি

        কবিতা বিকেলের অনবদ্য প্রযোজনা ‘উত্তর মেঘ’

        ২৫ জুন উদ্বোধন হচ্ছে পদ্মা সেতু

        বিয়েতে আগ্রহ নেই কিয়ারার!

        মুশফিকের ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি, যা বললেন স্ত্রী জান্নাতুল

        লস এঞ্জেলেসে পাহাড় থেকে পড়ে মৃত ১, আহত ৩

        বহাল থাকছে টাইটেল ৪২

        ক্যালিফোর্নিয়া পুনরায় বৃদ্ধি পেলো গ্যাসোলিনের মূল্য

        স্কুলের সামনে গাড়ির ধাক্কায় আহত ৩ শিশু

        শহীদ মিনারে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ

        নিউইয়র্কে চলন্ত ট্রেনে বন্দুক হামলায় নিহত ১

        ইউক্রেন আক্রমণের জন্য রাশিয়াকে চড়া মূল্য দিতে হবে : বাইডেন

        সেই ওসি প্রদীপের স্ত্রী জেলে

        বিজেপি ক্ষমতায় আসায় রাস্তায় নামাজ বন্ধ হয়েছে: যোগী

        ‘মুজিব’ বায়োপিকের ট্রেলারটি অফিশিয়াল নয়: শুভ

        সিলেটে মাওলানা শায়খ আব্দুল মতিন এর জীবনী গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন

        বাড়ছে করোনা: গণপরিবহণে মাস্ক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা বহাল থাকছে

        রবিবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ১০১ ফ্রিওয়ে

        কয়েক’শ মার্কিন নাগরিকের উপর রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা আরোপ

        সব নারী ক্রু নিয়ে সৌদি এয়ারলাইন্সের প্রথম যাত্রা

মানুষকে খুশি করতে শুধু একটা মন লাগে

মানুষকে খুশি করতে শুধু একটা মন লাগে

পারিপার্শ্বিক কিছু ঘটনা চোখে জল আসে। বুক ধড়ফড় করে। না সইবার কষ্টে এমনটা অনেকেরই হয়। ঈদে নিজের জন্য কেনা হয় না কিছুই। স্বজনদের জন্য সেদিন রাজধানীর একটি মার্কেটে গিয়ে কেনার বদলে কষ্ট নিয়েই বাড়ি ফিরলাম। মার্কেটে শিশুর চিৎকারের শব্দ কানে এলো। এক মেয়ে শিশু বছর ৫ হবে বয়স। কাঁদছে জামাটা সে নেবেই নেবে। বাবার সাধ্য নেই কি করে কিববে ওই জামাটা। চেহারা দেখেই বেশ বুঝতে পারলাম না। ইচ্ছে জাগলো শিশুটিকে ওইটা নয়, সঙ্গে আরও কয়েকটি জামা কিনে তার হাতে তুলে দিই। আমার পূর্ব পরিচিত হলেও সেটাই করতাম হয়তো। এ প্রস্তাব দিলে কীভাবে, সেই ভেবে চুপসে গেলাম। মানুষেরতো আবার আত্মসম্মানও আছে। চাপা কষ্টে দোকান থেকে বেরিয়ে পড়লাম। ভাবলাম দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে অল্প আয়ের মানুষের ঈদ আনন্দটা যেন নিরানন্দ হয়েই আসে। প্রতিটি বাবা—মা'ই সন্তানদের হাতে ইচ্ছামতো জামাকাপড় তুলে দিয়ে হাসি মুখটা দেখতে চায়। ক'জনের ভাগ্যেই বা সেই হাসি জোটে।


সেদিন ছেলেটা আখের রস খাবে বলতেই বাসা থেকে নিচে নেমে গেলাম আখের রস কিনব বলে। জুসবারে রস কিনছি এমন সময় এক শিশুর এসে হাজির। ২০ টাকা হাতে দিলাম তবুও দাঁড়িয়ে রইলো। আখের রস নিয়ে কি তৃপ্তিতে তাকিয়ে আছে মেয়েটা। কেনা রসের বোতলটা ওর হাতে তুলে দিতেই সে কি হাঁসি। লাখ টাকায়ও কি তা কেনা যায়? রস তার হাতে পেয়েই আনন্দ দৌড়ে কোথায় পালিয়ে গেল। পিছু নিলাম। পাশেই রাস্তায় হুইল চেয়ারে বসা পঙ্গু বাবা সঙ্গে তার ছোট ভাই। আখের রসের বোতলটা দেখে শিশু বাচ্চাটা ফোকলা দাঁতে সে কি তৃপ্তির হাসি দিল তা আর লিখে প্রকাশ করা যাবে না। পঙ্গু বাবা আর ছোট ভাইটার সঙ্গে সুখটা শেয়ার করতেই সে দৌড়ে এসেছে তা বুঝলাম। ছোট ছোট সুখের সংবাদ গুলো আসলে এমনই হয়। জানেন, মাত্র ৬০ টাকার বিনিময়ে এমন সুখটা সেদিন দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। যাদের সামর্থ্য আছে তারা এমন সুখ কিনতে পারেন অনায়াশেই।


ভারতের আগড়তলা বই মেলায় নিজের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, ভারত—বাংলাদেশ চেম্বার অব কমাসের্র একটি অনুষ্ঠানে যোগদানের পর হোটেল থেকে আগরতলা এয়ারপোটের্র উদ্দেশে উবার চেপেছি কলকাতা যাব বলে। ট্রাফিক সিগন্যালে পা নেই লাঠি ভর করেই গাড়ির সামনে হাজির ২২/২৩ বছরের এক যুবক। কিছু হাতে দিতে চেহারাটা যেন জলজল করছে তার। প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তিটা হয়তো বেশি ছিল তার, নয়তো তৃপ্তিটা বেশি! ভাবলাম মানুষকে খুশি করতে অনেক বেশি কিছু লাগে না শুধু একটা মন লাগে। মাঝে মাঝেই যদি এমনটা করি আমরা অন্তত জ্বলজ্বলে হাসিমুখ গুলোতো দেখতে পাব।


খুব নিকটাত্মীয়ের গল্পটা বলছি আমি। সেটি ছিল বছর পনের আগের কথা। তখন রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে থাকি আমরা। আমার ওই আত্মীয় বিদেশ থেকে তার সন্তানদের জন্য অনেক সুন্দর সুন্দর জামাকাপড় কিনে আনেন। কোরবনি ঈদের ঠিক দু'দিন আগের কথা। সন্তানদের মাঝে কাপড় বণ্টন করতে গিয়ে দেখলেন বাসার কাজের বুয়াটা সেদি তার সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কাজে আসেন। মিশুটি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল সেই কাপড়ের দিকে। আত্মীয়ের দিলে ভীষণ চোট লাগে। সঙ্গে সঙ্গেই গায়ে কাপড় চেপে নিচে নেমে গেলেন তিনি। ফুটপাত থেকে একটি লাল গেঞ্জি আর কালো রংয়ের প্যান্ট নিয়ে এলেন। তার হাতে কাপড়গুলো দিতেই সে কি আনন্দ! আমিও উপভোগ করি তার সেদিনের জ্বলজ্বলে সেই মুখখানি। অল্পতে খুশি হওয়া সেই চেহারাটা এখনো আমার চোখে ভাসে। বিদেশ থেকে দামি ব্রান্ডের কাপড় সবটা যে তার সন্তানদের পছন্দ হয়নি এটা আমি সেদিন বুঝতে পেরেছি। সৃষ্টিকর্তা আসলে সত্যিই পারেন। সুখটা কাকে কখন কীভাবে দেবেন, তৃপ্তি কোথায় নিহিত সেটা অত্যন্ত রহস্যময়। কাউকে তিনি অল্পতে অনেক তৃপ্তি আর সুখ দেন আবার অনেক কিছু থেকেও অনেকের সুখ নেই শান্তি নেই। এটাই হয়তো ভালোলাগার দুনিয়ায় শ্রষ্টার মহান খেলা...


ঘুমটা আসলে আলস্নাহর বিশাল একটা নেয়ামত। লাখ টাকার পালঙ্কে শুয়ে কারো হয়তো ঘুম হয় না; ছটফট করে রাতটা কষ্টে কাটে। স্বামী হয়তো কোনো ডিস্কো পার্টিতে কিংবা মদের বারে ফুর্তি করছে। রাস্তা কিংবা ফুটপাতে টাঙ্গানো পলিথিনের ভেতরে অনেকে দম্পতির কতই না সুখের সংসার। এই আমরাই দেখি ফুটপাতে শব্দ আর ধুলাবালির মধ্যে কেউ কেউ নাক ডেকে ঘুমায়। আবার দেখি রাস্তার পাশে কোনো খালি জায়গায় ভর রোদে তৃপ্তির ঘুম দিচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ। অনেকে এসিতে ঘুমের ওষুধ খেয়েও ঘুমাতে পারে না। দামি গাড়ি, বাড়ি, খাট—পালং আর অর্থ বৈভব দিয়ে সুখ আর তৃপ্তি পাওয়া যায় না। সুখটা অন্য এক রকম। অনেক অথের্র মধ্যে থেকেও মানুষ সুখী নয়; আবার অল্প অর্থে খুব সুন্দর সুখী জীবনযাপন করছেন অনেকে। অনেকে ফুটপাত থেকে জামা কিনে তৃপ্ত। গায়ে জড়িয়ে ভাবেন কতইনা সুন্দর লাগছে তাকে। আবার একই জামা গায়ে চেপে চুলকানি বেড়ে যায়! ফুটপাত থেকে কেনা জামা ভেবে কুটকুট করছে গায়। চিত্তে শান্তি নেই। ভাবে এত কম দামি জামা কী ভাবছেই না জানি লোকে। ওই যে বলছিলাম, নিজ ভাবনাটার মধ্যেই সুখ অন্তর্নিহিত। সুখী হতে নিজেকে সুখী ভাবতে হয়। সুখ পেতে হয় নিজের কাছেই।


অঢেল অর্থের মালিক এক পুলিশ কর্মকর্তা তার মাকে অসুস্থ হলে প্রথমে চেন্নাই পরে সিঙ্গাপুর পাঠান চিকিৎসার জন্য। মাস দুয়েক পরে খালাম্মাকে লাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে দেশে। কোনো চিকিৎসক কোনো চিকিৎসায় তাকে সারিয়ে তুলতে পারেননি। একই সময় আমাদের কাজের ছেলাটা তার মা অসুস্থতার কথা জানায় আমাদের। বলছিল, মস্ত বড় রোগ হয়েছে তার। আর নাকি বাঁচানো যাবে না। আমার ডাক্তার ছেলেটা তার হাসপাতালে ক'দিন চিকিৎসা দিতেই তিনি ভালো হয়ে উঠলেন। মাত্র অল্প ক'টাকা খরচেই সুস্থ হলেন ওই মা। সুস্থতা আলস্নার বড় নেয়ামত। কেউ অল্পতেই সেরে উঠে আবার সুস্থ মানুষ আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যান, শত চেষ্টায়ও তাকে আর এই পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। এমনটাই তো হচ্ছে সব সময়।


কই, আমি আমার বাবাকেতো শত চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারলাম না। ক'মাস আগে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান। দেশের অসংখ্য নামিদামি ডাক্তার বোর্ড মিটিং করেও দিনের পর দিন চেষ্টা করে সব ব্যর্থ। মন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিবসহ অনেকের তদারকির পরও কি আমি আমার বাবাকে আর বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছি? জীবনের গল্পতো অনেকই হলো। আমার বাবার জীবনের গল্প না বললে গল্পের সমাপ্তি হবে না হয়তো।আমার বাবার আলহাজ মীর তাজউদ্দিন আহম্মেদ। দেশ স্বাধীন করতে যুদ্ধে অংশ নিয়ে ছিলেন; দেশকে প্রচন্ড রকমে ভালোবাসেন। তিনি ২০২২—এর ২৩ অক্টোবর আমাদের ছেড়ে পরপারে পাড়ি দিয়েছেন। সেই থেকে আমি বটবৃক্ষের ছায়া বঞ্চিত একজন মানুষ। তার অভাবটা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। আমার দৃষ্টিতে আমার বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ ও আদর্শ ব্যক্তি ছিলেন। শুধু তার সন্তানদের জন্য নয়, সবার জন্য। একটা মানুষ কত বেশি নীতিবান, নিঃস্বার্থ, ধৈর্যশীল এবং উদার হতে পারে তা আমার বাবাকে দেখলেই বুঝা যেত। সেই ছোটকাল থেকেই যে বাবাকে যেভাবে দেখেছি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ৯৬ বছরে তিনি ঠিক তেমনি আছিলেন। নীতি ও কর্তব্যে অটল একটা পরোপকারী মানুষ।


যেখানে আমরা কামনা করি, আমার সন্তান থাকুক দুধে—ভাতে, সেখানে আমার বাবা কামনা করেন তার সন্তান থাকেন যেন ন্যায়—নীতিতে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি পদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। তার কাছে কর্মই ছিল জীবন। তাই ৯৬ বছর বয়সেও তার বসে থাকার ফুসরত ছিল না। এ বয়সেও কেন এত কাজ করেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলতো, 'কাজ না করে খেলে খাবার হালাল হয় না'। বাবা তার ছাদ বাগানটা আর সমাজ এবং পারিবারিক জীবনের দ্বন্দ্ব মিটাতে দিনের অনেকটা সময় পার করতেন। বাবাকে কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করতে দেখিনি। পারিবারিক বা সামাজিক যে কোনো আদালতে তার বিচার ছিল নিরপেক্ষ। সত্যের ব্যাপারে কাউকেই পরোয়া করতেন না।


কখনো স্নেহের প্রচন্ড শীতল হাওয়া তার ন্যায়বিচারের শিক্ষাকে নেভানো বা অন্যদিকে প্রবাহিত করতে পারেনি। তার দৃষ্টি সবার ওপর মানুষ। তাকে দেখেছি, তার অফিসের অধিনস্থ কেরানি ও পিয়নকেও সম্মান দেখাতে। তিনি নিজের এবং তার সন্তানের স্বার্থ অপেক্ষা করে অন্যের স্বার্থকে বড় করে দেখতেন। নিজের ক্ষতি ও ত্যাগ স্বীকার করেও অন্যের মঙ্গলের জন্য কাজ করেছেন। বাবাকে কখনো অন্যায় করতে দেখিনি। মিথ্যা বলতে শুনিনি। আমাদের তিনি সে শিক্ষাই দিয়েছেন। এমন একজন নিঃস্বার্থ, নির্লোভ এবং ন্যায়বিচারক বাবার সন্তান হয়ে আমরা গর্ববোধ করি এখনো। আমার বাবার স্নেহের ছায়ায় আমরা ৫ ভাইবোন সিক্ত ছিলাম। তিনি ছাড়া আমাদের জীবন যেন ছিল অন্ধকার। আমরা এ আলো হারাতে চাইনি। কিন্তু বিধির বিধান স্যু করে তিনি আমাদের ছেড়ে গেছেন। সময়টা খুব বেশি না তবুও মনে হয় কত শত বছর যেন বাবাকে দেখি না। আমাদের সব যেন শূন্যতায় ভরা।এখন চিকিৎসা সেবায় কি চলছে? টুকুন ডাক্তারদের মতো মানবিক চিকিৎসক কমে গেছে। সারাদেশে সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের যেন কোনো শেষ নেই। অনেক ক্লিনিকতো রীতিমতো অচিকিৎসকরাই রোগীদের চিকিৎসা করে যাচ্ছেন। অথচ সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বড় বড় কর্মকর্তা যেন 'নাকে তেল দিয়ে ঘুমায়। দেশের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অবস্থাতো আরও ভয়াবহ। রোগ পরীক্ষার নামে এদের বেশির ভাগই মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে, রোগীদের প্রকারন্তরে হত্যা করছে। এ রকম হৃদয়বিদারক ঘটনা অহরহ ঘটছে। কারণ বেশির ভাগ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রশিক্ষিত লোকজন বা টেকনিশিয়ান নেই বললেই চলে। পরীক্ষায় যেসব উপাদান ব্যবহার করা প্রয়োজন, তা করা হয় না। আবার অনেকে খরচ কমাতে মেয়াদোত্তীর্ণ উপাদান ব্যবহার করে। দু'টি হাসপাতালের মালিক হিসেবে দীর্ঘ ১৬ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি অনেকেই হাসপাতালের বিধি নিষেধ মানেন না। এসব সেন্টারে আগে থেকে প্যাথলজির একজন অধ্যাপকের সই করা রেজাল্ট সিট থাকে, সে যা খুশি লিখে রোগীর স্বজনদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়। আমরা জানি না, আর কত নিচে নামব আমরা? নীতি—নৈতিকতাহীন ব্যবসার কাছে মানুষ আর কতকাল অসহায় হয়ে থাকবে? আর কত নিষ্ঠুরতা আমাদের দেখতে হবে? রাষ্টে্রর কাছে আমরা এর প্রতিকার চাই। মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো নিয়ে যেন ব্যবসার নামে লাগামহীন কর্মকান্ড না চলে, তার নিশ্চয়তা চাই।


আসলে আমরা নিজেরাই যেন দিন দিন জটিল হয়ে যাচ্ছি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়ন হয়েছে। অবনতি হয়েছে আমাদের। আমাদের চিকিৎসকরা অনেকে দিনকে দিন জটিল হচ্ছেন, বাণিজ্যিক হচ্ছেন (তবে সবাই না)। ছোট বেলায় জ্বর হলে মা জোর করে সাগু খাইয়ে দিতেন। সাগু খাওয়ার ভয়েই দৌড়ে পালাত জ্বর। তা না হলে বড় জোড় ডাকা হতো টুকুন ডাক্তারকে। তিনি যে দোকানে বসে চিকিৎসা দিতেন তার আশপাশের পথঘাটগুলো মান্ধাতা আমলের ছিল। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু কাদা। তখন ছিল না ওই গ্রামে বিদ্যুতের ব্যবস্থাও। ভাঙাচোরা রাস্তায় রাত বিরাতে অন্ধকারেই ছুটতেন টুকুন ডাক্তার। তিনি মিকচার কিংবা দু/একটা বড়ি খাইয়ে দিলেই জ্বর—জারি হাওয়ায় মিলাত। আর হাঁচি—কাশি তো তিনি তুড়ি দিয়েই সারিয়ে দিতেন। এখন আছেন কি সেই ভদ্র, সজ্জন, বিনয়ী, ত্যাগী ও মানবদরদী কোনো টুকুন ডাক্তার? এখনকার ডাক্তাররা সেবা দেন না তা বলছি না। বললে যে আমার ঘারেই পড়বে বেশি। কারণ আমার পরিবারেই ডজনখানেক ডাক্তার আছেন।ডাক্তাররা এখন বড্ড বেশি প্রফেশনাল, এটা আমাকে বলতেই হবে। আমি একটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান হিসাবে বলছি, প্রফেশনালহাসপাতালগুলো তো বটেই! তবে এও বলছি আমার হাসপাতালে অহেতুক টেষ্ট, অহেতুক সিজারের কোন সিস্টেম চালু নেই। নরমাল ডেলিভারীর সংগ্রাম চলছে হাসপাতালটিতে।

 

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও সমাজ গবেষক।

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত