আপডেট :

        মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েও চাপে ট্রাম্প, বাইডেনের মতো একই সংকটে হোয়াইট হাউ

        ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তার অভিযোগে ব্রিটেনে দুই নাগরিক অভিযুক্ত, তদন্তে নতুন মোড়

        ৬০ লাখ ডলারে বিক্রির অপেক্ষায় বিরল ডাইনোসরের কঙ্কাল, জনসমক্ষে দেখা যাবে কি ভবিষ্যতে

        হ্যালোইন সাইকেল রাইডে গাড়ির ধাক্কায় দুইজনের মৃ ত্যু, এক ব্যক্তিকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেল চালক

        ক্যানসারের চিকিৎসার মধ্যে আইনজীবীকে বিষ দিয়ে হ ত্যার অভিযোগ, সম্পত্তি দখলে সৎপুত্র গ্রেপ্তার

        হাসপাতাল ও ক্লিনিক বাড়াচ্ছে ইউসিএলএ, তবু কম আয়ের রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ

        দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে কয়েক দিনের বন্যার শঙ্কা, রেকর্ড উচ্চতায় উঠতে পারে সমুদ্রের পানি

        ক্যালিফোর্নিয়ার বিলাসবহুল প্রাসাদে সারোগেসিতে জন্ম নেওয়া ২৬ শিশু, নি র্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার দম্পতি

        ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে যে পাঁচটি বড় পরিবর্তন এসেছে

        জাপানে নারী হ ত্যা ও লুটের অভিযোগে মার্কিন মেরিন সেনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন

        মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করতে ইরানের তৎপরতা বেড়েছে, গোয়েন্দা প্রধানের সতর্কবার্তায় বাড়ছে উদ্বেগ

        অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন কিনতে লস এঞ্জেলেসে রাতভর অপেক্ষা, দাম প্রায় দুই হাজার ডলার

        মৌসুমের শুরুতেই ফ্লুতে দুইজনের মৃত্যু, টিকাদানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলছে লস এঞ্জেলেস কাউন্টি

        ক্যালিফোর্নিয়ার ছয়টি অমীমাংসিত খুনের রহস্য সমাধানে ৩ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা নিউজমের

        ছয় সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর ফিরল ডিজনিল্যান্ডের ইন্ডিয়ানা জোন্স রাইড, কী কী পরিবর্তন হলো এবার

        ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে বাড়ছে জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি, বালুর বাঁধ নির্মাণে রাতদিন কাজ করছেন কর্মীরা

        আর্কাডিয়ায় ১৫ বছরের কিশোরীকে হত্যার পর নিজেকেও গুলি করলেন সাবেক প্রেমিক, জানাল পুলিশ

        মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমাতে ভারতীয় তেল শোধনাগারের দ্বারস্থ ট্রাম্প প্রশাসন

        মিসিসিপিতে ওয়ালমার্টের পার্কিংয়ে পুলিশের গুলিতে এক বছরের শিশুর মৃত্যু, প্রকাশ পেল বডিক্যামের ভিডিও

        আলাস্কার সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান হারলে ফল ঘোষণা আটকে দিতে আদালতের দ্বারস্থ ট্রাম্প প্রশাসন

ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন কংগ্রেসনাল মানচিত্র বহাল রাখল ফেডারেল আদালত, ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়

ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন কংগ্রেসনাল মানচিত্র বহাল রাখল ফেডারেল আদালত, ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়

ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় কংগ্রেসনাল আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় এসেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ফেডারেল আদালত বুধবার রায় দিয়েছে যে, ক্যালিফোর্নিয়া ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নতুনভাবে নির্ধারিত কংগ্রেসনাল জেলা সীমা ব্যবহার করতে পারবে। এই সিদ্ধান্ত গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আদালতের এই রায়ের ফলে ডেমোক্র্যাটদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে অতিরিক্ত পাঁচটি আসন জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা তাদের চেম্বারের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সহায়তা করতে পারে।

রিপাবলিকান পার্টির আইনজীবীরা নতুন মানচিত্র কার্যকর করা সাময়িকভাবে বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছিলেন। তাদের দাবি ছিল, ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্য আইনসভা প্রস্তাবনা প্রপোজিশন ৫০–এর মাধ্যমে এমনভাবে আসন পুনর্বিন্যাস করেছে, যা অসাংবিধানিকভাবে লাতিনো ভোটারদের পক্ষে ঝুঁকে রয়েছে।

তবে তিন বিচারকের বেঞ্চের দুই বিচারক রিপাবলিকানদের এই যুক্তি খারিজ করে দেন। আদালত রায়ে বলেন, মানচিত্রটি মূলত ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা টেক্সাসসহ রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যগুলোর গেরিম্যান্ডারিংয়ের পাল্টা পদক্ষেপ।

জেলা বিচারক জোসেফিন এল. স্ট্যাটন তার রায়ে লেখেন, “প্রপোজিশন ৫০ ঠিক সেটাই, যেভাবে এটি উপস্থাপন করা হয়েছিল—পাঁচটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত আসন ডেমোক্র্যাটদের দখলে আনতে একটি রাজনৈতিক গেরিম্যান্ডার।”

তিনি আরও বলেন, মানচিত্র প্রণেতাদের উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভোটারদের ইচ্ছা। “এই ক্ষেত্রে ভোটাররাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পক্ষ।”

এই রায়ে স্ট্যাটনের সঙ্গে একমত হন জেলা বিচারক ওয়েসলি হসু, যিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মনোনীত। তবে নবম সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের বিচারক কেনেথ কে. লি, যিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত, রায়ের বিপক্ষে মত দেন।

ভিন্নমত পোষণ করে বিচারক লি বলেন, নতুন মানচিত্র তৈরির ক্ষেত্রে জাতিগত বিষয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি উল্লেখ করেন, মানচিত্র প্রস্তুতকারী বিশেষজ্ঞ পল মিচেলের প্রকাশ্য মন্তব্যে দেখা যায়, লাতিনো ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখাই ছিল ডেমোক্র্যাটদের মূল লক্ষ্য।

ক্যালিফোর্নিয়া রিপাবলিকান পার্টি জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে জরুরি নিষেধাজ্ঞার আবেদন করবে।

তবে ডেমোক্র্যাট নেতারা রায়টিকে ভোটারদের জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এক বিবৃতিতে বলেন, “ভোটারদের কণ্ঠরোধ করার রিপাবলিকানদের দুর্বল চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার জনগণ স্পষ্টভাবে প্রপোজিশন ৫০ সমর্থন করেছে।”

ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা বলেন, “আজকের রায় জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন। এখন পর্যন্ত প্রপোজিশন ৫০–এর বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি চ্যালেঞ্জ ব্যর্থ হয়েছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় শুধু ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেসে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করবে না, বরং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে গভর্নর নিউসমের জাতীয় রাজনৈতিক প্রোফাইলও আরও উঁচুতে তুলে ধরবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্টে রিপাবলিকানদের পক্ষে এই রায় উল্টে দেওয়া কঠিন হবে। এর আগে টেক্সাসের ক্ষেত্রেও সুপ্রিম কোর্ট রাজনৈতিক গেরিম্যান্ডারিংকে বৈধ হিসেবে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছে।

ইউসিএলএ ল স্কুলের অধ্যাপক রিচার্ড এল. হ্যাসেন বলেন, “এই মামলা শুরু থেকেই দুর্বল ছিল। সাম্প্রতিক টেক্সাস সংক্রান্ত রায়ের পর এটি কার্যত অসম্ভব হয়ে গেছে।”

সব মিলিয়ে, আদালতের এই সিদ্ধান্তে ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন কংগ্রেসনাল মানচিত্র ব্যবহার প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে, যা ২০২৬ সালের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত