ক্যালিফোর্নিয়ার ২০ হাজার ভোট আটকে দেওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন আবারও খারিজ
ক্যালিফোর্নিয়ার ২০ হাজার ভোট আটকে দেওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন আবারও খারিজ
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২০ হাজার ভোটারের ব্যালট গণনা বন্ধ রাখার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের করা আবেদন দ্বিতীয়বারের মতো প্রত্যাখ্যান করেছে ফেডারেল আপিল আদালত। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের তিন বিচারকের একটি প্যানেল ২-১ ভোটে এই সিদ্ধান্ত দেয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ২০ হাজার নিবন্ধিত ভোটারের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও থাকতে পারেন, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। তাই এসব ভোটারের পাঠানো ব্যালট আলাদা করে রাখতে এবং নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর গণনা বন্ধ রাখতে চেয়েছিল দেশটির বিচার বিভাগ।
তবে আদালত মনে করেছে, চলমান নির্বাচনের মধ্যে এ ধরনের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসন যথেষ্ট আইনি ভিত্তি দেখাতে পারেনি। বিচারকদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী অঙ্গরাজ্য ও কংগ্রেসের হাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষমতা রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার বিদ্যমান নির্বাচনী আইন পরিবর্তন করে নির্বাহী বিভাগের নির্দেশে ভোট গণনা বন্ধ করার সুযোগ নেই।
আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা তাঁদের পর্যবেক্ষণে বলেন, কংগ্রেস এখন পর্যন্ত নির্বাচনী বিধি পরিবর্তনের জন্য তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেনি। ফলে ভোটারদের যোগ্যতা যাচাই এবং অযোগ্য ভোটারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রচলিত আইনই কার্যকর থাকবে।
বিচারকেরা আরও বলেন, ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটের ক্ষেত্রে ভিন্ন কোনো পদ্ধতি প্রয়োজন বলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার মনে করলে সেই প্রস্তাব আদালতের পরিবর্তে কংগ্রেসের কাছে উপস্থাপন করা উচিত।
বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের তৈরি করা সন্দেহভাজন ভোটারদের তালিকার নির্ভরযোগ্যতা। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই তালিকার তথ্য কতটা সঠিক, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। নির্বাচনের ৯০ দিন আগে ভোটার তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন সীমিত রাখার যে ফেডারেল আইন রয়েছে, তার উদ্দেশ্যও এমন অনিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে ভোটারদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকানো।
তবে তিন বিচারকের মধ্যে ভিন্নমত পোষণ করেন ট্রাম্পের মনোনীত বিচারক প্যাট্রিক জে. বুমাটে। তাঁর মতে, প্রশাসনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা ঠিক হয়নি। তিনি যুক্তি দেন, সন্দেহভাজন ভোটারদের ব্যালট বাতিল করার পরিবর্তে আলাদা করে রাখলে তাঁদের নাগরিকত্ব যাচাই করার সুযোগ তৈরি হতো। এতে কোনো ভোট বাতিল হতো না, বরং ভোটারদের যোগ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।
বুমাটে তাঁর ভিন্নমতপূর্ণ পর্যবেক্ষণে বলেন, নাগরিকদের ব্যালটের সঙ্গে সন্দেহভাজন অ-নাগরিকদের ব্যালট মিশে যাওয়া ঠেকানোই ছিল ফেডারেল সরকারের প্রস্তাবিত পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।
এর আগে গত ২৮ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল জেলা আদালতও ট্রাম্প প্রশাসনের একই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। বিচারক ডেভিড ও. কার্টার তাঁর সিদ্ধান্তে বলেন, নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহের ভিত্তিতে বিপুলসংখ্যক ব্যালট আলাদা করার মতো কার্যকর ব্যবস্থা প্রশাসন দেখাতে পারেনি। এতে বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারাও প্রশাসনের সরবরাহ করা তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, তালিকায় অনেক বৈধ মার্কিন নাগরিকের নামও থাকতে পারে। ইতিমধ্যে ব্যালট খোলা, প্রক্রিয়াকরণ ও গণনার কাজ শুরু হওয়ায় নির্দিষ্ট ভোটারের ব্যালট আলাদা করে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এরই মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩০ লাখের বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতেই ভোট দিয়েছেন পাঁচ লাখের বেশি মানুষ।
এই পরিস্থিতিতে আদালতের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সন্দেহভাজন ভোটারদের ব্যালট আটকে রাখার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া আইনি উদ্যোগ আবারও বাধার মুখে পড়ল। নির্বাচনের আগে ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই এবং অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ফেডারেল সরকারের হস্তক্ষেপের ক্ষমতা নিয়ে বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে।
তথ্যসূত্র: লস এঞ্জেলেস টাইমস, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন