ইসরায়েলের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ, আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি নেতানিয়াহুর দলের
ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনা সহজ করতে ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচি, ভোট হবে প্রস্তাব ৩৭-এ
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন বাড়ি কেনা সহজ করতে ২৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ঋণ কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব উঠেছে। ‘প্রস্তাব ৩৭’ নামে এই উদ্যোগের লক্ষ্য মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাড়ি কেনার প্রাথমিক খরচ কমানো। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা প্রস্তাবটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এটি পাস হলে নতুন নির্মিত বাড়ি ও কন্ডো কেনার ক্ষেত্রে যোগ্য ক্রেতারা বাড়ির দামের সর্বোচ্চ ১৭ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ সহায়তা পেতে পারেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়া হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সি সর্বোচ্চ ২৫ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব বন্ড ইস্যু করতে পারবে। তবে সংস্থাটি পুরো অর্থ সংগ্রহ করতে বাধ্য থাকবে না। বন্ড বিক্রি করে পাওয়া অর্থ দিয়ে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য বিশেষ ঋণ কর্মসূচি চালু করা হবে। এই ঋণের মাধ্যমে বাড়ির দাম পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অগ্রিম অর্থ বা ডাউন পেমেন্টের চাপ কমানোই মূল উদ্দেশ্য।
বর্তমানে বাড়ি কেনার সময় ক্রেতাদের সাধারণত মোট দামের ৩ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম দিতে হয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির উচ্চমূল্যের কারণে অনেক পরিবারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করা কঠিন। প্রস্তাব ৩৭ অনুযায়ী, প্রচলিত বন্ধকি ঋণের সঙ্গে নতুন সহায়তা যুক্ত হলে ক্রেতাদের নিজস্ব অর্থে অন্তত ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে।
উদাহরণ হিসেবে, ৮ লাখ ডলারের একটি বাড়ি কিনতে ৩ শতাংশ অগ্রিম অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৪ হাজার ডলার। প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ ১৭ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা পাওয়া গেলে ক্রেতার প্রাথমিক অর্থের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। তবে এই সুবিধা কেবল যোগ্য বাড়ি ও নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী ক্রেতাদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
কর্মসূচিতে অংশ নিতে আবেদনকারীকে অন্তত এক বছর ধরে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা হতে হবে এবং কেনা বাড়িতে নিজেকেই বসবাস করতে হবে। পরিবারের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের দ্বিগুণের বেশি হওয়া চলবে না। বাড়িটি নতুন নির্মিত হতে হবে অথবা আগে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত কোনো ভবন আবাসিক হিসেবে রূপান্তরের পর প্রথমবার বিক্রি হতে হবে। বাড়ির দামের সীমাও নির্ধারিত থাকবে, যা কাউন্টি অনুযায়ী প্রায় ১০ লাখ থেকে ১৫ লাখ ডলারের মধ্যে হতে পারে।
ঋণগ্রহীতারা মাসিক কিস্তিতে অর্থ পরিশোধ করবেন। সেই অর্থ দিয়ে বন্ডের বিনিয়োগকারীদের পাওনা মেটানো এবং কর্মসূচি পরিচালনার খরচ বহন করা হবে। ঋণগ্রহীতা কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ঋণদাতাদের আর্থিক ঝুঁকি বহন করতে হবে। সরকারি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এতে অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় সরকারের সরাসরি ব্যয় হওয়ার কথা নয়।
প্রস্তাবটির সমর্থকেরা মনে করেন, এতে মধ্যবিত্ত পরিবারের বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ বাড়বে। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, নতুন ঋণ কর্মসূচি বাড়ির উচ্চমূল্যের মূল কারণগুলো দূর করবে না; বরং কিছু পরিবারকে আরও বেশি ঋণের বোঝায় ফেলতে পারে। ফলে ভোটারদের সামনে প্রশ্ন হলো, অগ্রিম অর্থের সংকট কমাতে এই কর্মসূচি কতটা কার্যকর হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন