ইসরায়েলের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ, আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি নেতানিয়াহুর দলের
আবাসন ব্যয় কমানোর লক্ষ্য, ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিবেশগত পর্যালোচনার নিয়ম বদলাতে প্রস্তাব ৪৫
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি, হাসপাতাল, স্কুল, সড়ক ও জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণের অনুমোদন দ্রুত করতে প্রস্তাব ৪৫ নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা এ প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রস্তাবটি পাস হলে নির্দিষ্ট প্রকল্পের পরিবেশগত পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিরোধ নিষ্পত্তির নিয়মে পরিবর্তন আসবে। এর মূল লক্ষ্য নির্মাণকাজে দীর্ঘসূত্রতা কমানো। তবে পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বার্থে নজরদারির ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
প্রস্তাবটির সমর্থকদের দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ায় বিদ্যমান অনুমোদন প্রক্রিয়া অনেক সময় দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এর ফলে নতুন বাড়ি নির্মাণ, হাসপাতাল সম্প্রসারণ, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হয়। এসব বিলম্বের কারণে নির্মাণ ব্যয় বাড়ে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত বাড়ির ক্রেতা, ভাড়াটিয়া, বিদ্যুৎ ও পানির গ্রাহক এবং করদাতাদের ওপর পড়তে পারে।
প্রস্তাবটির প্রচারকদের দাবি, বাড়ি নির্মাণে অনুমোদনসংক্রান্ত বিলম্বের কারণে প্রতিটি বাড়ির খরচ ৭৫ হাজার ডলারের বেশি বেড়ে যেতে পারে। তাঁদের উপস্থাপিত একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বছরে প্রায় ২০ হাজার অতিরিক্ত বাড়ি নির্মাণ সম্ভব হতে পারে। তবে এসব হিসাব বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে নতুন নিয়মের প্রয়োগ ও নির্মাণ প্রকল্পের বাস্তব পরিস্থিতির ওপর।
প্রস্তাবটি পাস হলে নির্দিষ্ট প্রকল্পের আবেদন অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে সরকারি সংস্থাগুলোকে ৩৬৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রকল্পের অনুমোদন নিয়ে আদালতে মামলা হলে তা নিষ্পত্তির জন্যও ২৭০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশগত পর্যালোচনায় বিকল্প নকশা বিবেচনার পরিধি সীমিত হবে। আদালত কী ধরনের প্রমাণ বিবেচনা করতে পারবে এবং কী ধরনের প্রতিকার দিতে পারবে, সেখানেও পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রস্তাবের আওতায় আবাসন, হাসপাতাল, স্কুল, সড়ক, সেতু, গণপরিবহন, পানি সরবরাহ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ এবং ব্রডব্যান্ড অবকাঠামোর মতো প্রকল্প আসতে পারে। সমর্থকেরা মনে করেন, এতে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ দ্রুত এগোবে এবং প্রকল্পের বাড়তি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।
তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, পরিবেশগত পর্যালোচনা ও আইনি চ্যালেঞ্জের সুযোগ সীমিত হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য, বায়ু ও পানির মান এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাঁদের মতে, দ্রুত অনুমোদন পেলেই বাড়িভাড়া বা জীবনযাত্রার অন্যান্য খরচ কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। আবাসন কোথায় এবং কীভাবে নির্মাণ করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের প্রাথমিক ব্যয় বছরে কয়েক কোটি ডলার হতে পারে, যা ১০ কোটি ডলারও ছাড়িয়ে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক প্রভাব নির্ভর করবে নতুন নিয়মে কত প্রকল্প বাস্তবায়িত হয় এবং সেগুলোর ফলে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তার ওপর।
সব মিলিয়ে, প্রস্তাব ৪৫ নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে তিনটি বিষয়—নির্মাণকাজের গতি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সরকারি ব্যয়। সমর্থকেরা দ্রুত উন্নয়ন ও আবাসন সরবরাহ বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা মনে করছেন, অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে গিয়ে পরিবেশগত সুরক্ষা ও স্থানীয় জনগণের স্বার্থ যেন দুর্বল না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন