আপডেট :

        ট্রপিক্যাল স্টর্ম র‍্যাচেলের জোয়ারে প্লাবিত নিউপোর্ট বিচ, স্থানীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা কর্তৃপক্ষের

        বাড়ির সামনের লনে ঘুমন্ত আইসিই কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ, হামলার অভিযোগ কর্তৃপক্ষের

        ট্রপিক্যাল স্টর্ম র‍্যাচেলের আগমনে সতর্ক দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া, কর্মকর্তা বললেন আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি আসছে

        ফ্লোরিডায় আঘাতের পর শক্তি হারাল হারিকেন ইসাইয়াস, দক্ষিণ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বন্যার শঙ্কা

        প্রায় ৯০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে আবার প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড, কেন ফিরছে পুরোনো শাস্তির আয়োজন

        অমীমাংসিত খু নের মামলায় পুলিশের কাছে ভুয়া তথ্য পাঠাল অ্যানথ্রপিকের এআই

        . শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে শীতে আবহাওয়ার রেকর্ড ভাঙার ৭০ শতাংশ সম্ভাবনা

        যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে আলোচিত ফোর্ট হুড হামলাকারীর মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণা পেন্টাগনের

        নতুন প্রযুক্তিতে জানা যাবে বিশ্বের বৃহত্তম বন্যপ্রাণী পারাপার নিয়ে প্রাণীদের অনুভূতি ও আচরণের পরিবর্তন

        লস এঞ্জেলেসে গোপন পতিতালয়ের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিল পুলিশ, এখনো গ্রেপ্তার হননি এর মালিক

        ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস, ক্ষতি ৩৩০ কোটি ডলার

        এইচ-১বি ভিসার ফি এক হাজার থেকে এক লাখ ডলার করার নির্দেশ ট্রাম্পের

        লস এঞ্জেলেসের স্কিড রো এলাকায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান জোরদার

        ক্যালিফোর্নিয়ায় কৃষিশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৯.৭৫ ডলার

        লস এঞ্জেলেসের আলোচিত ‘আবর্জনার বাড়ি’ আবারও ময়লায় ঢেকে গেছে

        বাবাকে দিয়ে ১৪ বছরের মেয়েকে নি র্যাতন ও গর্ভবতী করার ঘটনায় গ্রে প্তার মা

        ক্যালিফোর্নিয়ায় পানির বিল দেশের সবচেয়ে বেশি: বাড়ছে বাসিন্দাদের খরচ

        লস এঞ্জেলেসের উপকূলে আঘাত হানছে ‘কেলভিন ওয়েভ’, এল নিনোর প্রভাবে বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

        জরিপে উদ্বেগ: ট্রাম্প ও কংগ্রেস এআইয়ের ঝুঁকি যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না

        ট্রাম্পের বার্তা: ইরান লস এঞ্জেলেস বা সান দিয়েগোতে হা মলা চালাতে পারবে না

যৌন জিহাদের ফাঁদে মুসলিম নারীরা !

যৌন জিহাদের ফাঁদে মুসলিম নারীরা !

একাধিক সূত্র থেকে খবর এসেছে, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ও মালয়েশিয়া থেকে একদল নারী ইরাক ও সিরিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন ইসলামিক স্টেট সেনাদের অনুগত থেকে যৌন জিহাদে যোগ দেয়ার আশায়। তাদের উদ্দেশ্য, ইসলামিক স্টেটের সেনারা যেন খেলাফত প্রতিষ্ঠায় তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে পারেন, যৌনসঙ্গ দেয়ার মাধ্যমে সে প্রণোদনা বজায় রাখতে সহায়তা করা।মালয়েশিয়ার সূত্র জানিয়েছে, ঐ দেশ থেকে যে সকল নারী ইরাক ও সিরিয়া গমন করেছেন তারা আইসিসের সংগ্রামের প্রতি সহমর্মী, তারা মনে করছেন সেখানে তাদের শারীরিক প্রণোদনা যোগানোর সুযোগ দেয়া হবে।মালয়েশিয়ার তদন্ত কমিশন সে দেশের মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি মারফত জানতে পেরেছে, এ মুহূর্তে অন্তত ৫০ জন মালয়েশীয় ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যোগ দিয়ে যুদ্ধ করছেন। এদের ভেতর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী রয়েছেন যারা তথাকথিত যৌন জিহাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তদন্ত কমিশনগুলো পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে থাকে। মালয়েশিয়ার পাশাপাশি ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়াও তাদের প্রাপ্ত নথিগুলো গণমাধ্যমের সামনে উন্মুক্ত করেছে। শেষোক্ত দেশ দুটি থেকেই শতাধিক মুসলিম নারী ও পুরুষ ইরাক ও সিরিয়ায় আইসিসের সঙ্গে যোগ দিয়েছে বলে তাদের কাছে তথ্য আছে।
২০১৩ সালে সিরিয়ায় বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ পরিচালনার সময় সুন্নী যোদ্ধারা একটি ওয়াহাবী ফতোয়া প্রতিষ্ঠা করে।
ধর্মতত্ত্বের দোহাই দিয়ে ফতোয়া দেয়া হয়, ইসলামি জিহাদে নারীদের ‘জিহাদ আল নিকাহ’ বা যৌন জিহাদ শাস্ত্রসম্মত বৈধ। ওয়াহাবি সে ফতোয়ায় ১৪ বছর বা তার বেশি বয়েসী নারীদের যৌন জিহাদে রীতিমতো উৎসাহ প্রদান করা হয়। সে সময়ে তিউনিসিয়া থেকে প্রচুর তরুণী এ তত্ত্বে আস্থা স্থাপন করে সিরিয়া গমন করেন।
সুন্নী ওয়াহাবি মতাবলম্বী আইসিস চলতি বছরের জুন মাসে ইরাকী শহর মসুল দখলের পর খেলাফত প্রতিষ্ঠা করে এবং আন্দোলন চলাকালে স্থানীয় নারীদের ওপর যৌন জিহাদ চাপিয়ে দেয়া হয়। জানা যায়, রাস্তার দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার সাঁটিয়ে স্থানীয় পরিবারগুলোর কাছে অবিবাহিতা মেয়েদের যৌন জিহাদে যোগ দিতে পাঠিয়ে ‘জিহাদী দায়িত্ব’ পালন করার নির্দেশ দেয়া হয়। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট পরিবারটিকে শরীয়াহভিত্তিক কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ার করে দেয়া হয় ইসলামিক স্টেটের পক্ষ থেকে।
সে সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অসংখ্য নারী ভয়াবহ অমানবিক যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। উল্লেখ করা যেতে পারে তিউনিসিার সেই তরুণীদের কথাও, যারা স্বেচ্ছায় যৌন জিহাদে গমন করলেও পরবর্তীতে ভয়াবহ যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তিউনিসিয়া ছাড়াও ফ্রান্স, জার্মানি, চেচনিয়া, মিশর ও ইরাক থেকে অনেক মুসলিম নারী স্বেচ্ছায় যৌন জিহাদে গিয়েছিলেন অথবা তাদের পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন, অনেকে গর্ভে অযাচিত সন্তান নিয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন, কেউ কেউ থেকে গেছেন সিরিয়াতেই, স্বদেশে আর ফেরেননি।
পরবর্তীতে তাদের সাক্ষাৎকার থেকে জানা গেছে, গড়ে ২০ থেকে ৩০ বার যোদ্ধাদের মুখোমুখি হওয়া ছিল নৈমিত্তক ঘটনা। কোন কোন দিন তাদের ১০০ বারের মতো মুখোমুখি হতে হতো তাদের।
অনেক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এখনও পর্যন্ত ৪ নারীর আত্মহত্যার খবর গণমাধ্যমে এসেছে যারা ইসলামিক স্টেট সেনাদল কর্তৃক ক্রমিক ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন।
সম্প্রতি খাদিজা মরিয়ম নামের সিরিয়ায় অবস্থানকারী জনৈক ব্রিটিশ নারী জিহাদীর ভাষ্য গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমসমূহে এসেছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন ইসলামিক স্টেট কারও সম্পত্তি অন্যায়ভাবে দখল করে না, কারও নারীকে ধর্ষণ করে না, তারা সন্ত্রাসী নয়।
প্রকৃতপক্ষে ইসলামিক স্টেট যে প্রক্রিয়ায় নারীদের কাছ থেকে যৌন জিহাদ আদায় করে, সে প্রক্রিয়ায় ধর্ষণ ব্যাপারটির গায়ে ‘মুতাহ বিয়ে’ বা শাস্ত্রসম্মত অস্থায়ী বিয়ের পোশাক পরানো হয়, যে কারণে তাত্ত্বিকভাবে তা আর ধর্ষণ থাকে না বটে। কিন্তু আদপে তা ধর্ষণ, এবং ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের আওতাভূক্ত, এমনটাই মনে করেন মধ্যপ্রাচ্যের ধর্মতাত্ত্বিকদের একাংশ।

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত