দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় তাপপ্রবাহ, কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ১১৪ ডিগ্রি
ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই সৌদির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি: ট্রাম্প
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরব যদি ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়, তবেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর হবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, প্রস্তাবিত বেসামরিক পরমাণু চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের (এনরিচমেন্ট) কোনো সুযোগ থাকবে না এবং এটি শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ বা সামরিক-বহির্ভূত কাজে ব্যবহারের জন্য হবে। তবে এই চুক্তির অনুমোদন সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে সৌদি আরবের আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার ওপর।
ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন, সুদান, মরক্কো ও কাজাখস্তান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
তবে সৌদি আরব আগেই জানিয়ে দিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি না হলে তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এছাড়া পরমাণু চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এতে ইসরায়েলকে স্বীকৃতির শর্ত আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত আছে কি না, বা সৌদি আরব এ শর্তে সম্মত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সৌদি আরবের আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী নির বারকাত বলেছেন, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে সৌদি আরব পরমাণু শক্তি ব্যবহার করলে তা মোকাবিলা করতে ইসরায়েলের কোনো সমস্যা হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে এই চুক্তি একটি ‘শান্তিপূর্ণ পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি’। এর মাধ্যমে সৌদি আরবের পরমাণু জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ অবশ্য চুক্তিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে এটি পরমাণু অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
মার্কিনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ-এর মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রোজমেরি কেলানিক বলেন, সৌদি আরবকে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হলে তা হবে অত্যন্ত বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত। কারণ, কোনো দেশ নিজেই পরমাণু জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করলে ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র তৈরির ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছিলেন, সৌদি আরব পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে না। তবে ইরান যদি পরমাণু বোমা তৈরি করে, তাহলে সৌদি আরবও যত দ্রুত সম্ভব একই পথে হাঁটবে।
চুক্তিটি এখন পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা এর বিরোধিতা করতে পারেন। তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় চুক্তিটি আটকে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সমর্থন বিরোধীদের থাকবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন