লস এঞ্জেলেসের হাজারো নিম্নআয়ের রোগী হারাচ্ছেন ইউসিএলএ হেলথের চিকিৎসা
ধূসর নেকড়ের সুরক্ষা বাতিলের উদ্যোগ ট্রাম্পের, উদ্বেগ সংরক্ষণবাদীদের
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রে বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় থাকা ধূসর নেকড়ে ও এর একটি উপপ্রজাতি মেক্সিকান নেকড়ের সুরক্ষা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন তিনি।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে গবাদিপশু রক্ষার নামে খামারিরা নেকড়ে হত্যার সুযোগ পেতে পারেন। নির্বাহী আদেশে খামারিদের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠনগুলো। তাদের আশঙ্কা, নেকড়ের সংখ্যা পুনরুদ্ধারে কয়েক দশকের প্রচেষ্টা এতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের (এফডব্লিউএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির বনে মেক্সিকান নেকড়ের সংখ্যা ছিল ৩১৯টি। ১৯৯৮ সালে আবারও বনে ছাড়ার সময় এই সংখ্যা ছিল মাত্র চারটি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার ধূসর নেকড়ে রয়েছে। তবে মানুষের কর্মকাণ্ডে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বড় অংশ ধ্বংস হওয়ায় প্রজাতিটিকে এখনো বিপন্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২০২২ সালে ধূসর নেকড়েকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিপন্ন প্রজাতির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেটি আইনি জটিলতায় আটকে যায়। ট্রাম্পের আদেশ অনুযায়ী মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেকড়ের সুরক্ষা তুলে নেওয়ার পদক্ষেপ নিলে সংরক্ষণকর্মীরা আবারও আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তবে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ফলে খামারিরা এখনই নেকড়ে গুলি করে মারার অনুমতি পাচ্ছেন না। বরং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গামকে ৯০ দিনের মধ্যে ধূসর ও মেক্সিকান নেকড়ের সংখ্যা যথেষ্ট পুনরুদ্ধার হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করে সুরক্ষা তুলে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে বলা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে গবাদিপশুর সংখ্যা গত ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। একই সময়ে গত এক দশকে গরুর মাংসের চাহিদা ১০ শতাংশ বেড়েছে। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকে আরও সহায়তা করার সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, গবাদিপশুর ওপর নেকড়ের হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল এবং এসব হামলা খামারিদের আয়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে না।
ওয়েস্টার্ন ওয়াটারশেডস প্রজেক্টের উপপরিচালক গ্রেটা অ্যান্ডারসন বলেন, কয়েকজন খামারিকে সন্তুষ্ট করতে নেকড়েকে বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তার মতে, বিষয়টি আসলে ট্রাম্প প্রশাসনের নিজস্ব নীতির কারণে তৈরি হওয়া সমস্যাগুলো থেকে মানুষের মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা।
উলফ কনজারভেশন সেন্টার জানিয়েছে, বর্তমান ব্যবস্থায় নেকড়ের কারণে গবাদিপশুর ক্ষতি হলে খামারিরা ক্ষতির সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। এ ছাড়া নেকড়ের হামলা ঠেকাতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য আলাদা কর্মসূচির জন্য অর্থ দেয়।
গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন উলফ রিকভারি প্রজেক্টের নির্বাহী পরিচালক ক্লেয়ার মাসার বলেন, শুধু নেকড়ের সংখ্যা বেড়েছে বলেই মেক্সিকান নেকড়েকে বিপন্নতার ঝুঁকি থেকে মুক্ত বলা যায় না। এখন কেন্দ্রীয় সুরক্ষা দুর্বল করা হলে কয়েক দশকের সংরক্ষণ প্রচেষ্টা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর সময়েই ট্রাম্প প্রশাসন নেকড়ের সুরক্ষা নিয়ে এই উদ্যোগ নিয়েছে। খরা এবং গবাদিপশুর মধ্যে পরজীবীর সংক্রমণের কারণে দেশটিতে গরুর মাংসের সরবরাহ কমেছে, ফলে দাম বেড়েছে।
দাম কমাতে গরুর মাংস আমদানির ওপর বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে খামারিদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, আমদানি বাড়লে এমনিতেই কম থাকা লাভের পরিমাণ আরও কমে যেতে পারে।
উনিশ শতকের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার পরিকল্পিতভাবে নেকড়ে নিধন শুরু করেছিল। এর পাশাপাশি কৃষক ও জমির মালিকদের নেকড়ে ধরার ও হত্যার কারণে একসময় প্রাণীটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে যায়।
বর্তমানে অনেক খামারি এখনো নেকড়েকে গবাদিপশুর জন্য ক্ষতিকর প্রাণী হিসেবে দেখেন। তবে কেন্দ্রীয় আইন অনুযায়ী সুরক্ষিত নেকড়ে হত্যা করা এখনো অপরাধ।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন