হরমুজ প্রণালিতে দুই ট্যাংকারে হামলার অভিযোগ আমিরাতের, ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে আবুধাবি। সোমবারের এ হামলায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। এদিকে টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া সব পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ চার্জ আরোপ করা হবে।
ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের নিক্ষেপ করা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ট্যাংকারে আঘাত হানে। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় ও দুজন ইউক্রেনের নাগরিক। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর।
এক বিবৃতিতে আমিরাত এই হামলাকে ‘স্পষ্ট আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন’ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।
তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ট্যাংকার দুটি তাদের সতর্কবার্তা অমান্য করে, নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ করে মাইন পাতা একটি পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। তাই সেগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করলে এর পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে এবং এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে।
এদিকে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হওয়া সব পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ চার্জ নেওয়া হবে। তার দাবি, এই অর্থ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা হবে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে কঠোরভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিচ্ছে। তবে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা এখনো রয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে সোমবার ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বুশেহর, চাবাহার, জাস্ক, কোনারাক, আবু মুসা ও বন্দর আব্বাস। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করা।
এর জবাবে ইরান দাবি করেছে, তারা কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি বাহরাইন ও জর্ডানেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি।
ট্রাম্পের নতুন ঘোষণার জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য পারিশ্রমিক পাওয়ার বিষয়টি অযৌক্তিক নয়। তবে তার দাবি, হরমুজ প্রণালির প্রকৃত ‘অভিভাবক’ সবসময়ই ইরান ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ২০ শতাংশ চার্জ অনেক বেশি, ইরান হলে আরও ন্যায্য ব্যবস্থা নিত।
অন্যদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নৌপথ ব্যবহার করতে কোনো দেশ বাধ্যতামূলক টোল বা ফি আরোপ করতে পারে না। আন্তর্জাতিক আইনে এমন কোনো বিধান নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বাড়তে শুরু করেছে। মঙ্গলবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ০.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৩.৮৭ ডলারে পৌঁছেছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন