মেইনে আইসিই অভিযানে গুলিতে নিহত কলম্বিয়ার নাগরিক, তদন্ত শুরু
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
মেইন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন অভিযান চালানোর সময় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর এক কর্মকর্তার গুলিতে এক কলম্বীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আইসিই জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৭টার দিকে বিডেফোর্ড শহরে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ পাওয়া এক ব্যক্তিকে খুঁজতে একটি বাড়ির ওপর নজরদারি চালাচ্ছিলেন কর্মকর্তারা। ওই বাড়ি থেকে বের হওয়া একটি গাড়ি থামানোর চেষ্টা করলে চালক ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। সংস্থাটির দাবি, জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এক কর্মকর্তা গুলি চালান। এতে গাড়িচালক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
তবে কেন ওই কর্মকর্তা নিজের বা জনসাধারণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে মনে করেছিলেন, সে বিষয়ে আইসিই কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
মেইনের অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যারন ফ্রে জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী নিহত ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে কর্মকর্তার দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এ ঘটনায় আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের জানানো না পর্যন্ত তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে কলম্বিয়ার দূতাবাস নিশ্চিত করেছে, নিহত ব্যক্তি দেশটির একজন নাগরিক।
দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কী পরিস্থিতিতে এই মৃত্যু ঘটেছে সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)-এর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
এদিকে মেইন ইমিগ্র্যান্টস রাইটস কোয়ালিশন জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি ২৬ বছর বয়সী একজন কলম্বীয় নাগরিক ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি ছিল তার। সংগঠনটি বলেছে, তিনি স্থানীয় সম্প্রদায়ের একজন সদস্য ছিলেন এবং তার মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক।
গুলির ঘটনার পর বিডেফোর্ডে বিক্ষোভ শুরু হয়। অনেকেই আইসিইর অভিযানের প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন। এছাড়া মেইনের সিনেটর সুসান কলিন্সের কার্যালয়ের সামনেও বিক্ষোভ হয়। আইসিইর জন্য অর্থ বরাদ্দে তার সমর্থনের বিরোধিতা করেন বিক্ষোভকারীরা।
সিনেটর কলিন্স ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে একটি সাদা রঙের চিহ্নবিহীন এসইউভি গাড়ি এবং আইসিই লেখা সবুজ ভেস্ট পরা কয়েকজন কর্মকর্তাকে দেখা যায়। তারা একটি সাদা সেডান গাড়ি ঘিরে ফেলেন। এরপর পরপর অন্তত চারটি গুলির শব্দ শোনা যায়।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নিহত ব্যক্তি কাছেই স্ত্রী ও ছোট মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি বলেন, গুলির পর স্ত্রীকে স্বামীর মরদেহের পাশে ভেঙে পড়তে এবং ছোট মেয়েটিকে কাঁদতে দেখেছেন।
মেইনের সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং বলেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মার্কওয়েন মুলিন প্রথমে তাকে জানিয়েছিলেন, নিহত ব্যক্তি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার লক্ষ্য ছিলেন। তবে পরে তিনি আবার ফোন করে জানান, নিহত ব্যক্তি আসলে ওই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলেন না।
সিনেটর কিং আরও জানান, কর্মকর্তাদের শরীরে কোনো বডি ক্যামেরা ছিল না। ফলে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন ছিল কি না, সেটিও তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই টেক্সাসের হিউস্টনেও আইসিইর এক অভিযানে গুলিতে ৫২ বছর বয়সী মেক্সিকান নির্মাণশ্রমিক লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো নিহত হন। পরে কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে, তিনিও অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলেন না। তবে তাদের দাবি ছিল, তিনি গাড়ি দিয়ে এক কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় আইসিইর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, এসব অভিযানে অতিরিক্ত ও আক্রমণাত্মক কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন