মার্কিন আদালতে বাতিল ট্রাম্পের ১.৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে হওয়া একটি বিতর্কিত সমঝোতা চুক্তি বাতিল ঘোষণা করেছেন। এই চুক্তির মাধ্যমে ট্রাম্প কর নিরীক্ষা (ট্যাক্স অডিট) থেকে বিশেষ ধরনের সুরক্ষা পেয়েছিলেন। একই সঙ্গে ১.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রস্তাবিত ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড’ গঠনের পরিকল্পনাও কার্যত বাতিল হয়ে গেছে।
সোমবার দেওয়া রায়ে মার্কিন জেলা বিচারক ক্যাথলিন উইলিয়ামস বলেন, ট্রাম্পের করা মামলাটি প্রকৃত আইনি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নয়, বরং অন্য উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছিল। তাই মামলার ভিত্তিতে হওয়া সমঝোতা বৈধ নয়।
ওই তহবিলটি গত মে মাসে ঘোষণা করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল, যারা দাবি করবেন যে সরকার রাজনৈতিক বা অন্যায়ভাবে তাদের টার্গেট করেছে, তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া। এর বিনিময়ে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ (আইআরএস)-এর বিরুদ্ধে করা তার ১০ বিলিয়ন ডলারের ব্যক্তিগত মামলা প্রত্যাহার করতে সম্মত হন। তবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে জুন মাসের শুরুতেই তহবিল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা স্থগিত হয়ে যায়।
বিচারক উইলিয়ামস তার রায়ে বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর নিরীক্ষা থেকে অযৌক্তিক সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পাশাপাশি করদাতাদের অর্থ থেকে বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে এমন অভিযোগের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যার কোনো সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি ছিল না।
রায়ের ফলে ট্রাম্প, তার দুই ছেলে এবং মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ ভবিষ্যতে এই সমঝোতার শর্ত কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করতে পারবেন না। ফলে আইআরএস চাইলে ভবিষ্যতে ট্রাম্পের কর সংক্রান্ত বিষয়ে আবারও নিরীক্ষা চালাতে পারবে।
মূল মামলায় ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, আইআরএসের সাবেক ঠিকাদার চার্লস লিটলজন তার গোপন কর-সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস করেছিলেন এবং তা ঠেকাতে সংস্থাটি যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ফাঁস হওয়া সেই তথ্যের ভিত্তিতে নিউইয়র্ক টাইমস একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার বছরে ট্রাম্প মাত্র ৭৫০ ডলার ফেডারেল আয়কর পরিশোধ করেছিলেন এবং এর আগের ১৫ বছরের মধ্যে ১০ বছর তিনি কোনো ফেডারেল আয়কর দেননি।
বিচারক আরও বলেন, ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর এবং তার সাবেক আইনজীবীরা বিচার বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব নেওয়ার পরই এই মামলার নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার ভাষায়, সরকার ও ট্রাম্পের মধ্যে প্রকৃত কোনো আইনি বিরোধ ছিল—এমন দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়।
এদিকে ট্রাম্পের আইনজীবী আলেহান্দ্রো ব্রিতোকে সম্ভাব্য নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ফ্লোরিডা বার কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। আরেক আইনজীবী ড্যানিয়েল এপস্টেইনকে অন্তত এক বছরের জন্য ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে নতুন মামলায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
ট্রাম্পের আইনজীবী দলের এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, আইআরএস একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মীকে গোপন কর-তথ্য ফাঁস করতে দিয়েছিল। তার দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির নাগরিকদের বিরুদ্ধে অন্যায়কারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ট্যাক্স ল’ সেন্টারের নীতিবিষয়ক পরিচালক ব্র্যান্ডন ডিবট এই চুক্তিকে ট্রাম্পের জন্য একটি ‘বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত সমঝোতা’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এটি কর ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখার নীতির পরিপন্থী ছিল। তিনি বলেন, আদালতের এই রায় গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকাতে কংগ্রেসেরও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড’ গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণার পর থেকেই এটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। সমালোচকদের আশঙ্কা ছিল, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিরাও এই তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন