ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ছে গ্যাস কর, ৪ জুলাইয়ের ছুটির আগে বাড়বে জ্বালানির খরচ
দোহায় মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন দূতরা, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নয়
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছেন। তবে সেখানে তারা ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠক করবেন না বলে জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিরা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা নিয়ে বৈঠক করবেন। তবে আগামী কয়েক দিনে দুই দেশের মধ্যে কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা সরাসরি আলোচনা নির্ধারিত নেই।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা নিয়ে বিরোধের জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চার দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়। পরে উভয় দেশ হামলা বন্ধে সম্মত হয় এবং আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দল কাতারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে পাকিস্তর ও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। এতে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ করা, লেবানন ফ্রন্টে সংঘাত স্থগিত রাখা এবং বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি হয়।
এছাড়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে উভয় পক্ষ নিজেদের জন্য অন্তত ৬০ দিনের সময় নির্ধারণ করে।
মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ আগে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছিল। সেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ অংশ নেন। বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থাও চালু করা হয়।
তবে এরপরও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। গত বৃহস্পতিবার ইরান একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালানোর পর আবারও দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। এর জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়।
রোববার রাতে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আপাতত উভয় পক্ষ হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। একই সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে।
তবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধান কারিগরি আলোচক কাজেম গারিবাবাদি পরে জানান, এ সপ্তাহে এমন কোনো কারিগরি বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।
এরপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান মঙ্গলবার দোহায় বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসও ঘোষণা দেয় যে স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের জন্য কাতরে যাচ্ছেন।
কিন্তু কাতার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদের সফরের উদ্দেশ্য ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা নয়। মাজেদ আল-আনসারি বলেন, আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যু—বিশেষ করে ইরান, লেবানন এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি—নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা হবে।
এদিকে মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার এবং আঞ্চলিক নেতাদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং কারিগরি পর্যায়ের আলোচনায়ও ভালো অগ্রগতি হচ্ছে।
কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সপ্তাহে নিম্নপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কারিগরি আলোচনা চলবে। প্রয়োজনে পরে তা উচ্চপর্যায়ে উন্নীত করা হতে পারে। এসব আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক বিষয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে পৃথকভাবে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, বুধবার দোহায় ইরানি কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। সেখানে সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন, বিশেষ করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পর্যায়েই সরাসরি বৈঠকের সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।"
কাতার জানিয়েছে, দেশটিতে আটকে থাকা ইরানের ১২০০ কোটি ডলারের মধ্যে ৬০০ কোটি ডলার ছাড়ের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে। অন্যদিকে, ইরানও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সমঝোতা স্মারকের শর্ত বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন