ক্যালিফোর্নিয়ার শেল্টারে ১১৭ কুকুরের কবর, ৬০০টির খোঁজ নেই
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ক্যালিফোর্নিয়ার হামবোল্ট কাউন্টির একটি পশু উদ্ধারকেন্দ্র থেকে নিখোঁজ শত শত কুকুরের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে মাটিচাপা অবস্থায় ১১৭টি কুকুরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া আরও ৬০০টির বেশি কুকুরের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
হামবোল্ট কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানায়, গত ২৬ এপ্রিল মিরান্ডাস রেসকিউ নামে একটি পশু আশ্রয়কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা, নির্যাতন, প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। আশ্রয়কেন্দ্রটি পরিচালনা করতেন শ্যানন মিরান্ডা।
তদন্তের অংশ হিসেবে ১ মে আশ্রয়কেন্দ্রে তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন পশু আশ্রয়কেন্দ্র, অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। এ ছাড়া ফোন ও ই-মেইলের মাধ্যমে শত শত তথ্যও সংগ্রহ করা হয়।
শেরিফ উইলিয়াম হনসাল জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অন্তত ৯০০টি প্রাণী এই আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ১১৬টি কুকুর দত্তক দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়ায় ৭০০টিরও বেশি প্রাণীর কোনো হিসাব মিলছে না।
তদন্তকারীদের ধারণা, আরও বেশি উদ্ধারকৃত প্রাণী গ্রহণ করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে অনেক কুকুরকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
প্রথম দফার তল্লাশিতে অন্তত আটটি মৃত কুকুরের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ২৫ জুন দ্বিতীয় দফায় বিশেষজ্ঞ দল ভূমির নিচে অস্বাভাবিক অংশ শনাক্ত করতে গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার ব্যবহার করে। এরপর খনন করে দুটি স্থান থেকে অক্ষত অবস্থায় ১১৭টি কুকুরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া কাছাকাছি আরেকটি স্থান থেকে ২১টি কুকুরের খুলি, শত শত হাড় এবং ছয়টি মাইক্রোচিপ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ৭০টি কুকুরের মরদেহ এক্স-রে করে দেখা গেছে, অনেকগুলোর শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। অধিকাংশ কুকুরের শরীরে মাইক্রোচিপ ছিল, যা ব্যবহার করে তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া অনেক কুকুরের মৃত্যু গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে হয়েছে। বাকি মরদেহগুলোও তদন্তের স্বার্থে আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
তদন্তে আরও একটি খামারের ভেতরে এমন একটি স্থান শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে কুকুরগুলোকে হত্যা করা হতো বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সেখান থেকে ৬০০টিরও বেশি কুকুরের গলার কলার উদ্ধার করা হয়েছে।
শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, মামলাটিতে বিপুল পরিমাণ আলামত, তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করতে হচ্ছে। তাই প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা, প্রতারণা বা অন্যান্য অভিযোগে মামলা দায়েরের আগে তদন্ত শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে।
তদন্তকারীরা বলেন, জনসাধারণ দ্রুত বিচার ও জবাবদিহি প্রত্যাশা করলেও আইনসম্মত, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন