৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড পচা খাবারে নাকাল লস এঞ্জেলেস
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
লস এঞ্জেলেসের বয়েল হাইটসে একটি কোল্ড স্টোরেজ গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সেখানে জমে থাকা ৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড পচা খাবারের তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় লস এঞ্জেলেসের মেয়র কারেন ব্যাস দুটি জরুরি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন।
মেয়র জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দ্রুত পরিষ্কার করা, বাসিন্দা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের সহায়তা দেওয়া এবং এ ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই এসব আদেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বয়েল হাইটসের মানুষকে একটি প্রতিষ্ঠানের ভুলের খেসারত দিতে হবে না।
লস এঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গুদামটির ভেতরে এখনও আগুনের কিছু অংশ ধিকিধিকি জ্বলছে। তাই পুনরায় আগুন লাগার ঝুঁকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত গুদামটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান লাইনেজ লজিস্টিকস-এর কাছে ভবনটি হস্তান্তর করা হবে না।
মেয়রের ঘোষিত আদেশ অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য একটি সমন্বিত কমান্ড কাঠামো গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং ক্ষতির অর্থ আদায়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কারেন ব্যাস বলেন, গুদামে থাকা দূষিত খাবার, বর্জ্য ও ধ্বংসাবশেষ ইতোমধ্যে লস এঞ্জেলেসের বাইরে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। তিনি সিটি অ্যাটর্নিকে দায়ীদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মেয়র লাইনেজ লজিস্টিকসকে ৪৫ দিনের মধ্যে গুদামের সব পচা খাবার ও বর্জ্য সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আবাসিক বা সংবেদনশীল এলাকায় এ ধরনের গুদাম স্থাপনের ঝুঁকি মূল্যায়নে পূর্ণাঙ্গ পরিবেশগত নিরীক্ষারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
লস এঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নিকোল কুইক বলেন, এখন পর্যন্ত বাতাসের মান পরীক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির মতো কোনো ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা ক্ষতিকর দূষক পাওয়া যায়নি। তবে দুর্গন্ধের কারণে চোখ, নাক ও গলায় জ্বালাপোড়া, বমিভাব ও মাথাব্যথার মতো সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রায় ৫ হাজার ট্রাকভর্তি পচা খাবার ভেনচুরা ও রিভারসাইড কাউন্টির নির্ধারিত ল্যান্ডফিলে নেওয়া হবে। ট্রাকগুলো আবাসিক সড়ক এড়িয়ে নির্ধারিত পরিবহন পথ ব্যবহার করবে।
এদিকে গুদাম থেকে মাত্র আধা মাইল দূরের একটি কফিশপসহ আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্গন্ধের কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অনেকেই বাইরে বসে খাওয়া বা কফি পান করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
স্থানীয় কর্মীরা জানান, দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে মনে হয় আশপাশে কোনো প্রাণী মারা পড়ে আছে। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাইরের দুর্গন্ধযুক্ত বাতাস ভেতরে ঢোকা ঠেকাতে শীতলীকরণ যন্ত্র ব্যবহারও সীমিত করে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গুদামটিতে লাগা আগুন টানা আট দিন ধরে জ্বলেছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পচা খাবারের দুর্গন্ধ, পোকামাকড়ের উপদ্রব এবং পরিবেশগত প্রভাব এখনও বয়েল হাইটসের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের জন্য বড় দুর্ভোগ হয়ে রয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন