অবৈধ বর্জ্য তদন্তে মিলল মাদক কারখানা, জব্দ ৮০০ পাউন্ডের বেশি মেথ
গোপন নথি রাখার দায় স্বীকার করলেন ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা জন বোল্টন
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন গোপন সরকারি তথ্য অবৈধভাবে নিজের কাছে সংরক্ষণ করার অভিযোগে দায় স্বীকার করেছেন। শুক্রবার আদালতে তিনি একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, বোল্টনের বিরুদ্ধে শুরুতে গোপন নথি ভুলভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহারের অভিযোগে ১৮টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে তিনি আদালতে একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তার কাছে থাকা নথিগুলোর মধ্যে জাতীয় প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত ব্যক্তিগত ডায়েরির নোটও ছিল, যার কিছু ছিল সর্বোচ্চ গোপনীয়তার পর্যায়ের।
এই অপরাধে বোল্টনের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া তিনি ২২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে নিজের কাছে রাখা গোপন তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন এবং ১০০ ঘণ্টা কমিউনিটি সার্ভিস করবেন।
আদালতে বিচারক অভিযোগগুলো পড়ে শোনানোর পর বোল্টন স্বীকার করেন যে, তিনি সংবেদনশীল তথ্যসমৃদ্ধ ডায়েরির কিছু অংশ পরিবারের সদস্যদের কাছেও পাঠিয়েছিলেন। তিনি আদালতে বলেন, "আমি এই কাজ করেছি" এবং এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। আগামী ২৮ অক্টোবর তার সাজা ঘোষণা করা হবে।
এদিকে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, "আশা করি, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
মামলার প্রসিকিউটর কেলি হেইস বলেন, বোল্টন জানতেন কীভাবে গোপন তথ্য সংরক্ষণ করতে হয় এবং কার সঙ্গে তা ভাগ করা যায়। তা সত্ত্বেও তিনি এমন কাজ করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাকে গুরুতর ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
অন্যদিকে, বোল্টনের আইনজীবী অ্যাবে লওয়েল বলেন, তার মক্কেল নিজের ভুলের দায়িত্ব নিয়েছেন। এতে সরকারের সময় ও সম্পদ সাশ্রয় হয়েছে এবং আরও সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ হওয়ার ঝুঁকিও কমেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প নিজেও গোপন নথি নিজের ফ্লোরিডার বাসভবনে নিয়ে গিয়েছিলেন, তদন্তে বাধা দিয়েছিলেন এবং কখনো নিজের দায় স্বীকার করেননি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও গোপন প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত নথি নিজের কাছে রাখার অভিযোগে মামলা হয়েছিল। তবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর সেই মামলা খারিজ হয়ে যায়।
২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসন থেকে জন বোল্টনকে বরখাস্ত করা হয়। ২০২০ সালে প্রকাশিত তার স্মৃতিকথা 'দ্য রুম হোয়ার ইট হ্যাপেনড'-এ তিনি ট্রাম্পের প্রশাসনে কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং ট্রাম্পকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্পর্কে অজ্ঞ একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বর্ণনা করেন।
বইটি প্রকাশ ঠেকাতে হোয়াইট হাউস আদালতে মামলা করেছিল। তাদের দাবি ছিল, বইটিতে গোপন তথ্য রয়েছে এবং তা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। তবে আদালত সেই আবেদন নাকচ করে দিলে বইটি প্রকাশিত হয়। পরে মার্কিন বিচার বিভাগ তদন্ত শুরু করে, বোল্টন বইটিতে গোপন তথ্য প্রকাশ করেছিলেন কি না তা খতিয়ে দেখতে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বোল্টন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাকাকালে পাওয়া কিছু গোপন নথি তার দুই আত্মীয়ের কাছেও পাঠিয়েছিলেন। এছাড়া এক পর্যায়ে এক হ্যাকার তার অনলাইন অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে সেখানে সংরক্ষিত নথিতে প্রবেশাধিকার পায় এবং হুমকি দেয়, এটি "হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল কেলেঙ্কারির পর সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি" তৈরি করবে।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের অন্য সমালোচকদের বিরুদ্ধে আনা মামলার তুলনায় বোল্টনের মামলাটি আলাদা, কারণ এখানে তিনি নিজেই নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে রাজি হয়েছেন। তারা বলছেন, উচ্চপদস্থ কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গোপন নথি ভুলভাবে সংরক্ষণের মামলা বিরল হলেও এমন নজির আগে রয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন