ক্যালিফোর্নিয়া গভর্নর দৌড়ে বেসেরার গতি বাড়ছে, রিপাবলিকান ভোট টানতে হিলটনের চেষ্টা
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলবেন ট্রাম্প, কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রি নিয়ে কথা বলবেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি হলে দীর্ঘদিনের মার্কিন কূটনৈতিক প্রথা থেকে বড় ধরনের সরে আসা হবে।
১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করে চীনের বেইজিং সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সরাসরি কথা হয়নি।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকিও দিয়ে আসছে। অন্যদিকে ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে দ্বীপটির প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার উদ্যোগ জোরদার করেছেন।
বুধবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি তার সঙ্গে কথা বলব। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি। আমরা তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে কাজ করব।”
সম্প্রতি বেইজিং সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প তাদের সম্পর্ককে “অসাধারণ” বলেও উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনে তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে আসছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা থাকার কথা রয়েছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অস্ত্র চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবির সম্ভাব্য চীন সফর আটকে রেখেছে বেইজিং।
বেইজিং সফর শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ফেরার সময়ও ট্রাম্প বলেছিলেন, খুব শিগগিরই তিনি তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যু ভুলভাবে সামাল দিলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সংঘাত তৈরি হতে পারে। তবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।
এদিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বলেছেন, তাইওয়ান একটি “সার্বভৌম, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ” এবং তাইওয়ান প্রণালীর শান্তি কোনোভাবেই বিসর্জন দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সহায়তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এর আগেও ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্প তাইওয়ানের তৎকালীন নেতা সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে কূটনৈতিক রীতি ভেঙেছিলেন। তখন চীন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিল।
বর্তমানে চীনের বাড়তে থাকা সামরিক চাপ মোকাবিলায় তাইওয়ান প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। যদিও অধিকাংশ তাইওয়ানবাসী বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখার পক্ষেই রয়েছেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন