লস এঞ্জেলেসে তাপপ্রবাহের সতর্কতা, সপ্তাহান্তে মিলতে পারে স্বস্তি
টেক্সাসে আইসিইবিরোধী বিক্ষোভে হামলা: ৮ জনের মোট ৪৫০ বছরের কারাদণ্ড
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
টেক্সাসে একটি অভিবাসন আটককেন্দ্রের বাইরে সহিংস বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় আটজনকে মোট ৪৫০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে বামপন্থী অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট আন্দোলন ‘অ্যান্টিফা’র সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক মেরিন রিজার্ভ সদস্য বেঞ্জামিন হ্যানিল সংকে একজন আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাকে হত্যাচেষ্টার দায়ে ১০০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদের ৩০ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ৪ জুলাই টেক্সাসের ডালাসের দক্ষিণে অবস্থিত প্রেইরিল্যান্ড অভিবাসন আটককেন্দ্রের বাইরে এই ঘটনা ঘটে। বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা আটককেন্দ্রের দিকে আতশবাজি ও বিস্ফোরক জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে, গুলি ছোড়ে এবং কেন্দ্রের যানবাহন ও নিরাপত্তা চৌকি ভাঙচুর করে।
আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক ব্যবহার, সন্ত্রাসীদের সহায়তা প্রদান এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়াসহ একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বিচার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফেডারেল স্থাপনায় হামলা চালানো অ্যান্টিফা-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের জন্য এই রায় একটি স্পষ্ট বার্তা—তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মারিসেলা রুয়েদাকে ৭০ বছর, ক্যামেরন আর্নল্ড, সাভানা ব্যাটেন, জ্যাকারি এভেটস, ব্র্যাডফোর্ড মরিস এবং এলিজাবেথ সোটোকে ৫০ বছর করে এবং ড্যানিয়েল রোলান্ডো সানচেজ-এস্ত্রাদাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযুক্তদের পরিবার ও সমর্থকদের দাবি, এই সাজা অত্যন্ত কঠোর। বেঞ্জামিন সং এক লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন, তিনি গুলি চালিয়েছিলেন কারণ তার মনে হয়েছিল একজন পুলিশ কর্মকর্তা একজন বিক্ষোভকারীকে গুলি করতে যাচ্ছেন। তার মা হোপ সংও দাবি করেছেন, তার ছেলে কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে গুলি চালায়নি।
এ ঘটনায় আরও একজন অভিযুক্ত ইনেস সোটোর সাজা আগামী ১ জুলাই ঘোষণা করা হবে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও সাতজন আগে থেকেই সন্ত্রাসীদের সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন; তাদের সাজাও একই দিনে ঘোষণা করা হবে।
বিচার বিভাগের দাবি, ‘নর্থ টেক্সাস অ্যান্টিফা সেল’ নামে পরিচিত এই গোষ্ঠী এমন একটি নেটওয়ার্কের অংশ, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিদ্যমান আইনি ব্যবস্থা উৎখাতের মতাদর্শে বিশ্বাস করে।
অন্যদিকে অভিযুক্তরা নিজেদের অ্যান্টিফার সদস্য বলে অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তারা শুধু আটক অভিবাসীদের প্রতি সংহতি জানাতে ওই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। অনেক অংশগ্রহণকারীও বলেছেন, এটি মূলত একটি ‘শব্দভিত্তিক প্রতিবাদ’ হওয়ার কথা ছিল, যেখানে সহিংসতার কোনো পরিকল্পনা ছিল না।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই অ্যান্টিফার সমালোচক। গত সেপ্টেম্বর তিনি একটি নির্বাহী আদেশে অ্যান্টিফাকে ‘দেশীয় সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে সমালোচকদের মতে, অ্যান্টিফা কোনো সংগঠিত কাঠামো বা নেতৃত্বসম্পন্ন সংগঠন নয়; বরং এটি একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ, আর কোনো মতাদর্শে বিশ্বাস করাই অপরাধ নয়।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন