আপডেট :

        লস এঞ্জেলেসে তাপপ্রবাহের সতর্কতা, সপ্তাহান্তে মিলতে পারে স্বস্তি

        লস এঞ্জেলেসে প্রকাশ্যে বৃদ্ধা পথবিক্রেতাকে মারধর, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড়

        হরমুজে আটকে পড়া নাবিকদের উদ্ধার করবে জাতিসংঘ

        টেক্সাসে আইসিইবিরোধী বিক্ষোভে হামলা: ৮ জনের মোট ৪৫০ বছরের কারাদণ্ড

        ইরান যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পকে চাপ, কংগ্রেসে ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাস

        নিউইয়র্ক ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে মামদানি-সমর্থিত প্রার্থীদের বড় জয়

        অ্যানাহাইমের গুদাম থেকে ২২ লাখ ডলারের বেশি চুরি হওয়া পণ্য উদ্ধার

        ক্যালিফোর্নিয়ার লাইব্রেরিতে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ২

        রিফ্লেক্টিং পুল আবার খালি হচ্ছে, ভাঙচুরের অভিযোগ ট্রাম্পের

        অপহৃত বৃদ্ধার মৃত্যুর দাবি, পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি পাঠাল অপহরণকারীরা

        ইরানকে তেল রপ্তানিতে ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র, পারমাণবিক পরিদর্শন নিয়ে দ্বিমত

        ওয়াশিংটনের ঐতিহাসিক চিঠি প্রদর্শনীতে

        বোস্টন বিমানবন্দরে সংঘর্ষের ঝুঁকি, ডেল্টা বিমানের জরুরি অবতরণ বাতিল

        লস এঞ্জেলেসে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সতর্কতা, সপ্তাহের মাঝামাঝি তীব্র গরমের আশঙ্কা

        এফবিআই অভিযানের কয়েক মাস পর পদত্যাগ করলেন লস এঞ্জেলেস স্কুল জেলার প্রধান

        ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলায় আটক, মুক্তির নির্দেশ বিচারকের

        সেন্ট্রাল পার্কে কিশোর পর্যটকের মৃত্যুর পর ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধের দাবি জোরালো

        ট্রাম্পের নির্দেশে রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার শুরু হচ্ছে, শ্যাওলা ও ভাঙচুর নিয়ে উদ্বেগ

        লস এঞ্জেলেসের ইরউইন্ডেলে ট্রাক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৩২

        ভেনচুরা কাউন্টিতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ জন গ্রেপ্তার, জব্দ ১৪ লাখ ডলারের মাদক

হরমুজে আটকে পড়া নাবিকদের উদ্ধার করবে জাতিসংঘ

হরমুজে আটকে পড়া নাবিকদের উদ্ধার করবে জাতিসংঘ

ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (IMO) মহাসচিব আর্সেনিও ডমিঙ্গেজ জানিয়েছেন, ইরান, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র, উপকূলীয় অন্যান্য দেশ এবং সামুদ্রিক শিল্পের সহযোগিতায় এই বৃহৎ উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, “নিরাপদ নৌ-চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে এবং পরিস্থিতি ভালোভাবে যাচাই করা হয়েছে।”

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি সই হলেও, সমঝোতা স্মারকের (MoU) বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এখনো দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, চুক্তির আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) তত্ত্বাবধানে পরিদর্শনের আওতায় আসবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, ইরান দীর্ঘমেয়াদে কঠোর পারমাণবিক পরিদর্শনে সম্মত হয়েছে।

তবে ইরান জানিয়েছে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো আইএইএ পরিদর্শন করতে পারবে না। এ বিষয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরান পরমাণু কর্মসূচির অবশিষ্ট অংশে আইএইএর পরিদর্শন মেনে নিয়েছে, যদিও দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে পাকিস্তান সফরে গিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, “ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো পরিস্থিতিতেই আলোচনা হবে না।”

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বিষয়টি আলোচনার অংশ ছিল না এবং সমঝোতা স্মারকেও এ বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় অঞ্চল সফর শুরু করেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের সময় তিনি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল বা ফি আরোপের ইরানি উদ্যোগের সমালোচনা করেন।

রুবিও বলেন, “হরমুজ প্রণালী একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ। আন্তর্জাতিক আইনে কোনো দেশ সেখানে টোল বা ফি আরোপ করতে পারে না। এ অঞ্চলের দেশগুলোরও এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে একমত হওয়ার কথা।”

হরমুজ প্রণালী খোলা থাকা নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইএমও বলেছে, এই উদ্যোগ সামুদ্রিক নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বেসামরিক জাহাজে হামলার অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডমিঙ্গেজ বলেন, “হাজারো নিরীহ নাবিকের দীর্ঘ দুর্ভোগের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে আমি স্বাগত জানাই।”

আইএমওর পরিকল্পনা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য দুটি অস্থায়ী রুট ব্যবহার করা হতে পারে। জাহাজগুলোকে পৃথকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হবে এবং প্রতিদিন নিরাপদে অঞ্চল ত্যাগ করা জাহাজের সংখ্যা প্রকাশ করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু হওয়ার পর দেশটি কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি উঠে যায়। পাশাপাশি জ্বালানি ও সারসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহও ব্যাহত হয়।

যুদ্ধবিরতির পর প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। সামুদ্রিক তথ্যপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭২টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে শুধু শনিবারই ছিল ৪২টি জাহাজ।

তবে ১৮ জুন চুক্তি স্বাক্ষরের পরও জাহাজ চলাচল এখনো সংঘাত-পূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩৮টি জাহাজ এই নৌপথ ব্যবহার করত। বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালীর ভেতরে অপেক্ষমাণ ছিল।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত