অবৈধ বর্জ্য তদন্তে মিলল মাদক কারখানা, জব্দ ৮০০ পাউন্ডের বেশি মেথ
লস এঞ্জেলস দাবানল মামলায় বিচার ভেস্তে গেল, ফের বিচার হবে
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
লস এঞ্জেলসের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দাবানলের ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলা মামলার বিচার ভেস্তে গেছে। জুরিবোর্ড সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় আদালত মামলাটিকে মিসট্রায়াল (বিচার বাতিল) ঘোষণা করেছে। তবে প্রসিকিউশন জানিয়েছে, তারা আবারও মামলাটির বিচার করবে।
অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী জনাথন রিন্ডারকনেখটের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগান। সেই আগুন পরে ভয়াবহ প্যাসিফিক প্যালিসেডস দাবানলে রূপ নেয়। এতে ১২ জন নিহত হন এবং ৬ হাজারের বেশি ভবন ধ্বংস হয়।
দুই দিন ধরে আলোচনা করেও জুরিরা একমত হতে না পারায় বৃহস্পতিবার বিচারক মিসট্রায়াল ঘোষণা করেন। শুক্রবার রিন্ডারকনেখটের এক আইনজীবী বলেন, এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে জুরিরা তাকে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে দোষী বলে নিশ্চিত হতে পারেননি।
গত অক্টোবরে গ্রেপ্তার হওয়া রিন্ডারকনেখট সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ৪৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারত।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি বিল এসাইলি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি যে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল এবং পরে প্যালিসেডস দাবানলে রূপ নেয়, তার জন্য রিন্ডারকনেখটই দায়ী—এমন শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, নববর্ষের আগের রাতে তিনি একটি ছোট ঝোপে আগুন লাগান, যা ল্যাচম্যান ফায়ার নামে পরিচিত হয়। দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে বলে মনে করলেও আগুনের কিছু অংশ মাটির নিচে ছয় দিন ধরে জ্বলতে থাকে। পরে প্রবল সান্তা আনা বাতাসে তা আবার ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ দাবানলের সৃষ্টি করে।
রিন্ডারকনেখট, যিনি একজন ফরাসি-আমেরিকান দ্বৈত নাগরিক এবং সাবেক উবার চালক, তার বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ, অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে সম্পত্তি ধ্বংস এবং বনাঞ্চলে আগুন লাগানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য, ছুটির সময়ে আশ্রয়ের জায়গা না থাকায় প্রতিশোধ, ক্ষোভ ও একাকীত্ব থেকেই তিনি আগুন লাগান। তারা তার আইফোনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ এবং যাত্রীদের সাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপন করে।
এ ছাড়া, তার ডিজিটাল ডিভাইস থেকে আগুনে জ্বলতে থাকা একটি শহরের চ্যাটজিপিটি দিয়ে তৈরি একটি ছবি উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি প্রসিকিউশনের। তাদের অভিযোগ, রিন্ডারকনেখট চ্যাটজিপিটিকে ব্যক্তিগত ডায়েরির মতো ব্যবহার করতেন এবং সেখানে আগুন নিয়ে নিজের আগ্রহ ও পরিকল্পনার কথা লিখতেন। প্রসিকিউশনের আরও দাবি, ধনীদের প্রতি তার গভীর ক্ষোভ ছিল এবং সেই কারণেই তিনি অভিজাত ওই এলাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগান।
তবে প্রতিরক্ষা আইনজীবী স্টিভ হ্যানির দাবি, রিন্ডারকনেখট আগুন লাগাননি; বরং আগুন দেখতে পেয়েই তিনি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন