যুক্তরাষ্ট্রে আজ শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

|   ঢাকা - 07:49am

|   লন্ডন - 02:49am

|   নিউইয়র্ক - 09:49pm

  সর্বশেষ :

  করোনা সর্বত্র শান্তির জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে : জাতিসংঘ মহাসচিব   ব্যাপক হারে কানাডার নাগরিক হচ্ছেন আমেরিকানরা   বানরের অধিকার নিশ্চিতে সুইজারল্যান্ডে গণভোট   আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক   আফগানিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তালেবানের সংঘর্ষ: নিহত অর্ধশত   হেফাজত আমির আল্লামা আহমদ শফী আর নেই   হিজাব কেড়ে নেয়ায় লস এঞ্জেলেস পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা মুসলিম নারীর   যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত তরুণদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের   এবার নোবেল শান্তি পুরষ্কারে মনোনীত হলেন নেতানিয়াহু   হারিকেন স্যালির আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎহীন ৫ লক্ষাধিক মানুষ   নতুন আরও এক লাখ কর্মী নিয়োগ দেবে আমাজন   লস এঞ্জেলেসে অক্টোবর থেকে সীমিত আকারে খুলবে ব্যবস্থাপ্রতিষ্ঠান   বাইডেনের নির্বাচনী প্রচারণায় হস্তক্ষেপ করতে চাইছে রাশিয়া   ক্যালিফোর্নিয়ায় গুলিতে আহত এক, নেপথ্যে মাদক   তীব্র হচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়ার 'ববক্যাট ফায়ার'

মূল পাতা   >>   কলাম

হাফ ডজন বিশ্ববিচিত্রা

সিদ্ধার্থ সিংহ

 প্রকাশিত: ২০২০-০৮-০৬ ০৪:২৫:৩৯

সিদ্ধার্থ সিংহ:
নগ্ন গ্রাম

অদ্ভুত একটা গ্রাম। যেখানে কেউই কোনও জামাকাপড় পরে না। জামাকাপড় তো দূরের কথা, এক চিলতে কাপড় কিংবা আদিম কালের মতো লতাগুল্মের ডালপাতা দিয়েও শরীরের কোনও গোপন অংশও ঢাকে না।
না, আমি দক্ষিণ‌ আমেরিকার ঘনজঙ্গলে ঘেরা আদিবাসীদের ‌ডেরা কিংবা আফ্রিকার মাদাগাস্কারের মতো কোনও জায়গার কথা, যেখানে এখনও সভ্যতার কোনও আলো গিয়ে পৌঁছয়নি, সে রকম কোনও জায়গার কথা বলছি না।
বলছি, যুক্তরাজ্যের হার্টফোর্ডশায়ারের স্পিলপ্লাজ গ্রামটির‌ কথা। ওই গ্রামে কেউই জামাকাপড়ই পরেন না। তাই গ্রামের বাইরে থেকে কেউ সেখানে এসে থাকতে চাইলে, তাঁরা যে রকম ভাবে থাকেন, ঠিক সে রকম ভাবেই তাঁদের থাকতে হয়।
শরীরে কোনও জামাকাপড় না চাপালেও ওই গ্রামের মানুষ জন কিন্তু বেশ সচেতন এবং যথেষ্ট সৌখিন। কড়া রোদ থেকে চোখকে বাঁচানোর জন্য তাঁরা সানগ্লাস পরেন। অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য গলায় নকশাদার রকমারি সোনার চেন পরেন। এক-এক আঙুলে পরেন রত্নখচিত নানা রঙের এক-একটি আংটি।
শুধু তাইই নয়, মদ্যপান করার জন্য গ্রামের ভেতরে কিছু দূরে দূরেই রয়েছে একেবারে শহরের মতোই ঝাঁ-চকচকে বারও। ব্যবহার করে নামি-দামি গাড়িও।
সব দিক থেকে বিচার-বিবেচনা করলে, কোনও বর্ধিষ্ণু গ্রামের থেকেই এটাকে আলাদা করা যাবে না। তফাৎ শুধু এক জায়গাতেই। ‌এরা কেউ পোশাক পরে না। কেউ যদি ভুল করে পরেও, তা হলেই সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে সমাজচ্যুত করা হয়।
একমাত্র নগ্ন হয়ে থাকতে রাজি হলেই, ছবির মতো সুন্দর, বেশ সাজানো-গোছানো, পরিপাটি এই গ্রামে যে কেউই জমি কিনতে পারেন। অন্যথায় জমি তো মিলবেই না, যদি কেউ তলে-তলে কিনেও নেন, মিলবে না বাড়ি-ঘর করার অনুমতি কিংবা বসবাস করার কোনও সুযোগ। সে আপনি যত টাকা অফারই করুন না কেন কিংবা যতই লোভ দেখান না কেন। ওরা ও সবে ভোলার পাত্র নন।
যাঁরা ওই গ্রামের মধ্যে থাকেন, তাঁরা কিন্তু ওই নগ্নতার মধ্যে অসভ্যতার কিছু দেখেন না। উলটে বড় মুখ করে তাঁদের গ্রামটিকে যুক্তরাজ্যের সব চেয়ে পুরনো নগ্নতাবাদী অঞ্চল বলে তাঁরা দাবি করেন। পঁচাশি বছরের এক বাসিন্দা, ইছিয়ুট রিচার্ডসন তো নিজেই বললেন, আমি বুঝি না এটা নিয়ে এত হইচই করার কী আছে। আমি তো অন্য গ্রামের সঙ্গে এই গ্রামের কোনও পার্থক্যই দেখি না। অন্য গ্রামগুলো যে ভাবে জীবন ধারণ করে, আমরাও সেই ভাবেই করি। সকালে ঘুম থেকে উঠি। সারা দিন কাজকর্ম করি। বাজারে যাই। পানশালায় যাই। দুধওয়ালা থেকে পোস্টম্যান, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী আমারা একে অন্যের বাড়িতে যাই। সবই তো স্বাভাবিক। আমি তো অস্বাভাবিক কিছু দেখি না। আমরা শুধু জামাকাপড় পরি না, এইটুকুই যা তফাত। আর একটা তফাৎ অবশ্য আছে, সেটা হল, আমাদের এই গ্রামে আজ পর্যন্ত কোনও মেয়ে কখনও ধর্ষিত হয়নি। হ্যাঁ, এই একটি ব্যাপারে আমরা অন্য সব জায়গা থেকে ভীষণ ভীষণ ভীষণ ভাবে পিছিয়ে আছি।


পঁয়ষট্টি কোটি চড়াই পাখি!

'মশা, মাছি, ইঁদুর আর চড়াই পাখি, বিশেষ করে ইউরেশিয়ান গেছো চড়াই নাকি গোটা দেশের বেশির ভাগ ফসলই খেয়ে শেষ করে দিচ্ছে। তাই জনগণের খাবারে টান পড়ছে।'
দেশে খাদ্যশস্যে কেন টান পড়ছে সমীক্ষা করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই রিপোর্টই এসে পৌঁছেছিল চিন সরকারের হাতে। তাই ১৯৫৮ সালে‌ এই সমস্যার সমাধান‌ করার জন্য মশা, মাছি, ইঁদুরের সঙ্গে সঙ্গে গোটা দেশের সমস্ত চড়াই পাখিকে মেরে ফেলার নির্দেশে দেন চিনের চেয়ারম্যান‌ স্বয়ং মাও সে তুং। ঘোষণা করা হয়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই দেশ থেকে চড়াই পাখি নির্মূল করতে হবে। এই অপারেশনের নাম দেওয়া হয়--- দ্য গ্রেট স্প্যারো ক্যাম্পেইন।
কিন্তু কথা হল, প্রায় ৯৬ লক্ষ বর্গ কিলোমিটারের এই দেশটি থেকে কোটি কোটি চড়াই পাখিকে রাতারাতি মেরে ফেলা যাবে কী করে! সেটা তো আর চাট্টিখানি কথা নয়। তাই দেশের তাবড় তাবড় বিদগ্ধ পণ্ডিতদের নিয়ে রীতিমত গবেষণা শুরু হল, কী ভাবে চড়াই পাখি নিধন করা যায়।
তখন কয়েক জন পশু চিকিৎসক একটা পথ বাতলে দিলেন। আর সেই নিদান পাওয়ার পর থেকেই থালা, বাটি, গ্লাস, হাতা, খুন্তি নিয়ে দেশের জনগণ বেরিয়ে পড়লেন রাস্তায়। সামনে কোনও চড়াই পাখি দেখলেই তাঁরা সেগুলো জোরে জোরে বাজাতে লাগলেন।
আর সেই বিকট শব্দে ভয় পেয়ে চড়াই পাখিগুলো দিকভ্রষ্ট হয়ে ছুটোছুটি করতে লাগল এদিক ওদিক। কিন্তু ওরা পালাবে কোথায়!
চড়াই পাখি মারার জন্য যে তখন গোটা দেশে জারি হয়েছে এক অঘোষিত যুদ্ধ। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মচারী, কারখানার শ্রমিক, কৃষক থেকে দিন আনা দিন খাওয়া মজুর, এমনকী‌ পিপল’স লিবারেশন আর্মি--- সকলেই নেমে পড়েছে চড়াই নিধনযজ্ঞে।
মূলত কম বয়সি ছেলেমেয়েরা জাল ফেলে, খাঁচা পেতে, টোপ দিয়ে ধরার চেষ্টা করছে ঝাঁক ঝাঁক চড়ুই পাখি। কেউ কেউ গুলতি ছুড়ে মারছে। কেউ  ব্যবহার করছে খেলনা বন্দুকের গুলি। কেউ খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে বিষ। উদ্দেশ্য একটাই, যেনতেন প্রকারে চড়াই পাখি মারতেই হবে।
বৃদ্ধ এবং শিশুরা পাহারা দিতে শুরু করল ক্ষেত। ‌যাতে একটা চড়াই পাখিও মুখে কোনও দানা তুলতে না পারে।
কিছু লোক নেমে পড়ল চড়ুই পাখির বাসা নষ্ট করার জন্য। ডিম ভেঙে ফেলার জন্য। 
বাড়ির মেয়ে-বউরা ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ল থালা, বাটি নিয়ে। চড়াই পাখির দেখলেই তাঁরা বাজাতে লাগল সেগুলো। যাতে সেই আওয়াজে ওই ছোট্ট ছোট্ট পাখিগুলোর হৃদপিণ্ড স্তব্ধ হয়ে যায়।
এই ঘটনার পরের দিন, মানে ১৯৫৮ সালের ১৩ ডিসেম্বর চিনের সমস্ত দৈনিক পত্রপত্রিকার প্রথম পাতায় এই নিধনযজ্ঞের খবর ফলাও করে ছাপা হয়েছিল। তখনই জানা গিয়েছিল, এই নিধনযজ্ঞে খতম হয়েছে প্রায় ৬৫ কোটি চড়াই পাখি।
শোনা যায়, সে দিন আক্রমণাত্মক লোকেদের‌ ভয়ে প্রাণ বাঁচানোর জন্য প্রচুর চড়ুই পাখি নাকি‌ বেইজিংয়ের পোলিশ দূতাবাসের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিল।
কিন্তু চিন সরকারের অনুরোধ সত্ত্বেও শুধুমাত্র মানবিকতার খাতিরে পোলিশ কর্তৃপক্ষ নাকি তাদের দূতাবাসের ভেতরে একজন চড়ুই নিধনকারীকেও ঢুকতে দেয়নি।
তাতে প্রচণ্ড রেগে গিয়ে ওখানকার হাজার হাজার লোকেরা একসঙ্গে জড়ো হয়ে ওই দূতাবাস ঘিরে রাতদিন থালা-বাটি, কাঁসর-ঘণ্টা, এমনকী ড্রামও বাজাতে শুরু করেন। সেই কান বিদীর্ণ করা শব্দে হার্টফেল করে মারা যায় প্রচুর চড়াই পখি।
এই ভাবে একটানা দু'দিন ধরে পালা করে ওই সব বাজানোর পরে এক সময় ক্লান্ত হয়ে ওরা চলে যায়।
এত আওয়াজ হচ্ছিল যে, কান ঝালাপালা হওয়ার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য দূতাবাসের কর্মীরা দরজায় খিল দিয়ে, কানে তুলো গুঁজে ভিতরের ঘরে কাটাচ্ছিলেন। সেই‌ আওয়াজ থামার পর তাঁরা বেরিয়ে দেখেন, দূতাবাসের সর্বত্র গাদা গাদা চড়াই পাখি মরে পড়ে আছে। উঠানে এত চড়াই পাখি মরে আছে যে, সেগুলো সরানোর জন্য ওই দূতাবাসের কর্মীদের বেলচা ব্যবহার করতে হয়েছিল।
এই নির্মম ও হঠকারী সিদ্ধান্তের জন্য অবশ্য চিনাদের পরে খেসারতও দিতে‌ হয়েছিল।
কারণ, শস্য দানার পাশাপাশি চড়াই পাখি তো নানা ধরনের পোকামাকড়ও খেত। দেশ থেকে চড়াই পাখি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় ফলে খুব স্বাভাবিক ভাবেই বাড়তে থাকে সেই সব পোকামাকড়। ধেয়ে আসতে থাকে লক্ষ লক্ষ পঙ্গপাল। তারা ক্ষেতের সমস্ত শস্য খেয়ে সাবাড় করে দিতে থাকে।
যে শস্য বাঁচানোর জন্য মাত্র দু'দিনে প্রায় পঁয়ষট্টি কোটি চড়াই পাখিকে হত্যা করা হল, তার চেয়েও বেশি শস্য চলে‌ গেল কিনা পোকামাকড়ের পেটে!
এত শস্য খেয়ে তারা সাবাড় করে দিয়েছিল যে, দেশের বাৎসরিক খাদ্যশস্য মজুতের ন্যূনতম লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করা গেল না।‌ ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চিনের শস্যভাণ্ডার খালি হয়ে গেল। খাদ্য সংকটের মুখে পড়ল কোটি কোটি মানুষ। শুরু হল দুর্ভিক্ষ।
‘দ্য‌ গ্রেট চাইনিজ ফ্যামিন’ নামের এই দুর্ভিক্ষে মারা‌‌ যান প্রায় দেড় কোটি মানুষ। চড়াই নিধন করে কত বড় ভুল যে তাঁরা করেছেন, বুঝতে পেরে, অবশেষে 'পোকামাকড়ের ফসল খাওয়ার সমস্যা' সামাল দেওয়ার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে প্রায় কয়েক লাখ চড়াই পাখি আমদানি করতে বাধ্য হয় চিনা সরকার। সেই চড়াই পাখি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘোষণা করা হয়, এ বার থেকে চড়াই পাখিকে আমাদের রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। ‌একটা চড়াইও যাতে না মারা না যায়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এই 'দ্য গ্রেট স্প্যারো ক্যাম্পেইন' যেমন চিনের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে আছে, ঠিক তেমনি‌ আছে, বিদেশ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যাক চড়াই পাখি আমদানি করার এক অদ্ভুত রেকর্ডও।


সোনার হোটেল

পঁচিশ তলা হোটেল। পুরোটাই সোনার।
হোটেলের ঘরগুলো যেমন সোনা দিয়ে তৈরি, তেমনই বাথরুম থেকে সুইমিংপুল--- সবই সোনার পাত দিয়ে মোড়া। চা থেকে শুরু করে খাবার-দাবার, সব কিছু সোনার পাত্রেই পরিবেশন করা হবে। তার থেকেও বড় কথা হল, হোটেলের চেয়ার-টেবিল, খাট, আলমারি থেকে শুরু করে সমস্ত আসবাবপত্রও সোনার তৈরি।
এমনকী, হোটেলের টয়লেট থেকে শুরু করে লবি, ইনফিনিটি পুল, বাথরুমের শাওয়ারের মাথাটিও সোনা দিয়ে বানানো। হোটেলে থাকা কাস্টমারের কোনও গেস্ট দেখা করতে আসামাত্রই তাঁকেও সোনার কাপ-প্লেটে করেই কফি দেওয়া হবে।
হোটেলটির ভেতর এবং বাইরে যে পাঁচ হাজার বর্গমিটার জুড়ে সেরামিক টাইলস বসানো হয়েছে, সেই টাইলসগুলোও সম্পূর্ণ সোনা দিয়েই তৈরি। সোনায় মোড়া এই হোটেলটি মোট পঁচিশ তলার। আর ইমিউনিটি পুলটি রয়েছে একেবারে রুফটপে।
না, এটা শুধু পাঁচতারা হোটেলই নয়, এটা তার থেকেও বেশি কিছু। অর্থাৎ, এটাকে ছয় তারকাও বলা যায়। চব্বিশ ক্যারেটের চকচকে সোনার এই হোটেলটি তৈরি করা হয়েছে ভিয়েতনামের রাজধানী হানোইতে। আরও নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে বলতে হয়, হোটেলটি হানোইয়ের বা দিন জেলার গিয়াং ভো লেকের এক্কেবারে ধারেই তৈরি করা হয়েছে।
হোটেলটির নাম--- ডলস হানোই গোল্ডেন লেক। এই হোটেলটিকেই বিশ্বের প্রথম সোনার হোটেল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।
২০০৯ সালে হোটেলটির কাজ শুরু হয়। বিশ্বজুড়ে করোনার থাবায় সমস্ত কাজ আটকে গেলেও, আশা করা যাচ্ছে চলতি বছরের শেষের দিকেই জনসাধারণের জন্য এই হোটেলটি খুলে দেওয়া যাবে। তবে না, এই একটি সোনার হোটেল নির্মাণ করেই তারা ক্ষান্ত হচ্ছেন না। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই এই রকম আরও ছ'-ছ'টি সোনার হোটেল বানানোর পরিকল্পনা নিয়েছে তারা।
এটি তৈরি করতে খরচ হচ্ছে প্রায়‌ ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার সমান।
এই হোটেলটি নির্মাণ করছে ভিয়েতনামের হোয়া বিন গ্রুপ। হোটেল-সহ আরও অন্যান্য ব্যবসার পাশাপাশি এই গ্রুপের এমন একটি কারখানা রয়েছে, যেখানে তারা খুব সস্তায় নানান ধরনের সোনার জিনিসপত্র বানিয়ে দেয়।
হোটেলটির ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব থাকবে আমেরিকান সংস্থা উইনধাম হোটেল গ্রুপ।
না, এই হোটেলে থাকার ভাড়া কিন্তু সোনার হোটেল হিসেবে খুব একটা বেশি নয়। এই হোটেলের ঘর ভাড়া শুরু হচ্ছে দৈনিক ২৫০ মার্কিন ডলার থেকে। যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় কুড়ি হাজার টাকা। আর অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া? না, সেটাও এমন আহামরি কিছু নয়। মাত্র ৬৫০০ মার্কিন ডলার। মানে ওই পাঁচ লাখ টাকার কাছাকাছি। একটা সোনার হোটেলে রাত কাটানোর জন্য এটুকু খরচ তো করাই যায়, নাকি?


মাছ-বৃষ্টি

আকাশে প্রচুর কালো মেঘ জমলে, তুমুল হাওয়া বইতে শুরু করলে, আকাশ বিদীর্ণ করে মেঘ ডাকলে, তার সঙ্গে ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকালে এবং মুষলধারে বৃষ্টি--- এই সব ক'টা একসঙ্গে শুরু হলেই মধ্য আমেরিকার হন্ডুরাসের লোকেরা বুঝতে পারেন, এ বার মাছ বৃষ্টি হবে। বুঝবেন নাইবা কেন, একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে যে এটা হচ্ছে!
প্রতি বছর মে থেকে জুলাই মাসের মাঝামাঝি এই বৃষ্টির সঙ্গে মাটিতে আছড়ে পড়ে লক্ষ লক্ষ জীবন্ত মাছ। তাও একবার নয়, বছরে অন্তত দু'বার। তবে না, এই মাছগুলো সাধারণত ছ'ইঞ্চির বেশি হয় না।
এটা হয় মূলত হন্ডুরাসের ইউরো শহরে। এই শহরের লোকজন এই মাছ কুড়িয়ে নিয়ে গিয়ে রান্না করে খান। এটা তাঁদের কাছে এতটাই আনন্দদায়ক ঘটনা যে, ১৯৯৮ সাল থেকে এই ঘটনাকে ঘিরে প্রতি বছর উৎসবের আয়োজন করা হয়।
স্থানীয়রা এই ঘটনাটাকে বলেন, ‘জুভিয়া দে পেতেস’ (Lluvia de Peces)। এই স্প্যানিশ শব্দটির অর্থ হল--- মাছের বৃষ্টি। আকাশ থেকে অঝোরে ঝরে পড়তে থাকে মাছ, স্কুইড, ব্যাঙ ও আরও কত কী! স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সময় রীতিমত লোক নামিয়ে রাস্তাঘাট পরিষ্কার করাতে হয়।
একটা সময় পর্যন্ত এ অঞ্চলের বহু মানুষ বিশ্বাস করতেন যে, উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি, মানে ১৮৫৬ থেকে ১৮৬৪ সালের মধ্যে হন্ডুরাসে আসা ক্যাথলিক ধর্মযাজক হোসে সুবিরানার আশীর্বাদেই এই মাছ-বৃষ্টি হয়।
উনি যখন হন্ডুরাসে আসেন, তখন এই অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষই অত্যন্ত অভাব, অনটন আর দারিদ্রের মধ্যে দিন কাটাতেন। দু'বেলা খাওয়া পর্যন্ত জুটত না। তাঁদের সেই দুর্দশা দূর করার জন্যই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থণা করেন তিনি। তাঁর প্রার্থণার পর থেকেই নাকি স্বয়ং ঈশ্বর আকাশ থেকে এই ‘মাছের বৃষ্টি’।
যে এলাকায় প্রতি বছর একেবারে নিয়ম করে এই মাছের বৃষ্টি হয়, আটলান্টিক মহাসাগর থেকে সেটা প্রায় দুশো মাইল দূরে। তাই অনেকে মনে করেন, আটলান্টিক মহাসাগরের টর্নেডো বা সামুদ্রিক ঝড়ই আটলান্টিক মহাসাগর থেকে এই মাছগুলোকে উড়িয়ে এনে এ অঞ্চলে ফেলে। কিন্তু এ রকম ঘটনা প্রতি বছর কী করে সম্ভব, তা নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে।‌ এর পাশাপাশি এই মাছ-বৃষ্টি নিয়ে অনেক লোককথাও প্রচলিত আছে।
শোনা যায়, ১৯৭০ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ দলকে পাঠানো হয়েছিল হন্ডুরাসে। তাঁরা জানান, এই অঞ্চলে আকাশ থেকে যে সব মাছের বৃষ্টি হয়, তা কোনও সমুদ্রিক মাছ নয়। সেগুলো মিষ্টি জলের মাছ। অর্থাৎ, আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো ঝরে পড়া মাছগুলো কোনও নদী, পুকুর বা হ্রদের মতো মিষ্টি জলাশয়ের মাছ। শুধু তাই-ই নয়, বেশির ভাগ মাছই প্রায় একই প্রজাতির।
বেশ কিছু বিজ্ঞানী অবশ্য এই সব মাছ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেছেন, এই মাছগুলো দৃষ্টিহীন। মানে এই মাছগুলো সমুদ্রের অনেক গভীরে থাকে। যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছয় না। ডাঙায় যে টর্নেডো হয়, তার গতিবেগ থাকে ঘণ্টায় তিনশো কিলোমিটার। জলে সেটা একশো কিলোমিটার। তাতেই সমুদ্রের তলদেশ থেকে এই মাছগুলোকে তুলে এনে এখানে ছুড়ে ফেলে।
শুধু হন্ডুরাসেই নয়, এই রকম মাছের বৃষ্টির কথা শোনা গেছে আরও বহু জায়গাতেই। ১৮৬১ সালে সিঙ্গাপুরেও হয়েছিল মাছ-বৃষ্টি। ১৯৪৭ সালের ২৩ অক্টোবরে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায়। ২০১০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারিতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলের রাজামারুতে। তবে জীবিত নয়, ছোট ছোট সাদা মাছগুলোকে দেখে মনে হয়েছিল, ফ্রিজে রাখা মাছ। এই একই রকম মাছ-বৃষ্টি হয়েছিল থাইল্যান্ডেও।
হঠাৎই একদিন শ্রীলঙ্কার চিলাও গ্রামে শুরু হয় মাছ-বৃষ্টি। ওখানকার লোকেরা দেখেন, বৃষ্টির সঙ্গে অবাধে ঝরছে বেশ ছোট ছোট মাছ। মাছগুলো একদম তরতাজা। কোনও কোনওটা দিব্যি লাফাচ্ছে। তাঁরা কুড়োতে‌ শুরু করেন। মাছ ভর্তি পাত্রে জল ঢালতেই দেখা যায়, লাফিয়ে উঠছে সেই সব মাছ।
শ্রীলঙ্কার এই মাছ-বৃষ্টির খবর ফলাও করে জানিয়েছে বিবিসি-সহ বহু আন্তর্জাতিক মিডিয়াও।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, ঘরের চালে আকাশ থেকে ভারী কিছু পড়ার শব্দে তাঁরা বাইরে বেরিয়ে আসেন। এসে দেখেন, ঘরের চালে, বাড়ির উঠোনে, মাঠে ঘাটে, এমনকী রাস্তাতেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে তিন থেকে পাঁচ ইঞ্চি লম্বা এই মাছগুলো।
খাওয়ার উপযোগী এই মাছ প্রায় পঞ্চাশ কিলোর মতো ওই গ্রামের বাসিন্দারা সে দিন কুড়িয়েছিলেন বলে জানায় বিবিসি।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, 'মাছ-বৃষ্টি' অস্বাভাবিক হলেও প্রকৃতিতে এটা ঘটে থাকে। মাছ ভর্তি কোনও কম গভীরতার জলাশয়ের ওপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেলে এমন জলঘূর্ণি হতে পারে। তখন জলে থাকা মাছ, ব্যাঙ-সহ সব কিছুই ঘূর্ণিবায়ুর সঙ্গে আকাশে উঠে যায়। আকাশে উঠে যাওয়ার পর ঝড়ের সঙ্গে অনেক দূরে চলে যেতে পারে এ সব জলজ প্রাণী। এমনকী, এই জলঘূর্ণি থেমে যাওয়ার পরও মেঘের স্তরের কারণে এরা সাময়িক ভাবে আটকে থাকতে পারে ওপরেই। আর তুমুল ঝড়-জলের সঙ্গে মেঘের ভেতর থেকে ঝরে পড়তে শুরু করে ওই সব জলজ প্রাণী।
শ্রীলঙ্কায় এই মাছ-বৃষ্টি অবশ্য সে বারই প্রথম নয়। ২০১২ সালে দেশটির দক্ষিণা লে-তে 'চিংড়ি-বৃষ্টি' হওয়ার কথাও জানা গেছে।
সেই একই বছরে লাল ও হলুদ রঙের শিলাখণ্ডের অস্বাভাবিক শিলাবৃষ্টিও হয়েছিল শ্রীলঙ্কায়। ওই শিলাগুলো মহাকাশ থেকে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন বেশ কিছু বিজ্ঞানী।
অনেকে এটাকে অলৌকিক ঘটনা মনে করলেও, মার্কিন এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা মহাকাশের এই শিলাবৃষ্টি এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের এই মাছ-বৃষ্টি নিয়ে ইতিমধ্যেই গবেষণা শুরু করে দিয়েছেন।


ডাইনি কুয়ো

তুহালা গ্রামটা ভারী সুন্দর। চারিদিকে এত ঘন গাছগাছালিতে ভরা যে, এটাকে ঠিক গ্রাম নয়, জঙ্গল বলাই ভাল। সেই জঙ্গলের মধ্যেই আছে মানুষের তৈরি করা একটা কুয়ো। এই কুয়োটাকে সবাই বলে--- ডাইনি কুয়ো।
এই কুয়োর জন্য শুধু তুহালা গ্রামটাই নয়, এই গ্রামটি যেই দেশে, সেই  উত্তর-পূর্ব ইউরোপের বাল্টিক সাগরের এস্তোনিয়ার দেশটির নাম এখন সবার মুখে মুখে।
প্রায় তিন হাজার বছর আগে, যখন এই গ্রামে জলের জন্য সবাই হাহাকার করছিল, তখন গ্রামের লোকেরা জলের খোঁজ করতে করতে সন্ধান পায় এই জায়গাটির। মাটি ছুঁয়েই তাঁরা বুঝতে পারেন, এখানে জল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে।
মাত্র আড়াই মিটার খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে বিশুদ্ধ জল। গ্রামবাসীরা হাফ ছেড়ে বাঁচেন। কুয়োর চারপাশটা কোমর সমান পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। যাতে কোনও বাচ্চাকাচ্চা হুমড়ি খেয়ে ভিতরে পড়ে না যায়। উপরে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয় একটি কাঠের বালতি। যার যখন যতটা জল দরকার, এখান থেকে তুলে নিয়ে যাবেন।
প্রথম প্রথম সব ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু একদিন এক গ্রামবাসী জল নিতে এসে দেখেন, যে জল অনেকটা নীচে থাকার কথা, সেই জল কুয়ো থেকে আপনা-আপনিই উপরে উঠে উপচে পড়ছে।
অবিশ্বাস্য এই দৃশ্য দেখে সে দৌড়ে চলে গিয়েছিল গ্রামের সবাইকে জানাতে। সঙ্গে সঙ্গে সবাই ছুটে এসেছিল ব্যাপারটা কী, দেখার জন্য। গ্রামের সবাই কুয়োর কাছে এসে একদম অবাক।
এই বিচিত্র দৃশ্য দেখে কারও মনে জন্ম নিল ভয়, কারও মনে আতঙ্ক। আবার কারও কারও মনে হল, এটা নিশ্চয়ই ঈশ্বরের অসীম কৃপা।
তখন ওই গ্রামেরই এক খুনখুনে বুড়ি শোনালেন, তাঁর স্বপ্নে দেখা এক অদ্ভুত গল্প। যেটা পরে লোকগাঁথায় পরিণত হয়।
তিনি বললেন, চাঁদের জ্যোৎস্না মাখা এক অদ্ভুত অলৌকিক রাতে একদল ডাইনি বেরিয়েছিল ঘুরতে। আকাশের বুক দিয়ে যেতে যেতে এ জায়গাটি দেখে তাদের খুব পছন্দ হয়। তাই সঙ্গে সঙ্গে তারা নেমে আসে এই জঙ্গলে। কিছুটা ঘুরতেই তাদের চোখে পড়ে এই কুয়োটি। কুয়োটির মধ্যে আয়নার মতো স্বচ্ছ ঝকঝকে জল দেখে তারা সেই কুয়োর ভিতরে নেমে পড়ে। একেবারে তলদেশে পৌঁছে যায়। তুমুল আনন্দে তারা জলের নীচে হাত-পা ছুড়ে হইহই করে স্নান করতে থাকে।
ঠিক তখনই, আনন্দের চোটে কারও হাত বা পা বুঝি কারও গায়ে দুম করে লেগে গিয়েছিল, সেই নিয়ে শুরু হয়ে যায় তুমুল ঝগড়া। মারপিট। আর তাদের সেই লাফালাফি-ঝাপাঝাপি, মারামারির দাপটেই কুয়োর জল ছিটকে উপরে এসে উপচে পড়তে লাগল। চারপাশ ভরে যেতে লাগল বাধ না মানা জলের স্রোতে। তৈরি হয়ে গেল একটা বিশাল পুকুর। তবু ডাইনিদের সেই তাণ্ডব যেন কিছুতেই বন্ধ হতে চায় না!
এই গল্প শুনে অনেকেই ভিড়মি খেল। এই কুয়োর ভেতরে ডাইনি আছে! ব্যস, লোকের মুখে মুখে এই কুয়োর নাম হয়ে গেল--- ডাইনি কুয়ো।
অল্প কিছু দিনের মধ্যেই এস্তোনিয়ার এই কুয়োর খবর ছড়িয়ে পড়ল চারিদিকে। ফলে এই অদ্ভুত কুয়োর অবারিত জলের ধারা দেখার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকেরা এসে ভিড় করতে লাগলেন।
কিন্তু না, বছরের বারো মাসই যে এই কুয়োর জল এই ভাবে উপচে পড়ে, তা কিন্তু নয়। মূলত শীতকাল আর বর্ষাকালেই পড়ে।
হিসেব করে দেখা গেছে, এই কুয়ো থেকে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় পাঁচ হাজার লিটারের উপর জল উপচে পড়ে। টানা এক থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত। আর একটা কথা, কুয়োর উপরে যখনই কোনও কাঠের বালতি রাখা হয়, কিছুক্ষণের মধ্যেই কী করে যেন সেটা ডাইনিদের মতো দেখতে হয়ে যায়।
এই কুয়োকে ঘিরে আরও অনেক গল্প প্রচলিত আছে। অনেকে বলেন, তাঁরা নাকি রাত্রিবেলায় এই কুয়োর উপর দিয়ে আগুনের গোলক উড়ে যেতে দেখেছেন। যেটা অশুভ।
কেউ কেউ আবার মনে করেন, এই কুয়ো সৃষ্টিকর্তার এক অলৌকিক নিদর্শন, যা গ্রামের মধ্যে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
নানান জন নানান কথা বললেও, এই কুয়োটি কিন্তু নজর কাড়েছে অনেক বিজ্ঞানীরাও। অনেক প্রত্নতত্ত্ববিদও আসেন এই কুয়োটি সরজমিনে পরীক্ষা করতে। অনেক খোঁড়াখুঁড়িও করা হয়েছে এই জলের উৎসের খোঁজে।
তাদের মতে, কুয়োর মূল রহস্য লুকিয়ে আছে এর ভৌগোলিক গঠনে। বাল্টিক সাগরের উত্তরে অবস্থিত হওয়ায় এস্তোনিয়ার চার পাশে ছড়িয়ে রয়েছে অনেকগুলো নদী। তেমনি তুহালা অঞ্চলের ভূগর্ভেও লুকিয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট নদী এবং শাখা নদী।
শীতকালে এ সব অঞ্চলে প্রচুর তুষারপাত হয়। দিনের বেলায় রোদের তাপে সেই বরফ গলতে শুরু করে। সেই বরফ গলা জল ভূগর্ভস্থ নদীগুলোর মধ্যে প্রবল বেগে বইতে থাকে। ফলে ভূগর্ভস্থ এই সব নদীর জল অনেক বেড়ে যায়। আর এই কুয়ো যখন খোঁড়া হয়, তখন হয়তো কোনও নদী বা শাখা নদীর সঙ্গে কুয়োটির তলাটা মিশে গেছে। ফলে নদীতে যখন জলের স্রোত বাড়ে, তখন কুয়োর মুখ থেকে সেই জল হু হু করে বেরিয়ে আসে। আর বর্ষাকালেও এই একই জিনিস হয়।
তবে কাকতালীয় ভাবেই হোক কিংবা পরিকল্পনা মাফিকই হোক, কোনও অলৌকিক কারণে যে এই জল মাটির ভূগর্ভ থেকে উপরে উঠে আসছে না, তা এখন রীতিমত পরীক্ষিত।
তবু ২০১২ সালে এস্তোনিয়ানরা এই কুয়োটাকে দেশের শ্রেষ্ঠ বিস্ময় বলে দাবি করেছেন। ফলে এই কুয়োর প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বেড়ে গেছে। তাই দেশ ও দেশের বাইরে থেকেও বহু মানুষ এখন দেখতে আসছেন প্রকৃতির এই বিস্ময়--- ডাইনি কুয়ো।


১৪৪৬ বছরের কারাদণ্ড

অপরাধ করলে এবং সেই অপরাধের জন্য ধরা পড়লে আইন তাঁকে সর্বোচ্চ কত বছরের জন্য শাস্তি দিতে পারে?
সম্প্রতি একটি আদালত একই অন্যায়ের জন্য দুই অপরাধীর প্রত্যেককে ১৪৪৬ বছরের শাস্তি ঘোষণা করেছে।
কিন্তু কী সেই অপরাধ?
বেশ কিছু দিন ধরেই তাঁরা অন‌ লাইনের মাধ্যমে তৈরি করা খাবার বিক্রি করছিলেন। গ্রাহকদের কাছ থেকে অনলাইনে খাবারের অর্ডার নিয়ে ক্রেতাদের ঠকানোর অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে।
না, তাঁদের খাবার খেয়ে কেউ অসুস্থ হননি। পঁচা মাংস দেওয়ারও অভিযোগ ওঠেনি তাঁদের বিরুদ্ধে। পরিমাণেও এতটুকু কম দিতেন না তাঁরা। বরং তাঁদের খাবার এতটাই সুস্বাদু ছিল যে, লম্বা লাইন পড়ে যেত। তাই ভিড় সামাল দেওয়ার জন্যই তাঁরা অনলাইনের পথ বেছে নেন।
তবু তাঁদের বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ জমা পড়তে লাগল। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ওই রেস্তোরাঁর দুই মালিককে প্রায় দেড় হাজার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে‌ থাইল্যান্ডের একটি আদালত।
এ রকম অবিশ্বাস্য এবং অকল্পনীয় কারাদণ্ডের সাজা পাওয়া থাইল্যান্ডের ওই দু'জন আসলে লেইমগেইট সি-ফুড অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক।
তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা গ্রাহকদের কাছ থেকে আগাম অর্থ নিয়ে খাবার তো সরবরাহ করেনইনি, উল্টে তাঁদের অর্থ ফেরত দিতেও তাঁরা অস্বীকার করেন।
দু'-দশ জন বা এক-দেড়শো নয়, অন্তত ২০ হাজার ক্রেতার কাছ থেকে প্রায় ৫০ মিলিয়ন বাথের (থাইল্যান্ডের মুদ্রা) খাবারের অর্ডার নেন তাঁরা। এবং পুরো অর্থটাই আগাম নিয়ে।
কিন্তু খাবার সরবরাহ করার সময় রেস্তোরাঁর ওই  দুই মালিক ঘোষণা করেন যে, গ্রাহকদের চাহিদা মেটানো তাঁদের পক্ষে সক্ষম নয়। যে অর্থ তাঁরা অগ্রিম নিয়েছিলেন, সেটা তাঁদের রেস্তোরাঁর ধারবাকি এবং কর্মচারীদের পাওনা মাইনে মেটাতেই শেষ হয়ে গেছে। ‌
শেষে অনেক টালবাহানার পরে এক সময় ক্রেতাদের অর্থ ফেরত না দিয়েই ওই রেস্তোরাঁটি বন্ধ করে দেন ওই মালিকেরা।
এই ঘটনার পরে রেস্তোরাঁটির মালিকদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন কয়েকশো লোক। তখন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী রেস্তোরাঁর ওই দুই মালিককে গ্রেফতার করে।
এর পর তাঁদের কোর্টে তোলা হয়। এবং জনগণের চাপে দু'দিনের মধ্যেই তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের শুনানি তড়িঘড়ি শুরু হয়। এবং কেস-হিস্ট্রি শুনে বিচারক মশাই মাত্র ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ওই দুই রেস্তোরাঁ মালিকের প্রত্যেককে ১৪৪৬ বছর করে কারাদণ্ড দেন।
প্রতারণার অভিযোগে থাইল্যান্ডে এ রকম  অকল্পনীয় সাজা দেওয়ার ঘটনা কিন্তু নতুন নয়। এ রকম অদ্ভুত অদ্ভুত কারাদণ্ডের বিধান আকছার ঘটে।
২০১৭ সালে থাইল্যান্ডের এক আদালত প্রতারণার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ১৩ হাজার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল।
যদিও দেশটির আইনে কিন্তু প্রতারণার অভিযোগে এই রকম অনন্ত বছরের সাজা দেওয়ার কোনও বিধান নেই। সেখানে বলা আছে, খুব বেশি হলে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে। তবুও...


এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ২৮৮ বার

আপনার মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত