লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে আরও ৫২৪ ভোটকেন্দ্র চালু, আগাম ভোটগ্রহণ অব্যাহত
সমুদ্রতলের ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি করবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া যৌথভাবে নতুন ধরনের সমুদ্রতলের ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছে। সমুদ্রের নিচে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কেবল ও অবকাঠামো সুরক্ষা এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিন দেশের সামরিক জোট ‘অকাস’ (AUKUS)-এর আওতায় এ প্রযুক্তি উন্নয়ন করা হবে।
তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত একটি নিরাপত্তা সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মানববিহীন পানির নিচের যান বা আন্ডারওয়াটার ড্রোন (ইউইউভি) প্রযুক্তি আগামী বছরের মধ্যেই প্রস্তুত করা হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় জানানো না হলেও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, তাঁর দেশ ১৫ কোটি পাউন্ড (প্রায় ২০ কোটি ১০ লাখ ডলার) বিনিয়োগ করবে।
অকাস জোট ২০২১ সালে গঠিত হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরি এবং সামরিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা ভাগাভাগি করা। বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক উপস্থিতির মোকাবিলায় এই জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
নতুন ড্রোন প্রকল্পটি অকাসের ‘পিলার টু’ কর্মসূচির প্রথম বড় উদ্যোগ। এর আওতায় দীর্ঘ-পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, পানির নিচের রোবট প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উন্নত সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন ড্রোনগুলোতে অত্যাধুনিক সেন্সর, অস্ত্র এবং অন্যান্য প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। এগুলো সমুদ্রতলের কেবল ও অবকাঠামো রক্ষা, নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, রসদ সরবরাহ এবং প্রয়োজন হলে হামলা চালানোর কাজেও ব্যবহার করা যাবে।
জন হিলি বলেন, এই প্রযুক্তি সমুদ্রের নিচে থাকা কেবল ও পাইপলাইনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সহায়তা করবে। তিনি দাবি করেন, এসব অবকাঠামোর ওপর আধুনিক বিশ্বের দৈনন্দিন জীবন অনেকাংশে নির্ভরশীল।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য অভিযোগ করেছে, দেশটির উত্তরের সমুদ্রসীমায় কেবল ও পাইপলাইন ঘিরে গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে রাশিয়া। যদিও মস্কো এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য ও নরওয়ে উত্তর আটলান্টিকে রুশ সাবমেরিন শনাক্ত করার জন্য একটি চুক্তিও স্বাক্ষর করে।
এদিকে তাইওয়ানের আশপাশের জলসীমা ও সুইডেনের এলাকায় সমুদ্রতলের কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় চীনা জাহাজের সম্পৃক্ততার সন্দেহ করা হয়েছে। বাল্টিক সাগরেও একাধিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে।
তবে নতুন ড্রোন প্রকল্পটি রাশিয়া বা চীনের কর্মকাণ্ড মোকাবিলার জন্য কি না—এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা।
অকাস চুক্তির ‘পিলার ওয়ান’ অংশের অধীনে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার জন্য পারমাণবিক শক্তিচালিত আক্রমণাত্মক সাবমেরিন তৈরি করা হবে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটি সামরিক সক্ষমতার বড় ধরনের উন্নয়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৪০-এর দশকে নতুন অকাস সাবমেরিনগুলো প্রস্তুত হবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাদের বিদ্যমান পারমাণবিক সাবমেরিন পর্যায়ক্রমে অস্ট্রেলিয়ায় মোতায়েন করবে। এছাড়া ২০৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ব্যবহৃত পারমাণবিক সাবমেরিনও কিনবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ায় মার্কিন ও ব্রিটিশ পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা এখনও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগোচ্ছে। চলতি বছরের শেষ দিকে প্রথম মার্কিন নৌসদস্যরা সেখানে পৌঁছাবেন।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস বলেন, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার এইচএমএএস স্টার্লিং নৌঘাঁটি ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ সাবমেরিন মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় অকাস সাবমেরিন নির্মাণের জন্য নতুন শিপইয়ার্ড স্থাপনের কাজও দ্রুতগতিতে চলছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন