ট্রাম্পের বাতিল করা ভিসা কর্মসূচি আপাতত বন্ধই থাকছে, আদালতে বড় ধাক্কা আবেদনকারীদের
ট্রাম্পের বাতিল করা ভিসা কর্মসূচি আপাতত বন্ধই থাকছে, আদালতে বড় ধাক্কা আবেদনকারীদের
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বাতিল করা ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি আপাতত বন্ধই রাখতে পারবে। বছরে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসন ভিসা দেওয়ার সুযোগ থাকা এই কর্মসূচি পুনরায় চালুর নির্দেশ স্থগিত করেছেন দেশটির ফেডারেল আপিল আদালত।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি প্যানেল এ রায় দেন। এর ফলে গত ১৪ অক্টোবর নিম্ন আদালতের দেওয়া কর্মসূচি পুনরায় চালুর আদেশ কার্যকর হচ্ছে না।
তবে পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেননি আপিল আদালতের বিচারকেরা। তাঁরা বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করেছে রেড ঈগল ল নামের একটি বেসরকারি আইন প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি আগে ভিসা আবেদনকারীদের প্রতিনিধিত্ব করলেও কর্মসূচি বাতিলের বিরুদ্ধে মামলা করার মতো পর্যাপ্ত আইনি অধিকার তাদের নেই।
তিন বিচারকের প্যানেল সর্বসম্মতভাবে রায়ে বলেন, ১৯৯০ সালের একটি ফেডারেল আইনের মাধ্যমে চালু হওয়া ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির উদ্দেশ্য অভিবাসন উৎসাহিত করা, আইন প্রতিষ্ঠানের জন্য রাজস্ব তৈরি করা নয়।
রায়ে অংশ নেওয়া বিচারকেরা হলেন বিল ক্লিনটনের নিয়োগ দেওয়া এম. মার্গারেট ম্যাককিওন, জো বাইডেনের নিয়োগ দেওয়া হলি থমাস এবং জর্জ ডব্লিউ বুশের নিয়োগ দেওয়া এন. র্যান্ডি স্মিথ।
রেড ঈগল ল-এর আইনজীবী কার্টিস মরিসন বলেছেন, আদালতের রায়ের পরও তাঁরা হাল ছাড়ছেন না। তাঁর মতে, অভিবাসীদের সহায়তা করা একটি ছোট আইন প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপকে আদালত বেশি গুরুত্ব দিয়েছে, কিন্তু ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।
মরিসন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপপ্রধান কর্মী ও অভিবাসন নীতির প্রধান উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারকে উল্লেখ করে এ মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, চলতি বছর কোনো লটারি অনুষ্ঠিত না হওয়ায় কর্মসূচির নির্বাচিত আবেদনকারীদের প্রতিনিধিত্ব করে মামলা করার সুযোগ তাদের ছিল না। তবে লটারি অনুষ্ঠিত হলে আবেদন করতে আগ্রহী এমন একজন বিদেশি নাগরিকের পক্ষে নতুন মামলা করার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির আওতায় ক্যামেরুন, লাইবেরিয়া ও কাতারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার কম এমন যোগ্য দেশের লাখো আবেদনকারী প্রতিবছর লটারিতে অংশ নেন। প্রতি শরতে লটারির মাধ্যমে প্রায় এক লাখ আবেদনকারীকে নির্বাচন করা হয়। তাঁদের মধ্যে যোগ্য ব্যক্তিরা সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। ভিসা পেলে পরবর্তী ধাপে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করার সুযোগ থাকে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও কর্মসূচিটি চালু ছিল। গত বছরও এটি কার্যকর ছিল। তবে সম্প্রতি আরেকটি ফেডারেল আদালত ২০২৫ সালের আবেদনগুলো ২০২৬ সালে অত্যন্ত ধীরগতিতে প্রক্রিয়া করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।
চলতি বছরের লটারি বাতিলের সিদ্ধান্তের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
গত ১৪ অক্টোবর সান ডিয়েগোর ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা রেড ঈগল ল-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র দপ্তরকে ভিসা লটারি পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
বাইডেনের নিয়োগ দেওয়া বিচারক ওহতা বলেছিলেন, কর্মসূচিটি আইন দ্বারা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি লটারি বাতিলের কারণে আইন প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য মক্কেল ও আয় কমে যাওয়ায় মামলা করার মতো যথেষ্ট আইনি স্বার্থ রয়েছে।
তাঁর মতে, প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক স্বার্থের বিষয়টি থাকলেও তা কর্মসূচির মাধ্যমে ভিসা দেওয়ার আইনি উদ্দেশ্য এবং অভিবাসনের সুযোগ প্রত্যাশীদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কিন্তু বৃহস্পতিবার আপিল আদালত সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির নির্বাচিত আবেদনকারীদের প্রতিনিধিত্ব করে আইন প্রতিষ্ঠানের যে আর্থিক স্বার্থ রয়েছে, তা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে খুব সামান্যই সম্পর্কিত।
ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের বাতিল করা কর্মসূচিটি পুনরায় চালুর বিষয়ে আপাতত কোনো বাধ্যবাধকতা থাকছে না। তবে আদালতের এই রায় কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তকে সরাসরি বৈধতা দেয়নি; বরং মামলাটি করার ক্ষেত্রে আইন প্রতিষ্ঠানটির আইনি অধিকার নেই বলেই পুনরায় চালুর আদেশ স্থগিত করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন