আপডেট :

        নিজের সাজানো ওভাল অফিসের পরিবর্তন ঠেকাতে নির্বাহী আদেশে সই ট্রাম্পের

        ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫৪৮ বন্দির সাজা কমালেন গভর্নর গ্যাভিন নিউজম

        লস এঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে কারেন বাসকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন নিত্যা রামন

        ‘শত্রু আর কেউ নয়, আমরাই’, ট্রাম্প শিবিরের ভেতরের ব্যর্থতার চিত্র প্রকাশ্যে

        ৩৩টি গবেষণায় উঠে এল পু রুষাঙ্গের গড় আকার, দৈর্ঘ্য ও পরিধি নিয়ে বাস্তব তথ্য

        নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ আ গুন, ছয়জনের মৃ ত্যু

        হরমুজ প্রণালিতে আরও তিনটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত, যু দ্ধ বন্ধে ইরানের চাপ অব্যাহত

        ধর্ষণ ও যৌন হা মলার মামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্রিটিশ অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড

        কালো পোশাকে ইনগলউড থেকে নিখোঁজ ১৫ বছরের কিশোর, সন্ধানে জরুরি বার্তা

        ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের সংস্কারকাজে ১৬ মাস বন্ধ থাকবে লস এঞ্জেলেসের গুরুত্বপূর্ণ সেতু

        বিকেলেই অন্ধকার নামায় বিরক্ত ট্রাম্প, সিনেটকে সময় পরিবর্তন বন্ধের আইন পাসের তাগিদ

        টাম্পায় সিটিব্যাংকে গু লি চালিয়ে নারী হ ত্যা, নিরাপত্তাকর্মীর পাল্টা ব্যবস্থায় নি হ ত হামলাকারী

        ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশ্বের বৃহত্তম বন্যপ্রাণী সেতুতে বসছে নজরদারি ক্যামেরা, দেখা যাবে প্রাণীদের চলাচল

        ধনীদের সম্পদের ওপর কর বসানোর উদ্যোগে বিভক্ত ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার, সামনে এল নানা কারণ

        ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ে চাপে ইলন মাস্ক, ঝুঁকিতে স্পেসএক্স ও টেসলার ভবিষ্যৎ

        ল্যাঙ্কাস্টারে আতশবাজির দুর্ঘটনায় আ হ ত কিশোরী, হেলিকপ্টারে নেওয়া হলো হাসপাতালে

        নিউ জার্সিতে ৮৪৭ মিলিয়ন ডলারের পাওয়ারবল জ্যাকপট জিতল এক টিকিট

        লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে নিখোঁজ ২৩ বছর বয়সী যুবক, সন্ধানে স্বজনদের উদ্বেগ

        অরেঞ্জ কাউন্টিতে ব্যাংক হিসাবের তথ্য চুরি করে ৯০ হাজার ডলারের বেশি জালিয়াতি

        হ্যালোউইনে পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই সন্তানের মায়ের, জবাব চাইছে পরিবার

নিজের সাজানো ওভাল অফিসের পরিবর্তন ঠেকাতে নির্বাহী আদেশে সই ট্রাম্পের

নিজের সাজানো ওভাল অফিসের পরিবর্তন ঠেকাতে নির্বাহী আদেশে সই ট্রাম্পের

ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঠেকাতে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে অফিসটির অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় ব্যাপক পরিবর্তন আনার পর এবার এটিকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, এর ফলে ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টরা ইচ্ছামতো অফিসটির ঐতিহাসিক কাঠামো পরিবর্তন বা ভেঙে ফেলতে পারবেন না।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কেউ যেন এটি স্পর্শ করতে, ধ্বংস করতে কিংবা নিজের পছন্দ অনুযায়ী নতুন করে নির্মাণ করতে না পারেন, সেটিই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, ‘আমরা ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা করছি। ফলে নির্বোধ কেউ নিজের পছন্দমতো সামান্য ভিন্ন আকৃতির কিছু তৈরি করতে গিয়ে এটি পরিবর্তন, ধ্বংস বা ভেঙে ফেলতে পারবেন না।’

ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা নির্বাহী আদেশে ওভাল অফিসের পাশাপাশি এর আশপাশের কয়েকটি কক্ষকেও জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভের আওতায় আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় পরিবর্তন আনার ক্ষমতা রয়েছে। তবে বড় ধরনের নির্মাণ বা সংস্কার প্রকল্পের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

নতুন আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ঘোষণার অর্থ এই নয় যে প্রেসিডেন্টের সাজসজ্জা পরিবর্তনের ক্ষমতা পুরোপুরি সীমিত হয়ে যাবে। আসবাবপত্র নির্বাচন, অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা এবং নিরাপত্তা বা দৈনন্দিন কার্যক্রমের প্রয়োজনে সাধারণ পরিবর্তন আনার সুযোগ থাকবে। তবে এসব পরিবর্তনের কারণে স্থাপনাটির ঐতিহাসিক কাঠামো বা স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের বড় ধরনের ক্ষতি করা যাবে না।

ট্রাম্প বলেন, ওভাল অফিস যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। হোয়াইট হাউসের মতো এটিও দেশটির পরিচয় ও গৌরবের প্রতিনিধিত্ব করে।

প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতাবলে কোনো স্থানকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ঘোষণা করা সম্ভব। জাতীয় উদ্যানের মতো এসব স্থাপনাও বিশেষ সংরক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় থাকে। ট্রাম্পের আদেশ অনুযায়ী, ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস ওভাল অফিসের ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য, স্থাপত্যের অখণ্ডতা এবং প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হিসেবে এর ঐতিহ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে।

তবে পুরো হোয়াইট হাউস আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃত। এই স্বীকৃতির উদ্দেশ্য হলো ভবনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রক্ষা করা এবং হঠাৎ করে বড় ধরনের পরিবর্তন ঠেকানো। ট্রাম্পের ঘোষণায় আগের এই সুরক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও তাঁর দাবি, ওভাল অফিসের বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে আলাদা সংরক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের উদ্যোগে ১৯৩০-এর দশকের শুরুতে বর্তমান ওভাল অফিসের কাঠামো তৈরি হয়। দেশটির প্রেসিডেন্টদের কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে এটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে বিশেষজ্ঞ আইনজীবী গ্রেগ ওয়ার্কহাইজার বিবিসিকে বলেন, আসবাবপত্র ও সাজসজ্জার মতো অস্থায়ী পরিবর্তনের বিষয়টি মূলত প্রেসিডেন্টের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। স্থায়ী শিল্পকর্ম বা স্থাপত্যের ক্ষতি না করলে প্রেসিডেন্ট সাধারণত এসব পরিবর্তন করতে পারেন।

তবে তাঁর মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ওয়াশিংটনের অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। বরং বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষার আইন দুর্বল করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ওয়াশিংটনে সৌন্দর্যবর্ধন ও নির্মাণসংক্রান্ত বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছেন ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি ডেমোক্র্যাটদের কাছে পরাজিত হওয়ার পরও গত এক সপ্তাহে এসব নির্মাণকাজের অগ্রগতি তুলে ধরতে তিনটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন তিনি।

ওয়ার্কহাইজার ট্রাম্পের নতুন আদেশের মধ্যে বৈপরীত্যের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, একদিকে প্রেসিডেন্ট ওভাল অফিসের ঐতিহ্য সংরক্ষণের কথা বলছেন, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষার আইনকে চ্যালেঞ্জ করছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টার সংস্কার, শহরে নতুন বিজয়স্তম্ভ নির্মাণ এবং ঐতিহাসিক এক্সিকিউটিভ অফিস ভবনের গ্রানাইটের বাইরের অংশ রং করার উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে দুটি আটকে দিতে ওয়ার্কহাইজারের প্রতিষ্ঠান আদালতে মামলা করেছে।

গত অক্টোবরেও ওভাল অফিসের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। টাইম সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ভবিষ্যতে অফিসটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের প্রয়োজন হতে পারে।

তবে সেই সময় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, কোনোভাবেই এটি ভেঙে নতুন কিছু তৈরি করা যাবে না। এটি একটি বিশেষ জায়গা।’

মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণার সময় ডেমোক্র্যাট নেতারাও হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনা করেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর সোনালি সাজসজ্জা নিয়ে ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন, ট্রাম্পের পরিবর্তনের পর হোয়াইট হাউস দেখতে এমন লাগছে, যেন সাদ্দাম হোসেন সেখানে একটি চিজকেক ফ্যাক্টরি খুলেছেন।

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত