Updates :

        ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কারণে বাচ্চাদের স্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কায় অভিভাবকরা

        করোনা মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি: সিডিসি

        প্রাক্তন সামরিক সদস্য ও গৃহহীনদের সেবায় নিয়োজিত ভিলেজ ফর ভেটস

        ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ নিষেধ আইনের সময়সীমা শেষ, হুমকিতে লাখো মানুষ

        ক্যালিফোর্নিয়ায় সেপ্টেম্বরে চতুর্থ স্টিমুলাস চেক প্রদান শুরু

        ফ্লোরিডায় বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, দৈনিক আক্রান্তের রেকর্ড

        এবার গণপরিবহন চালু

        জাপান, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডে রেকর্ড সংখ্যক করোনা সংক্রমণ

        শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরাতে এবার গণপরিবহন চালু

        প্রতারণার অভিযোগ থেকে রেহাই পেলেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশী এমপি আপসানা

        ‘এই বাংলার মাটিতে আর আসবো না’

        ক্ষুদ্র গ্রাহকদের ঋণ মওকুফের প্রক্রিয়া সহজ করছে এসবিএ

        গারসেটির বাসভবনে বিক্ষোভকারীরা ছুঁড়লো আবর্জনা ও টয়লেট পেপার

        ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে যাচ্ছেন বাসিন্দারা, বসতি গড়ছেন নেভাদায়

        লস এঞ্জেলেসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক

        দুই দিনের জন্য বন্ধ হলো মিরপুর স্টেডিয়াম

        ঢাকার পথে অসংখ্য কর্মজীবী মানুষ

        বাইডেন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ২ মার্কিন মুসলিম

        সালমান শাহের রুমে ঢুকে স্মৃতি ছুঁয়ে এসেছেন সাইমন

        বকেয়া টাকা চাওয়ায় ঝালমুড়িওয়ালাকে পেটালেন ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা

রিকশা লেন তৈরি করুন; গরীবের পেটে লাথি মারবেন না

রিকশা লেন তৈরি করুন; গরীবের পেটে লাথি মারবেন না

অটো রিকশা নিষিদ্ধ। প্রসিদ্ধ কী তবে?আমার মতো মধ্যবিত্ত চাকরীজীবীরা দ্রুত কর্মস্থলে পৌঁছাতে অটো রিকশার জুড়ি নেই।তাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।কারণ আমাদের দূরদর্শী সুদূর নগর পরিকল্পনার অভাব।ছোট যানবাহনের জন্য আলাদা লেইন তৈরি করলে অসুবিধা কোথায়?এতবড় ফুটপাত কীসের জন্য?ঠিকই তো মানুষ মসৃণ রাস্তার কোণা ধরে হাঁটছে হরহামেশাই।রাস্তার মোড়ে মোড়ে ফুট ওভার ব্রীজ তৈরি করে দিলেই তো হয়।আবার আছে  নগর সৌন্দর্য বর্ধন!কী জ্বালা রে বাপু!গাড়ির কালো ধূয়ায় বেচারা রাস্তার গাছগুলো দাঁড়কাকের মতো দেখায়।সৌন্দর্য বর্ধন করার মতো আর কোন উপায় কি নেই?রোডের দুই সাইডে কি তা করা যায় না?আবার রিকশা, ছোট যান চলার মতো রাস্তার দুই পাশে সরু রোডের ব্যবস্থা করে দিলে গরীবরা রিকশা,ভ্যান চালিয়েও দু'টো ভাতের জোগাড় করতে পারে।বুলডোজার দিয়ে অটোরিকশা গুড়িয়ে দেয়ার কোন মানে হয়?সরকারের উচিত যারা এই গাড়িগুলো চালায় তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া।অটোরিকশার সমপরিমাণ মূল্য চুকিয়ে দেয়া।সরকার কি রোড,ব্রীজ করার সময় জমি অধিগ্রহণ করে তার মূল্য পরিশোধ করে না?নিশ্চয়ই করে।মানুষের জায়গার দাম দিয়ে দেয়া হয় সরকারী ভাবেই।যদিও কিছু কিছু জায়গায় অনিয়ম লক্ষণীয়।এতে সরকারের একার দোষ নয়,আমরাই অনেকাংশে দোষী।নিজের ফায়দা লুটতে নীতির বাইরে চলে যাই।এতে সরকার বাহাদুর কি করতে পারে?বারবার ব্যক্তির নৈতিকস্থলন ঘটলে কতবার শাস্তি দেয়া যায়?
দয়া করে গরীবের পেটে লাথি মারবেন না।ধনীদের দামী প্রাডো,মাহিন্দ্র আর টয়োটা কার,মাইক্রো,বাস ইত্যাদি চালানোর সুবিধা করে দিয়ে এই অসহায় মানুষগুলোকে নিঃস্ব করে দেয়ার হেতু কী জানা নাই।নাই বাড়ী,নাই কাজ তাহলে গরীবরা চলবে কি করে?দেশে কয়জন মানুষকে গার্মেন্টস কাজ দেবে যদি তারা অনভিজ্ঞ হয়?কে নেবে কাজে?যেখানে দুই প্যাডেল চালানোর শক্তি নেই;কারেন্ট বা ব্যাটারী খরচ বহন করে কোন রকম আরাম করে গাড়ি চালায় তাও সহ্য হলো না!অদ্ভুত ব্যাপার তো!নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্তের সাথে রিকশার সম্পর্ক নিবিড়।চাইলেই দশজনের জায়গায় বারোজন গাদাগাদি করে বসার চেয়ে রিকশা অনেক নিরাপদ মনে করি।আর করোনাকালে রিকশা সঙ্গ নিরোধক,পরিবেশ বান্ধব।এতে পরিবেশের কোন ক্ষতি হয় না।অথচ কালো ধোয়াযুক্ত যান,মেয়াদোত্তীর্ণ বাস,টেম্পু,টুকটুকি হরেকরকম গাড়ী চলছে পথে পথে চাঁদা দিয়ে।এই সময়তো আইন মানা হয় কদাচিৎ। সিসি ক্যামরা পথে পথে লাগানো আছে।এই সময় কি এই ক্যামরাগুলোর ব্যামো হয়?কিছুই ধারণ করতে পারে না কেন রোডে কী চলে?অদ্ভুত দেশে বাস করছি যেন সব দায় সরকারের আর প্রজারা অভিশাপ। দয়া করে অটোরিকশা গুড়িয়ে দেয়ার আগে ওদের পরিবারের কথা ভাবুন।যানজটে সময় নষ্ট হয় ঠিক কিন্তু খিদের জ্বালায় জীবন শেষ হয়।কতগুলো প্রাণের বেঁচে থাকার অনুষঙ্গ জড়িয়ে আছে এসব অতি সস্তা প্যাডেল বা ব্যাটারীচালিত তিন চাকার গাড়িগুলোতে হিসেব রাখেন কিছু?মনে রাখবেন একটি রিকশা ভাঙ্গা মানে দেশে দারিদ্র্যতা প্রকটভাবে ডেকে আনা।কর্মসংস্থান ও কর্মসন্ধান দিয়ে তবেই এই ভাঙ্গাভাঙ্গির কাজটি করুন প্লীজ।কয়জনকে দয়া দেখাবেন, কয়দিন দেখাবেন।দুই বেলার আহার জোগাড় খুবই কষ্টসাধ্য কাজ যা উপরতলার এলিট শ্রেণি বুঝেও না বুঝার ভান ধরেন।অথচ গার্মেন্টস চালায় এই খেটে খাওয়া মানুষরাই।নতুন জামা,নতুন গন্তব্যে পৌঁছে দেয় সেই গরীব শ্রমিক, এসি রুমে থাকা সেই ব্যক্তিটি কখনোই নয়।মাঠ পর্যায়ের কর্মীরাই দেশের দক্ষ জনশক্তি।যারা ঘুষ,তদবির বুঝে না।মাতব্বরি করে না।তাদের ইচ্ছে মতো খাটিয়ে এলিট বনে যাই আমরা।আমেরিকা, সিঙ্গাপুর বেড়াতে যাই অবকাশ যাপনের জন্য।কোটি টাকার পাহাড় হয় শুধু ঐ ছোটলোক শ্রমিকদের ঘামের বদৌলতে।মনে রাখবেন ওদের ঘামের চরম মূল্য একদিন আমাদের দিতেই হবে।

লেখক: শিক্ষক, কবি ও প্রাবন্ধিক।

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত