যুক্তরাষ্ট্রে আজ সোমবার, ১৭ Jun, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 11:39pm

|   লন্ডন - 06:39pm

|   নিউইয়র্ক - 01:39pm

  সর্বশেষ :

  নিউজিল্যান্ডে উড়োজাহাজের সংঘর্ষে ২ পাইলট নিহত   কী কথা হলো মোদি-ইমরানের?   ঢাকায় বস্তিতে সাড়ে ৬ লাখ মানুষের বাস   দুর্ঘটনায় মৃত্যু নয়, সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা করা হয় : মির্জা ফখরুল   উজবেকিস্তান পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি   মোহাম্মদ বিন সালমানের বোন ফ্রান্সে বিচারের মুখোমুখি   ‘ইমরান খান ধর্মের প্রতি আন্তরিক’   দুর্নীতি ও অর্থ পাচার নিয়ে সংসদে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ   প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাবুনগরীর প্রতিবাদ   চট্টগ্রামে ১০ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশের এসআই আটক   নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন ক্রাইস্টচার্চে হামলাকারী   ওমান উপসাগরে ট্যাংকারে হামলায় ইরান দায়ী: মার্কিন সামরিক বাহিনী   আবারও সৌদি বিমানবন্দরে হুতিদের হামলা   ঋণনির্ভর বাজেট জনগণের পকেট কাটবে: ফখরুল   প্রয়োজনেই বড় বাজেট: প্রধানমন্ত্রী

মূল পাতা   >>   স্বদেশ

ওসি মোয়াজ্জেম এখন কোথায়

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৬-০৯ ১৫:২১:১৭

নিউজ ডেস্ক: চাঞ্চল্যকর মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিতর্কিত নোয়াখালীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন এখন কোথায়? তিনি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে পালিয়েছেন!

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই পালিয়ে যাওয়ার খবরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বিভিন্ন মহলে। শুধু তাই নয়, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর পক্ষ থেকেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচিত সোনাগাজী থানার ওসির পালিয়ে যাওয়ার খবর আইনের শাসনের জন্য অশনিসংকেত। ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত এপ্রিল মাসে মামলা দায়ের করা হয়।

গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে এই মামলা করেন আইনজীবী সায়েদুল হক সুমন। শুনানি শেষে সাইবার ট্রাইব্যুনাল ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে থানায় ডেকে নুসরাতের জবানবন্দি নিয়ে আইন অমান্য করেছেন মোয়াজ্জেম বলে দাবি করেন আইনজীবী সায়েদুল।

নুসরাতের জবানবন্দির ভিডিও ধারণ করেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬ ধারা লঙ্ঘন করেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন। আদালতে এই বিষয়টি নজরে আনা হয়। সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি যৌনহয়রানির অভিযোগ করতে গিয়ে সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে আরেক দফা হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল।

ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করতে করতেই নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় সোনাগাজী মডেল থানার ওসি (প্রত্যাহার) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গত মে মাসের শেষের দিকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার তদন্ত শেষে প্রতিবেদন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন পিবিআই সদর দপ্তরের সিনিয়র এএসপি রিমা সুলতানা। এরপর গত ২৭ মে তার বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর আগে তাকে রংপুরে বদলি করা হলেও তিনি তার কর্মস্থলে যোগদান করেননি বলে জানা গেছে।

এদিকে ওসি মোয়াজ্জেমের পলাতক সংবাদের পর টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বলছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সাবেক ওসির বিরুদ্ধে গত ২৭ মে পরোয়ানা জারির পর তা ফেনীর পুলিশ সুপার কার্যালয় হয়ে রংপুর রেঞ্জে পৌঁছাতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় লেগে যায়।

এখন আবার রংপুর রেঞ্জ বলছে, কাজটি বিধি মোতাবেক হয়নি। এই সুযোগে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ‘পালিয়ে’ গেছেন বলে বলা হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে যেখানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া আটক করাই স্বাভাবিক, সেখানে বহুল আলোচিত একটি মামলার ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে এ ধরনের দৃশ্যমান ব্যর্থতার ফলে যৌক্তিকভাবেই নুসরাত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে পুলিশের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে পুলিশ কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছে টিআইবি।

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আবারো বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দেশে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা গভীরতম উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এমন অবস্থায় পুলিশ বাহিনীর কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ভূলুণ্ঠিত হবে। তাই ওসি মোয়াজ্জেমকে দ্রুত আটক করে বিচারের মুখোমুখি করার পাশাপাশি নুসরাতের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের বিকল্প নেই।

অপরদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ওসি মোয়াজ্জেম যতটুকু অপরাধ করেছেন সেই অপরাধের শাস্তি তাকে পেতেই হবে। নুসরাত হত্যায় কেউ ছাড় পাবে না, সে যে-ই হোক। যেহেতু তিনি পলাতক তাই তাকে খুঁজে পেতে একটু সময় লাগছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

গতকাল রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন। গত ৬ এপ্রিল মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সে মারা যায়।

এ ঘটনার ১০ দিন আগে নুসরাত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌনহয়রানির অভিযোগ করতে সোনাগাজী থানায় যায়। ওই সময় থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্র্রত করেন এবং তা ভিডিও করে ছড়িয়ে দেন।

ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তার তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই গত ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ওই দিনই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর থেকেই ওসি মোয়াজ্জেম পলাতক রয়েছেন।

পরোয়ানা জারির দুদিন পর মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। আবেদনের শুনানি আগামীকাল ১১ জুন হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেপ্তার হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ ও নারী নেত্রীদের প্রশ্ন চাঞ্চল্যকর মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত খুনে জড়িত ওসি মোয়াজ্জেম এখন কোথায়?

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ২৪ বার

আপনার মন্তব্য